কাল শুরু এইচএসসি সমমানের পরীক্ষা বরিশাল বোর্ডে পরীক্ষার্থী প্রায় ৫৭ হাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ চলমান হরতাল-অবরোধের মধ্যেই শুরু হচ্ছে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। আগামী কাল বুধবার থেকে রুটিন অনুযায়ী পরীক্ষা শুরুর সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন বরিশাল শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ। এ বছর বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধিনে তিনটি বিভাগে পরিক্ষার্থীর সংখ্যা রয়েছে ৫৬ হাজার ৬০০ জন। যার মধ্যে অনিয়মিত পরিক্ষার্থীর সংখ্যা রয়েছে ১৩ সহ¯্রাধিক।
বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. শাহ আলমগীর জানান, পূর্বের ঘোষনা অনুযায়ী আগামী ১ এপ্রিল বুধবার থেকেই রুটেন অনুযায়ী এইচএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। ইতোমধ্যে প্রতিটি কেন্দ্রের সচিব ও পরিক্ষকদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে ভিজিলেন্স টিম।
তিনি জানান, এ বছর এইচএসসি পরিক্ষায় তাদের বোর্ডের আওতাধিন ৩০১টি কলেজের মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে ২৮ হাজার ৭৪৫ জন ছাত্র এবং ২৭ হাজার ৮৫৫ জন ছাত্রী রয়েছে। এর মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে ৭ হাজার ৩৭৯ জন। মানবিক বিভাগে ৩০ হাজার ৩০৪ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১৮ হাজার ৯১৭ জন।
তাছাড়া ১৩ হাজার ৫৫৬ জন অনিয়মিত শিক্ষার্থীর মধ্যে ৭ হাজার ১৪৩ জন ছাত্র ও ৬ হাজার ৪১৩ জন ছাত্রী। শিক্ষা বোর্ডের অধিনে এসংখ্যক শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহনের জন্য বিভাগের ১০৯টি কেন্দ্র ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে। যার মধ্যে শুধুমাত্র বরিশাল জেলায় ৩৯টি এইচএসসি কেন্দ্র থাকবে। এর পাশাপাশি আলিম ১২টি ও ১৩টি ভোকেশনাল কেন্দ্র রয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল জেলা প্রশাসনের পরিক্ষা নিয়ন্ত্রন শাখা।
এদিকে শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হক পরিবর্তনকে জানান, ঢাকা থেকে পরিক্ষা পেছানোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোন চিঠি তারা পাননি। যার ফলে নির্ধারিত দিন ১ এপ্রিল থেকেই পরীক্ষা শুরু হবে।
তিনি জানান, প্রতিটি কেন্দ্রে একটি নির্বাহী হাকিম এবং ৪ সদস্য বিশিষ্ট ভিজিলেন্স টিম পরিদর্শন করবেন। শুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে পরীক্ষা গ্রহনের লক্ষে নেয়া হয়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। হরতাল অবরোধের মধ্যে পরিক্ষার্থীদের কেন্দ্রে আসতে যাতে কোন সমস্যা না হয় সে বিষয়েও নেয়া হয়েছে কার্যকরি ব্যবস্থা।
শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান বলেন, পরিক্ষা সুষ্ট ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার লক্ষে হলের মধ্যে মোবাইল ফোন বহন সম্পূর্ণ নিশিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালে শুধুমাত্র পরীক্ষক, ম্যাজিষ্ট্রেট বা ভিজিলেন্স টিম ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারবে না। কোন প্রকার অনিয়ম বা অসদুপায় অবলম্বন প্রমানিত হলে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে সর্বনি¤œ ২ বছর থেকে ১০ বছর পর্যন্ত সাজা দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। তাছাড়া কেউ প্রশ্ন পত্রের গুজব ছাড়ালে বা চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলেও জানিয়েছেন বোর্ড চেয়ারম্যান জিয়াউল হক।