কিশোরী গৃহপরিচারিকা নির্যাতনে মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর রূপাতলী এলাকাধীন গাউছিয়া সড়কের বাড়িতে কিশোরী গৃহপরিচারিকাকে নির্মম ভাবে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার বরিশাল মেট্রো পলিটন কোতয়ালী মডেল থানায় মামলাটি রুজু হয়েছে। এর আগে গত রবিবার শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) থেকে মামলা গ্রহনের জন্য অভিযোগ কোতয়ালী থানায় প্রেরন করা হয়। কিন্তু আসামী পক্ষের নানা মুখি তদবির লবিং এর কারনে মামলা রুজু করতে বিলম্ব হয় পুলিশের।
এদিকে নির্যাতনের শিকার কিশোরী গৃহপরিচারিকা সাবিনা আক্তার (১১) বাদী হয়ে দায়েরকৃত মামলায় গৃহকর্তা রূপাতলীর গাউছিয়া সড়কের প্রভাবশালী মাছুম সিকদার এবং তার স্ত্রী শিমুল বেগমকে আসামী করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন।
তিনি জানান, ওসিসি থেকে মামলাটি থানায় প্রেরনের পর তারা বিষয়টি তদন্ত করেছেন। তিনি নিজেই ওসিসিতে গিয়ে কিশোরীর শারীরিক নির্যাতনের বিষয়টি প্রত্যক্ষ করার পাশাপাশি আঘাত প্রাপ্ত স্থানের ছবি তুলেছেন। এছাড়াও গতকাল মঙ্গলবার বরিশাল মেট্রো পলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. গোলাম আব্দুর রউফ ওসিসিতে গিয়ে নির্যাতিত কিশোরী গৃহপরিচারিকা সাবিনা আক্তার’র খোঁজ খবর এবং তার জবানবন্ধি নিয়েছেন। সর্বশেষে গতকাল মঙ্গলবার মামলাটি রেকর্ড করেছেন থানা পুলিশ। এই মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে উপ-পরিদর্শক (এসআই) তানজিলকে।
এদিকে থানার একাধিক সূত্র জানায়, কিশোরীকে নির্যাতনের পর হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তির পর থেকেই বিষয়টি ধামা চাপা দিতে উঠে পড়ে লাগে নির্যাতনকারী গৃহকর্তা মাছুম আহম্মেদ ও তার স্ত্রী শিমুল বেগম সহ তাদের সহযোগিরা। তারা বিভিন্ন সময় অনাধিকারে ওসিসিতে প্রবেশ করে কিশোরীর পরিবারকে বিষয়টি সমঝোতার প্রস্তাব দেন। এমনকি জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দকেও অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন মাছুম।
শুধু তাই নয়, ওসিসি থেকে মামলাটি থানায় প্রেরনের পর বিভিন্ন মহল থেকে মামলা নেয়ার জন্য থানা পুলিশের কাছে তদবির লবিং চালায়। যে কারনে বিভিন্ন দিক থেকে চাপের মুখে পড়ে মামলটি গ্রহন করতে সময় লেগে যায় থানা পুলিশের। শেষ পর্যন্ত মট্রো পলিটন পুলিশের উপরস্থ কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ এবং জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির জোড়ালো ভূমিকার কারনে তদবির লবিং চালিয়েও ব্যর্থ হন নির্যাতনকারী গৃহকর্তা মাছুম সিকদার ও তার স্ত্রী শিমুল বেগম সহ তাদের সহযোগিরা।
উল্লেখ্য, নগরীর সাগরদী এলাকাধিন কাউছিয়া সড়কের বাসিন্দা মাসুম সিকদার’র বাসায় গত ৫ বছর যাবত গৃহপরিচারিকার কাজ করে আসছিলো বাকেরগঞ্জের বাংলাবাজার গ্রামের বাদশা খলিফার মেয়ে সাবিনা। শিশু বয়সে পুড়ে যাওয়া সাবিনার পেটের অপারেশনের কথা বলে বিনা বেতনে গৃহ পরিচারিকার কাজ করায় মাসুম ও তার স্ত্রী শিমুল বেগম। কিন্তা চিকিৎসা না করিয়ে কিশোরীর উপর অমানষিক নির্যাতন চালায় মাসুম ও তার স্ত্রী শিমুল। এর পরিপ্রেক্ষিতে কিছুদিন পূর্বে সাবিনার পিটিয়ে গরম খুনতির ছেকা, সারা শরীরে কাটা চামুচের কোপ এবং বিভিন্ন স্থানে কামড়িয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এর চার দিন পর সাবিনাকে তার মা রাহিমা বেগম স্ট্যাম্পে সই দিয়ে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।