কীর্তনখোলায় জালে উঠে আসলো অচেতন নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নদীতে জালে মাছ উঠবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এবার মাছ নয়, জেলের জালে উঠে এসেছে ডুবে থাকা এক অচেতন নারী। এ নিয়ে গোটা জেলে পাড়ায় হইচই পড়ে গেছে। ঘটনাটি গতকাল বুধবার বিকালের দিকে সদর উপজেলার চরমোনাই এলাকায় কীর্তনখোলা নদীতে ঘটেছে। জেলেদের মাছ ধরা জালে অচেতন অবস্থায় ভেসে ওঠা আসা ওই নারীর নাম প্রিয়া আক্তার রুমা (২৫)। সে বরগুনার বামনা উপজেলার রামনা গ্রামের আবুল কালাম ও রওশন আরা বেগম দম্পত্তির কন্যা। তিনি নারায়নগঞ্জ’র ফতুল্লায় বসবাস করতেন। সেখানকার ম্যাপল গার্মেন্টস এর কিউইউ পদে কর্মরত ছিলেন বলেন বলে জানিয়েছেন ওই নারী। তাকে উদ্ধারকারী কোতয়ালী মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) রেজাউল করিম জানান, মোবাইল ডিউটিতে থাকাকালীন থানার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে কাউনিয়া থানাধীন বেলতলা খেয়াঘাট থেকে অজ্ঞাত পরিচয়ে ওই নারীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে দেন। প্রত্যক্ষদর্শী জেলেদের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, বিকালের দিকে জেলেরা কীর্তনখোলা নদীর চরমোনাই পয়েন্টে জাল ফেলে মাছ ধরছিলেন। এসময় জালে সাথে অজ্ঞাত ওই নারী ভেসে ওঠে। প্রথমে তারা ওই নারীকে মৃত ভাবলেও পরে জীবিত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশকে সংবাদ দেয়। পরে অজ্ঞাত ওই নারীকে জেলেরা বেলতলা খেয়াঘাটে নিয়ে আসলে কোতয়ালী পুলিশ সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।
এএসআই রেজাউল করিম বলেন, কোথা থেকে কি ভাবে ওই নারী আসলো তা এখনো জানা যায়নি। তবে হাসপাতালে ভর্তির পরে রাত ৮টার দিকে তার জ্ঞান ফিরে আসলে চিকিৎসকরা ওই নারীর কাছে তার নাম পরিচয় জানতে চেয়েছিলো। কিন্তু তিনি কোন কথা বলতে না পারলেও হাত পা নড়াচড়া করেছে। সমস্যার কথা জিজ্ঞাসা করা হলে হাত দিয়ে কপাল চেপে ধরেন। এদিকে রাত ১১টার দিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নারী অনেকটা সুস্থ হয়ে নাম পরিচয় জানান। এসময় তিনি বলেন, দুই মাস পূর্বে গার্মেন্টেসর চাকুরী ছেড়ে দেন। গত মঙ্গলবার তিনি অজ্ঞাত এক তরুনীর সাথে লঞ্চে ওঠেন। তবে এর পরে কি হয়েছে সে সম্পর্কে কিছু বলতে পারছেন না প্রিয়া আক্তার রুমা নামের ওই নারী। তিনি কিভাবে নদীতে পড়লেন কেউ ফেলে দিয়েছে নাকি পড়ে গেছেন সে বিষয়ে কিছু মনে করতে পারছেন না। অবশ্য সে মানসিক ভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন বলে আবদুল্লাহপুরে এক চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন রুমা। এদিকে কোতয়ালী মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সত্য রঞ্জন খাসকেল বলেন, ওই নারীকে পুলিশী নিরাপত্তায় হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তিনি পুরোপুরি ভাবে সুস্থ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে রহস্য উদঘাটন করা হবে।