কাল উদ্বোধন হবে বরিশাল-ঢাকা রুটে জাতীয় পতাকাবাহী বিমান

রুবেল খান ॥ আগামী কাল ৬ এপ্রিল উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বরিশাল-ঢাকা রুটে জাতীয় পতাকাবাহী যাত্রীবাহী বিমান। প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢাকা শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে বরিশাল-ঢাকা রুটের দুটি রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স ৭৪ আসনের ড্যাশ-৮ কিউ-৪০০ উদ্বোধন করবেন। এর একদিন পরই ৮ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে যাত্রা শুরু করবে বহুল কাংখিত রাষ্ট্রিয় এয়ার লাইন্স বিমান বাংলাদেশ। এর পর থেকে সপ্তাহের দুই দিন বরিশাল-ঢাকা রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল বিমান বন্দরের ব্যবস্থাপক মো. হানিফ গাজী। এদিকে তৃতীয় বারের মত বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স এর জাতীয় পতাকাবাহী রাষ্ট্রীয় বিমানের ফ্লাইট চালু এখন সময়ের ব্যাপার হলেও ভাড়া নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে বরিশালের যাত্রীরা। এমনকি ফ্লাইট টিকেটে অব্যবস্থাপনার বিষয়ে ক্ষুব্ধ তারা। সূত্রমতে, নদীমাত্রিক অঞ্চল বরিশাল। এ অঞ্চল থেকে ঢাকার সাথে যোগাযোগের একমাত্র উপায় নৌ এবং সড়ক পথ। তবে ঢাকার সাথে দ্রুত যোগাযোগের নেই কোন ব্যবস্থা। যার ফলে বরিশাল ঢাকা রূটে বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স’র রাষ্ট্রীয় বিমান চালু প্রাণের দাবী হয়ে দাড়ায় এ অঞ্চলের মানুষের। বরিশাল বাসীর দাবী বাস্তবায়নে ১৯৬৮ সালে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুরে বিমানবন্দর’র জন্য জমি অধিগ্রহন করা হয়। সেখানে বিমানবন্দর স্থাপন কাজ শুরুর ২৭ বছর পর বরিশাল বিমানবন্দর থেকে শুরু হয় বিমান চলাচল। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, ১৯৯৫ সালের ১৭ জুলাই ১৭ সিটের দুটি ওয়াই-১২ এ্যারোবেঙ্গল এয়ারলাইন্সের বিমান চলাচলের মধ্যে দিয়ে বরিশালে বিমান চলাচল শুরু হয়। একই বছরের ৩রা ডিসেম্বর চলাচল শুরু করে রাষ্ট্রীয় পরিবহন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স’র একটি রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী বিমান। তবে তা আবার তিন বছরের মাথায় বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে দক্ষিণাঞ্চলবাসীর প্রাণের দাবী এবং তাদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে ২০০৩ সালে পূনরায় ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করে বিমান বাংলাদেশ। এরপর কিছু সময় বরিশাল-ঢাকা রুটে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালিত হয়ে আসে। তবে তাও একটি পর্যায়ে এসে ২০০৬ সালে এই সেবা পূনরায় বন্ধ হয়ে যায়। সর্বশেষ ২০১৪ সালে ১১ আগষ্ট বরিশাল বিমানবন্দর থেকে বেসরকারী ইউনাইটেড এয়ারলাইন্সের একটি এয়ারক্রাফট চলে যাবার পর বরিশাল বিমানবন্দর বানিজ্যিক বিমান শূন্য হয়ে পড়ে। এছাড়া রাষ্ট্রীয় বিমান ও এ্যারোবেঙ্গল এয়ারলাইন্স’র পাশাপাশি ইতোপূর্বে বেসরকারী বিমান সার্ভিস, পারাবত এয়ারলাইন্স, জিএমজি এয়ারলাইন্স বরিশাল থেকে তাদের ফ্লাইট সার্ভিস শুরুর পর তা আবার বন্ধ করে দেন। ফলে ২০১৪ সালের ১১ আগষ্টের পর বরিশাল-ঢাকা রুটে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
এদিকে দীর্ঘ দিন পরে আবারো বরিশাল-ঢাকা রুটে ফ্লাইট সার্ভিস শুরু হচ্ছে। তবে এবার কোন বেসরকারী নয়। তৃতীয় বারের ন্যায় চালু হবে বাংলাদেশ এয়ার লাইন্সের জাতীয় পতাকাবাহী রাষ্ট্রীয় বিমান। পূর্ব প্রস্তুতি অনুযায়ী আগামীকাল ৬ এপ্রিল ঢাকা শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের ভিআইপি টার্মিনালে আনুষ্ঠানিক ভাবে রাষ্ট্রীয় দুটি বিমানের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে আগামী ৮ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিক ফ্লাইট যাত্রা শুরু করবে বিমান দুটি। ঐদিন বিকাল ৪টার দিকে সাধারন যাত্রীদের পাশাপাশি ঢাকা থেকে ভিআইপি যাত্রী নিয়ে বরিশাল বিমানবন্দরে অবতরন করবে। এজন্য ইতোমধ্যে রং-তুলি এবং ঘষা-মাজার কাজ শেষ হয়েছে। যতটুকো বাকি আছে তা আগামী কালের মধ্যেই শেষ হবে বলে বরিশাল বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হানিফ গাজী নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বহিবিশ্বের ইজিপ্ট এয়ার লাইন্স থেকে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইন্স ৭৪ আসনের ড্যাশ-৮ কিউ-৪০০ উড়োজাহাজ লিজ নিয়েছে বাংলাদেশ এয়ার লাইন্স। প্রাথমিক ভাবে একটি ড্যাশ-৮ কিউ ৪০০ নেক্সট জেনারেশন উড়োজাহাজ’র ইএ-৪৬৯ নং ফ্লাইট প্রতি রোব ও বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে বিকেল চারটায় বরিশালে ছেড়ে আসবে এবং ইএ-৪৭০ নং ফ্লাইট বরিশাল থেকে বিকাল ৪টা ৫৫ মিনিটে ঢাকায় উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে। ইতোমধ্যে উড়োজাহাজ (বিমান) দুটি ঢাকা শাহ-জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছে।
বরিশাল-ঢাকা যাত্রাপথে সুপার সেভার প্যাকেজে সর্বনিম্ন একমুখী ভাড়া তিন হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইকোনোমি সেভার প্যাকেজের ভাড়া সাড়ে তিন হাজার এবং ফ্লেক্সিবল প্যাকেজের ভাড়া চার হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি ফ্লাইটে একজন যাত্রী সর্বোচ্চ ২০ কেজি ওজনের লাগেজ আলাদা চার্জ ছাড়া বহন করতে পারবে বলে বরিশাল বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক নিশ্চিত করেছেন।