কিশোরী বধূকে নির্যাতনে কাউনিয়া থানার এসআই ক্লোজ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ স্কুল ছাত্রী বধূকে নির্যাতনের পর তালাবদ্ধ করে রাখার অভিযোগে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত (ক্লোজ) করা হয়েছে কাউনিয়া থানার এসআই মো. ওয়ারেছকে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন ওসি কাজী মাহবুবুর রহমান। তিনি জানান, পারিবারিক সমস্যা নিয়ে মানবধিকার সংস্থার মাতামাতিতে তাকে সংযুক্ত করা হয়েছে।
কিন্তু অপ্রাপ্তবয়স স্কুল ছাত্রীকে অভিনব কায়দায় বিয়ে করে দীর্ঘদিন অমানসিক নির্যাতন করার পর তালাবদ্ধ অবস্থা থেকে পুলিশের সহায়তা উদ্ধার করে সাংবাদিক ও বাংলাদেশ মহিলা আইনজীবি সমিতি ও আইন সহায়তা কেন্দ্র।
জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির এসিস্ট্যান্ট মনিটরিং অফিসার মাসুক কামাল জানান, নগরীর আমানতগঞ্জ (পুলিশ ফাড়ী) কাউনিয়া থানার পাশের একটি ভবন থেকে তালাবদ্ধ অবস্থায় এসআই ওয়ারেছের হাতে নির্যাতিত স্ত্রী স্কুল ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে কিশোরী বধূকে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সামনে মায়ের হেফাজতে দেয়া হয়েছে। অসুস্থ কিশোরী বধূ সুস্থ হলে দুই একদিনের মধ্যে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সহায়তায় মামলা করা হবে বলে জানিয়েছেন মাসুক কামাল।
উদ্ধার হওয়া স্কুল ছাত্রী কিশোরী বধূ হাবিবা আক্তার মারুফা নগরীর কলেজ রো শের ই বাংলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণির ছাত্রী ছিলো। সে বন্দর থানার রাজার ব্রিজ এলাকার মাহামুদা বেগমের কন্যা।
আর এসআই ওয়ারেছ রংপুর সদর সাত চত্বর স্টেশন রোড সংলগ্ন স্থানীয় মৃত মোসলেম উদ্দিনের ছেলে। ১৯৯৪ সালে পুলিশের কনষ্টেবল পদে চাকুরিতে যোগদান করে। ২২ বছর পূর্বে তিনি সামাজিকভাবে একই এলাকার আসমা বেগমকে (১ম স্ত্রী) বিয়ে করে। বতর্মানে সংসারে রয়েছে ৩ ছেলে। তারা কলেজ ও স্কুলে পড়ে।
মাহামুদা বেগম বলেন, নতুন বাজার এলাকায় বিয়ে নিয়ে হৈ হুল্লার ঘটনায় বছর কয়েকপূর্বে সরেজমিনে যায় ওয়ারেছ। অবশেষে ওয়ারেছ নিজেই বর হয়ে উর্মি নামের এক মেয়েকে বিয়ে করে। পরবর্তীতে কি হয়েছে তা জানেনা তিনি। কিভাবে পরিচয় সম্পর্কে তা জানতে চাইলে মাহামুদা বলেন, তার স্বামী একাধিক বিয়ে করেছে। বর্তমানে ছোট বউকে নিয়ে নগরীর সিএন্ডবি রোড কাজীপাড়া হাওলাদার বাড়িতে বসবাস করে। স্বামীর সাথে সর্ম্পক নেই।
বাবার বাড়ি এলাকায় জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে মামলা হয়। সেই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে ওয়ারেছ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সুবাদে ঘনঘন তাদের বাড়িতে যাওয়া আসা করতো এসআই ওয়ারেছ। পারিবারিক খবর নিয়ে মাহামুদার মা রিজিয়া বেগমের কাছ থেকে স্কুল ছাত্রী হাবিবা আক্তার মারুফার বাবার ঠিকানা নেয়। পরে নানী ও বাবার সাথে যোগসাজসে মায়ের অজান্তে ৮ম শ্রেণির ছাত্রী হাবিবাকে ওয়ারেছের সাথে বিয়ে দেয়। এর পরে লেখাপড়ার পাশাপাশি হাবিবার সাথে পারিবারিক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। মাহামুদার অভিযোগ কিশোরী কন্যাকে আটকে এসআই ওয়ারেছ নির্যাতন করতো। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে মহিলা আইনজীবী সমিতির বিভাগীয় প্রধান ও এ্যাসিস্ট্যন্ট মনিটরিং অফিসার মাসুক কামাল আইনের সহযোগিতা নিয়ে খুঁজে বের করে তালবদ্ধ অবস্থায় থাকা স্কুল ছাত্রী হাবিবাকে উদ্ধার করে।