কীর্তনখোলায় যমুনার তেলবাহী শিপের ইঞ্জিন রুমে ভয়াবহ আগুন ॥ দগ্ধ-৫

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ কীর্তনখোলা নদীতে নোঙ্গর করে রাখা যমুনা পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের জ্বালানী তেলবাহী এমটি এ্যাঙ্করেজ নামক একটি জাহাজে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে জাহাজে থাকা ৫ জন অগ্নিদগ্ধ এবং ইঞ্জিন রুমে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত ৯টার দিকে কীর্তনখোলার চরকাউয়া খেয়াঘাট সংলগ্ন নদীতে এই ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিসের নৌ এবং স্থল শাখার দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে জাহাজে থাকা তেলের কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক মো. আবুল হোসেন খান। তাছাড়া আহতদের বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহতরা হলো- এমটি এ্যাংকরেজ এর শিপ ড্রাইভার শহীদুল ইসলাম, হুমায়ুন কবির, গ্রিজার নাজমুল হোসেন, আবু সুফিয়ান এবং বাবুর্চি সানাউল্লাহ। এদের মধ্যে আবু সুফিয়ান ও সানাউল্লাহ বাদে বাকি তিনজনের অবস্থা আশংকাজনক। তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাবার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক।
প্রত্যক্ষদর্শী এমটি এ্যাংকরেজ জাহাজ এর ব্যাগটেন্ডল কাইয়ুম হোসেন জানান, গত ১৫ ফেব্রুয়ারী চট্টগ্রামের পতেঙ্গার গুপ্তখাল সেন্ট্রাল ডিপো থেকে সাড়ে ১০ লাখ লিটার পেট্রোল এবং ডিজেল নিয়ে বরিশালের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। এসময় জাহাজে মোট ১৪ জন স্টাফ ছিলো। ১৬ ফেব্রুয়ারী বরিশাল নগরীর কীর্তনখোল নাদীতে পৌছলেও নগরীর যমুনা ডিপোতে তেল লোড থাকায় শিপে থাকা তেল আনলোড করা সম্ভব হয়নি। ফলে ১৬ ফেব্রুয়ারী থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত কীর্তনখোলা নদীর চরকাউয়া খেয়াঘাট সংলগ্ন নদীতে তেল বোঝাই জাহাজটি নোঙ্গর করা ছিলো।
কাইয়ুম হোসেন আরো বলেন, গতকাল শনিবার রাতে জাহাজেন তেল আনলোড করার কথা ছিলো। সে অনুযায়ী যমুনা ডিপোতে পৌছাবার জন্য জাহাজ চালু করেন। ঠিক সেই মুহুর্তে জাহাজের ইঞ্জিন রুমের গ্যাস সিলিন্ডার বিকট শব্দে বিষ্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। মুহুর্তের মধ্যে আগুন ইঞ্জিন রুমের সর্বত্র ছড়িয়ে পড়লে ভেতরে থাকা বাবুর্চি সহ ৫ জন গুরুতর দগ্ধ হন। পরে তাদেরকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করে দেন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। এদিকে খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর নৌ স্টেশনের ‘অগ্নিঘাতক’ এবং স্থল স্টেশনের আরো একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনে। ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পায় তেলবাহী জাহাজটি।
ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স এর বরিশাল কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবুল হোসেন খান বলেন, খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনার পাশাপাশি আহতের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েছি। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে আগুন নিয়ন্ত্রনে আনতে সক্ষম হওয়ায় জাহাজের ভেতরে থাকা ডিজেল এবং পেট্রোল এর কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। অবশ্য ইঞ্জিন এবং শিপের ক্ষয়ক্ষতি হলেও তা এখনই নির্নয় করা সম্ভব নয়।
আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে তিনি বলেন, প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী জাহাজের ইঞ্জিন স্ট্রাট করা মাত্রই ইঞ্জিন রুমে ইঞ্জিন পরিচালনায় সহায়তাকারী গ্যাস সিলিন্ডারটি বিকট শব্দে বিষ্ফোরন ঘটে আগুন ধরে যায়। এই ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে আগুনের প্রকৃত সূত্রপাত এবং ক্ষয়ক্ষতি নির্ণয় করা হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী কোতয়ালী মডেল থানার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান বলেন, অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ তেলের জাহাজটি ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক জাহাজ ‘অগ্নিঘাতক’ এবং অপর একটি তেলের জাহাজের সহায়তায় টেনে যমুনা ডিপোর ঘাটে নোঙ্গর করা হয়েছে। তাছাড়া আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশংকা জনক বিধায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিয়ে যাবার জন্য শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন সহকারী কমিশনার আসাদুজ্জামান।