কিংবদন্তি কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ সম্মাননা পেলেন দুই জেষ্ঠ্য সাংবাদিক

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বে-সামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন বলেন, কিংবদন্তি কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ শুধু কবিই ছিলো না। তিনি ছিলেন একজন বিচক্ষন এবং অসামান্য মানব। তিনি তার কবিতার মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলতেন দারিদ্র, জননী ও নি¤œবৃত্ত মানুষের কথা। তার অবদান কখনই ভোলারমত নয়।
গতকাল শনিবার বরিশাল জেলা প্রশাসন আয়োজিত কিংবদন্তি কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ স্মরন উৎসব ও দু’জন গুনিজন সম্মাননা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন-এমপি এসব কথা বলেন।
বিকাল ৪টায় নগরীর সদর রোডের অশ্বিনী কুমার হল প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত কবির স্মরন উৎসবের আয়োজক বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলম’র প্রতি কৃতজ্ঞা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন- আজকাল কবিদের নিয়ে তেমন চর্চা করা হয় না। বরিশালের মাটিতে শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, দার্শনিক আরজ আলী মাতুব্বর, কবি সুফিয়া কামাল, জীবনানন্দ দাস, কামিনি রায়, সুফিয়া কামালের মত বিখ্যাত কবিরা জন্ম নিয়েছেন। এজন্য আমরা গর্বিত। তাদের অনুসরন করেই আগামীর দিন চলা উচিৎ।
বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন আরো বলেন- কিংবদন্তি কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ জীবদ্দশায় তিনি ছিলেন একজন দক্ষ প্রশাসক। কৃষি এবং অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষকও ছিলেন তিনি। বরিশাল কৃষ্টি ইনস্টিটিউট সহ বহু স্থাপনা রয়েছে যা তারই অবদান। তাই এই কিংবদন্তি কবি আমাদের সকলের শ্রদ্ধাভরে স্মরন করা উচিৎ। পাশাপাশি বরিশালের জাদুঘরে কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ’র জন্য একটি কক্ষ রাখার জন্যও অনুরোধ জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে সচিব ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, কিংবদন্তি কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ’র সাথে আমি কর্মজীবনের অনেকটা সময় পার করেছি। তার চলাফেরা এবং জীবন যাপনের পদ্ধতি ছিলো একেবারেই সাধারন। তিনি অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধশিল থাকা সত্যেও কাউকে ছোট করে দেখেননি। যার ফলে সাধারন মানুষের থেকেও অসাধারন হয়ে ওঠেন তিনি।
ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাস বলেন, কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহকে নিয়ে এর পূর্বে এমন আয়োজন তার চোখে পরেনি। শুধু মাত্র প্রথম বারের মত বরিশাল জেলা প্রশাসক ও কবি মো. শহীদুল আলম তাকে নিয়ে এমন আয়োজন করে সকলকে কৃতজ্ঞ করেছেন। জেলা প্রশাসক শহীদুল আলম’র ন্যায় সবার উচিৎ কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর স্মৃতি চারন করা।
আলোচনা সভার পূর্বে লাল ফিতা কেটে কবির স্মরন উৎসবের উদ্বোধন করেন বে-সামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল আলম’র সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার মো. গাউস।
প্রবীন সাংকৃতিক ব্যক্তিত্ব এ্যাড. এসএম ইকবাল এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রয়াত কবির জীবনি নিয়ে আলোচনা করেন বরিশাল-৩ আসনের সাংসদ এ্যাড. শেখ মো. টিপু সুলতারন, প্রবীন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এ্যাড. মানবেন্দ্র বটব্যাল, কবি আসমা চৌধুরী, তপংকর চক্রবর্তী, সাংস্কৃতিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি এ্যাড. শান্তি দাস।
অনুষ্ঠানে বরিশালের দু’জন গুনিজনকে দেয়া হয়েছে কিংবদন্তি কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ সম্মাননা। এরা হলেন বরিশালের প্রবীন সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও আইনজীবী এ্যাড. এসএম ইকবাল ও এ্যাড. মানবেন্দ্র বটব্যাল। এই দুই গুনি ব্যক্তি দেশ এবং জাতীর স্বার্থে সর্বদা কাজ করে চলেছেন। গতকাল আলোচনা সভা শেষে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন ও সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ের সচিব ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাস এই দুই গুনি ব্যক্তির হাতে সম্মাননা পদক ও কবির লেখা বই তুলে দেন।
আলোচনা ও সম্মাননা প্রদান শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ও কবিতা আবৃত্তি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহনকারী শিশুদের সনদপত্র বিতরন করা হয়।