কীর্তনখোলার তীরে হচ্ছে পর্যটন মোটেল ও প্রশিক্ষন কেন্দ্র ॥ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও নৌ পরিবহন মন্ত্রী মোঃ শাহজাহান খানের আন্তরিকতায় অবশেষে বরিশাল বিভাগীয় শহরে পর্যটন করপোরেশনের অত্যাধুনিক মোটেল সহ একটি প্রশিক্ষন কেন্দ্র স্থাপিত হতে যাচ্ছে। এর ফলে দেশের একমাত্র বিভাগীয় সদর বরিশালে সরকারী পর্যটন সুবিধা সম্প্রসারন সহ পর্যটকদের আবাসন সংকটের সমাধান হবে। পাশাপাশি বরিশাল স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক মানের ক্রিকেট ভেনু স্থাপনের সব বাধাও অপসারন হবে।
মোটেল স্থাপনে প্রয়োজনীয় জমি হস্তান্তরে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পরে গতকাল বিআইডব্লিউটিএ ভবনে এ লক্ষে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কতৃপক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। চূক্তি অনুযায়ী, বরিশালে একটি পর্যটন মোটেল এবং পর্যটন প্রশিক্ষন কেন্দ্র স্থাপনে বিআইডব্লিউটিএ পর্যটন কর্পোরেশনকে এক একর জমি ‘লাইসেন্স প্রদত্ত সম্পত্তি’ হিসাবে প্রদান করবে। বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর এম মোজাম্মেল হক-বিএন এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান আখতারুজামান খান কবির নিজ নিজ পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন। এসময় নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তি অনুযায়ী বরিশালে বিআইডব্লিউটিএ’র অবলুপ্ত মেরিন ওয়ার্কসপের নদী তীর প্রান্তের উত্তরÑপশ্চিম কোনে এক একর সম্পত্তি ব্যবহারে পর্যটন করপোরেশনকে ৩০ বছর মেয়াদী লাইসেন্স প্রদান করা হবে। এ জমি বাবদ পর্যটন করপোরেশন বিআইডব্লিউটিএ বরাবরে ৫ লাখ টাকার জামানত প্রদান ছাড়াও প্রতি বছর আড়াই লাখ টাকা করে লাইসেন্স ফি প্রদান করবে । যা প্রতি বছর ২শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাবে। ৩০ বছর পরে উভয় পক্ষের সম্মতিতে চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হবে।
পর্যটন করপোরেশন উল্লেখিত এক একর জমিতে একটি আন্তর্জাতিকমানের মোটেল সহ পর্যটন প্রশিক্ষন কেন্দ্র স্থাপন করবে। যা হবে এ খাতে দেশের দ্বিতীয় প্রশিক্ষন কেন্দ্র।
পর্যটন করপোরেশন বরিশালে একটি মোটেল ও প্রশিক্ষন কেন্দ্র স্থাপনের লক্ষে ইতোমধ্যে ‘উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা-ডিপিপি’ প্রস্তুত করে মন্ত্রনালয়ে জমা দিয়েছে। প্রকল্পটি মন্ত্রনালয়ের অনুমোদন শেষে পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরন করা হবে। প্রকল্প-প্রস্তাবটি একনেক’এর অনুমোদন পেলে এখানে বাস্তব অবকাঠামো নির্মান কাজ শুরু হবে বলে জানা গেছে।
জমির অভাবেই পুরো বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশের আলোকে বিষয়টি ফয়সালা হওয়ায় বরিশালে পর্যটন মোটেল স্থাপনের একটি বড় বাঁধা দুর হল বলে মনে করছেন দায়িত্বশীল মহল। গত প্রায় তিন বছর ধরে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বরিশালে পর্যটন মোটেল স্থাপনে নানামুখি তৎপরতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি বিষয়টি নিয়ে সরকার প্রধানের দিক নির্দেশনা প্রদানের প্রেক্ষিতেই প্রকল্পটি বাস্তব রূপ লাভ করতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন ওয়াকিবাহাল মহল। নৌ পরিবহন মন্ত্রীও এব্যাপারে যথেষ্ট গঠনমূলক ভূমিকা পালন করেছেন বলে জানিয়েছেন পর্যটন করপোরেশনের দায়িত্বশীল মহল।