কাশিপুর ইউপির চেয়ারম্যান নুর ইসলাম আ’লীগে প্রার্থী হতে নতুন মিশনে নেমেছে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ কাশিপুরের ইউপি’র নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থী হতে আবারো পরিবর্তনের ধারা অব্যাহত রেখেছে বির্তকিত ও সুবিধাবাদী বর্তমান চেয়ারম্যান নুর ইসলাম। বিএনপি থেকে জাতীয় পার্টিতে আসা নুর ইসলাম সাবেক মেয়র প্রয়াত শওকত হোসেন হিরনের হাত ধরে যোগ দেয় আ’লীগে। হিরনপন্থী নেতা হিসেবে কুট কৌশলে গতবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়া নুর ইসলাম এবারে দলীয় মনোনয়ন পেতে এখন সাদিকপন্থী নেতা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সূত্র জানায়, প্রয়াত শওকত হোসেন হিরনের আস্থাভাজন হওয়ায় গত নির্বাচনে তৃতীয় হয়েও গভীর রাতের কুট-কৌশলে ঘোষণার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়। লাকুটিয়া বাজারের মুদি দোকানদের নুর ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই আলাদিনের চেরাগ পায় ! তা না হলে গত ৫ বছরের মধ্যে কয়েক কোটি টাকা ও সম্পদের মালিক হয় কিভাবে? এমন আশ্চর্য ও প্রশ্ন কাশিপুরবাসীর বলে কয়েকজন জানিয়েছেন। অপর একজন বললেন, চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েই নয়, সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুর পরেও পেয়েছেন আরেকটি আশ্চর্য প্রদীপ। চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ট এক সূত্র জানিয়েছে, সাবেক মেয়র প্রয়াত মেয়র হিরনের ঘনিষ্ট ও আস্থাভাজন ছিল নুর ইসলাম। এই জন্য প্রয়াত হিরন নিজের নামে না করে নুর ইসলামের নামে করেন। এছাড়াও ওই নেতার দেশের বিভিন্ন জেলায় ঠিকাদারী কাজ নুর ইসলামের মাধ্যমে সম্পন্ন করতেন। সকল কিছু সে দিলেও শুধু তদারকি করে নুর ইসলাম একটি অংশ পেত। এসব কাজ সম্পন্ন করতে প্রয়াত হিরন নগদ ২১ কোটি টাকা নুর ইসলামকে দিয়েছেন। তার মৃত্যুর পর সব কিছু আত্মসাতের পরিকল্পনা করে নুর ইসলাম। কিন্তু প্রয়াত নেতার স্ত্রী বর্তমানে সদর আসনের সাংসদ জেবুন্নেছা আফরোজের কারণে সবকিছু আত্মসাতের পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। পুরোপুরি ব্যর্থ হলেও মোটা অংকের টাকা আত্মসাতে সফল হয়েছে নুর ইসলাম। প্রয়াত শওকত হোসেন হিরন ও তার পরিবারের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে নুর ইসলাম আবারো ইউপি চেয়ারম্যান হতে ও স্বার্থ হাসিলের জন্য নতুন মিশন শুরু করে। এতে সফল হয়েছেও বলে সূত্র জানিয়েছে, এখন নুর ইসলাম আ’লীগের মহানগরের নেতা সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর লোক হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেয়। তার আস্থা ও ঘনিষ্টভাজন হওয়ার সব রকম চেষ্টা করছে বলে সূত্রটি জানিয়েছেন। এরমধ্যে কিছু কিছু সফল হওয়ায় ৯ ওয়ার্ডের আ’লীগ সভাপতি সম্পাদকরা না চাইলেও ইউপি শাখা আ’লীগের সভাপতি বনে গিয়েছে। এখানেও নির্বাচনের মতো ঘোষিত সভাপতি হয়েছে নুর ইসলাম। এভাবে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর মাধ্যমে বাগিয়ে নেয়ার মিশনে রয়েছে। চেয়ারম্যান থাকাকালীন প্রয়াত মেয়র ও সদরের সাংসদ জেবুন্নেছা আফরোজ এমপির নির্দেশে র‌্যাব-পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে ওই ৯ ওয়ার্ড কমিটি করেছিল সে। প্রতিপক্ষের কোন নেতা কর্মী যেন কমিটিতে আসতে না পারে সেই জন্য র‌্যাব-পুলিশের মাধ্যমে নির্যাতন ও হয়রানি করে নুর ইসলাম। নানা বিতর্কিত কর্মকান্ড করে এলাকাবাসীর রোষানলে পড়া ছাড়াও তার বিরুদ্ধে ঝাড়– মিছিল করে। নানা অপকর্মে ৯ ওয়ার্ডের নেতা কর্মীরা কেউ তার সাথে না থাকায় এখন তৃনমূলের মতামত না নিয়ে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নের চেষ্টা করছে। বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে ইউপির জন্য বরাদ্দ হওয়া সিংহভাগ আত্মসাত করেছে নুর ইসলাম। একবারে সে ৮২ লাখ টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে আত্মসাত করেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, গত নির্বাচনে নুর ইসলাম তৃতীয় হয়। ২৭৭ ভোটের ব্যবধানে আগের চেয়ারম্যান হোসেন সিকদার নির্বাচন অফিসে এসে পরাজয় মেনে নিয়ে জলকাদের মোল্লার ছেলে লিটন মোল্লার কাছে পরাজয় মেনে নেয়। কিন্তু গভীর রাতে কুটকৌশলে ৬ ভোটের ব্যবধানে লিটন মোল্লাকে হারিয়ে নুর ইসলামকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। বিশ্বাসঘাতকতা ও কুটকৌশলে পারদর্শী নুর ইসলাম এবারো একই মিশনে চেয়ারম্যান পদে আ’লীগের মনোনয়ন নেয়ার মিশনে রয়েছে বলে সূত্রটি জানিয়েছে। তারা অভিযোগ করেছে, সামান্য মুদী দোকানদার ইউপি চেয়ারম্যান নুর ইসলামের সড়ক ও জনপথ বিভাগের ঠিকাদার হিসেবে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে খুলনায় একটি উন্নয়ন কাজ করছে। এসব সম্পদের উৎস সন্ধানে নামলে পাল্টিবাজ চেয়ারম্যান নুর ইসলাম অনেক অপরাধে ফেসে যাবে বলে এলাকাবাসী মন্তব্য করেছেন।