কীর্তনখোলায় ডুবে নষ্ট হচ্ছে মামলার আলামত ট্রলার

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কীর্তনখোলায় ডুবে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মামলার আলামত। এক বছর পূর্বে চোরাই সুন্দরীৗ কাঠ আটকের পর আলামত হিসেবে জব্দ হওয়া চার লক্ষাধিক টাকা মূল্যের মাছ ধরা ট্রলার অন্যের জিম্মায় দিয়ে আদৌ তার খোঁজ নেয়নি পুলিশ। ফলে আলামত জিম্মায় নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা কালাম শরীফ।
জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২৫ আগষ্ট বিপুল পরিমান সুন্দরী কাঠ সহ একটি মাছ ধরা ট্রলার জব্দ করে কাউনিয়া থানা পুলিশ। ঐ ঘটনায় কাউনিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং-১২।
এদিকে মামলার আলামত হিসেবে জব্দ হওয়া চার লক্ষ ১৪ হাজার টাকা মূল্যের একটি মাছ ধরা ট্রলার কীর্তনখোলা নদীতে ষ্টিমারঘাটে পন্টুন এর পাশে রাখে ভাটারখালের বাসিন্দা মোঃ কামাল শরীফ এর জিম্মায় রেখে আসে থানা পুলিশ। কিন্তু এর পরে মামলার আলামত হিসেবে অন্যের জিম্মায় রেখে আসা ট্রলারের আদৌ খোঁজ নেয়নি কাউনিয়া থানা পুলিশ।
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে কালাম শরিফ বলেন, যখন ট্রলারটি আটক করে তার জিম্মায় দেয়া হয়েছিলো তখন ট্রলারটি অনেকটা নতুন ছিলো। ঐ ট্রলারে ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি সেলো মেশিন, ৪ হাজার টাকা মূল্যের একটি নোঙ্গর রাখা হয়। ৬৪ হাজার টাকা মূল্যের এসব মালামাল কালাম শরিফ এর কাছেই রাখা হয়েছে। কিন্তু নদীতে ভাসমান অবস্থায় রাখা ৪৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৮ ফুট প্রস্থ’র সাড়ে তিন লক্ষ টাকা মূল্যের বোটটি এখন একেবারেই নষ্ট হওয়ার পথে। কালাম শরিফ বলেন, বোর্টটির বিশাল অংশ ইতোমধ্যে পানির নিচে ডুবে গেছে। একটা সময় মামলার এ আলামতের আর চিহ্ন থাকবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, কাউনিয়া থানা পুলিশ আটকের পরে যে অবস্থায় ট্রলারটি রেখে গেছে সেই অবস্থাতিই এখনো রয়েছে। জিম্মায় দিয়ে যাওয়ার পর এখন পর্যন্ত একবারের জন্যও ট্রলারটির খোঁজ নিতে আসেনি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বা অন্যান্য কর্মকর্তারা। পুলিশের সুষ্ঠু তদারকী এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই ট্রলারটি প্রায় ্ধ্বংসের চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে এসেছে। আলামতটি রক্ষায় এখনই ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানান কালাম শরিফ।