কিশোরী গৃহপরিচারিকাকে নির্যাতন ধামাচাপা দিতে মরিয়া গৃহকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ কিশোরী গৃহপরিচারিকাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতনের ঘটনা ধামা চাপা দিতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে নির্যাতনকারী মাসুম সিকদার এবং তার স্ত্রী শিমুল বেগম। বুধবার বিষয়টি জানাজানি হলে মিডিয়া, নির্যাতিতা কিশোরীর বাবা-মা এমনকি জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করতে দৌড়ঝাপ করে। এছাড়া গতকাল বৃহস্পতিবার হাসপাতালের ওসিসিতে অনুপ্রবেশ করে নির্যাতিতার গরিব মা এবং বাবাকে অর্থের প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ উঠেছে মাসুম সিকদারের বিরুদ্ধে।
ওসিসি’র একাধিক সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যায় গৃহপরিচারিকা সাবিনা আক্তার (১১) কে মুমূর্ষু অবস্থায় শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালের আইন সহায়তা কেন্দ্র ওসিসিতে ভর্তি করে দেয়। রাতে সেই থেকেই নির্যাতনকারী নগরীর রূপাতলী গাউছিয়া সড়কের বাসিন্দা মান্নান সিকদারের ছেলে মাসুম সিকদার এবং তার এক সহযোগিকে নিয়ে কিশোরীর পরিবারের উপর প্রভাব বিস্তার করে। পরবর্তীতে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত মাসুম সিকদার এবং তার এক সহযোগী ওসিসিতে অনুপ্রবেশ করে কিশোরীর মা ও বাবাকে প্রভাবিত করে। বলে তাদের মেয়ের শরীরে যে রোগ আছে তা অপারেশন করানোর পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিপূরনের প্রলোভন দেখায় বলেও অভিযোগ উঠেছে মাসুম সিকদারের বিরুদ্ধে।
এদিকে নির্যাতনকারীদের ঘটনা ধমা চাপা দেয়ার চেষ্টার পাশাপাশি ওসিসিতে প্রবেশ ভয়ভিতির প্রদর্শনের সংবাদ শুনে গতকাল বিকালে পূনরায় গৃহ পরিচারিকা কিশোরীর খোঁজ খবর নেন জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির বিভাগীয় প্রধান এ্যাড. মুনিরা বেগম।
তিনি জানান, কিশোরীর মা এবং বাবার মধ্যে সম্পর্ক নেই। তাই নির্যাতনকারীদের দেখানো প্রলোভনে কিশোরীর বাবা কিছুটা সম্মতি প্রকাশ করেছে। তবে মা সাবিনা বেগম তার মেয়েকে নির্যাতনের বিচার চাচ্ছেন। কিন্তু তিনি তার মেয়ের শরীরে পুড়ে যায়া স্থানে অস্ত্রপচার এবং চিকিৎসার অর্থ বহনের বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
মুনিরা বেগম জানান, মাসুম সিকদার এবং তার স্ত্রী শিমুল বেগম কিশোরীর প্রতি যে বরবর নির্যাতন চালিয়ে তাতে কোন ভাবেই বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় না গিয়ে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই তিনি বিষয়টি নিয়ে ঢাকায় কথা বলবেন এবং কিশোরীকে আইনী সহায়তার পাশাপাশি চিকিৎসা সহায়তা প্রদানেরও ব্যবস্থা করবেন।
মুনিরা বেগম অভিযোগ করে বলেন, নির্যাতনকারী মাসুম সিকদার তাকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি নিয়ে সামনের দিকে না এগিয়ে সালিস মিমাংশা করে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে। এমনকি মুঠো ফোনে কলদিয়ে আমার সাথে দেখা করার প্রলোভনও দেয়ায় মাসুম। শুধু তাই নয়, নির্যাতনকারী মাসুম সিকদার জাতীয় মহিলা আইনজীবী সতিমিকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করবে বলেও চারদিকে গুঞ্জন ছড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন এ্যাড. মুনিরা বেগম।
তিনি বলেন, এই ঘটনাটি মিমাংসা যোগ্য নয়। তাই প্রয়োজনে আমরা জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি বাদী হয়ে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা করব। আগামী রবিবারের মধ্যে এ বিষয়ে একটি সুষ্ঠু সমাধান এবং সিদ্ধান্তে পৌছাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, নগরীর সাগরদী এলাকাধিন কাউছিয়া সড়কের বাসিন্দা মাসুম সিকদার’র বাসায় গত ৫ বছর যাবত গৃহপরিচারিকার কাজ করে আসছিলো বাকেরগঞ্জের বাংলাবাজার গ্রামের বাদশা খলিফার মেয়ে সাবিনা। শিশু বয়সে পুড়ে যাওয়া সাবিনার পেটের অপারেশনের কথা বলে বিনা বেতনে গৃহ পরিচারিকার কাজ করায় মাসুম ও তার স্ত্রী শিমুল বেগম। কিন্তা চিকিৎসা না করিয়ে কিশোরীর উপর অমানষিক নির্যাতন চালায় মাসুম ও তার স্ত্রী শিমুল। এর পরিপ্রেক্ষিতে কিছুদিন পূর্বে সাবিনার পিটিয়ে গরম খুনতির ছেকা, সারা শরীরে কাটা চামুচের কোপ এবং বিভিন্ন স্থানে কামড়িয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এর চার দিন পর সাবিনাকে তার মা রাহিমা বেগম স্ট্যাম্পে সই দিয়ে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়।