কালেক্টরেট পুকুরের সৌন্দর্য হারানোর উপক্রম

রুবেল খান॥ রক্ষণাবেক্ষন এবং দেখভালের অভাবে একের পর এক চুরি হয়ে যাচ্ছে নগরীর কালেক্টরেট পুকুরের সৌন্দর্য বর্ধনকারী ল্যাম্প পোষ্ট। সেই সাথে অবহেলায় পড়ে থাকা শত বছরের পুরানো এই পুকুরটি এক সময় সৌন্দর্য বর্ধনের ছোয়া লাগলেও তা আবার বিলিন হওয়ার পথে। অবহেলা আর অযতেœর কারনে সৌন্দর্যহীন ভাগারে পরিনত হতে যাচ্ছে পুকুরটির চারপাশ।
সূত্রে জানাগেছে, নগরীর জেলা পরিষদ ভবন সংলগ্ন বিশাল আয়তনের একটি পুকুর। পুকুরটি বরিশালবাসীর কাছে কালেক্টরেট পুকুর হিসেবেই পরিচিত। শত বছরের পুরানো এই কালেক্টরেট পুকুরটি কালের স্বাক্ষী হয়ে থাকলেও এতটুকু উন্নয়ন বা দৌন্দর্য বর্ধনের ছোয়া লাগছিলো না এর চারপাশে।
অবশেষে জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক ডা. মোখলেছুর রহমান দায়িত্ব গ্রহনের পর গত প্রায় ৪ বছর পূর্বে পুকুরটি সৌন্দর্য বর্ধনের উদ্যোগ গ্রহন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বহু টাকা ব্যয়ে পুকুরটির চার পাশে হাটার জন্য ওয়াকওয়ে এবং ৪৮ টি তিনবাহু বিশিষ্ট আলোকস্তম্ভ স্থাপন করে। এতে দিনে নগরীর সৌন্দর্য বর্ধন ছাড়াও রাতের নগর ভবন এলাকা আলোকিত করে তোলে। কিন্তু সৌন্দর্য বর্ধনের পরে পর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষন ব্যবস্থা বা দেখভালের অভাবে নিমেষেই হারিয়ে যেতে বসেছে সেই সৌন্দর্য। পতিত হচ্ছে অসৌন্দর্যের প্রতিকে।
সরেজমিনে দেখাগেছে, বহুটাকা ব্যয়ে স্থাপিত ৪৮টি আলোকস্তম্ভের মধ্যে বর্তমানে ২৭টি রয়েছে। বাকি ২১টি আলোকস্তম্ভ ইতোমধ্যে চুরি হয়ে গেছে। সর্বশেষ গত সপ্তাহের শেষ দিকে এখান থেকে দুটি আলোকস্তম্ভ চোর চক্র চুরি করে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
জানতে চাইলে জেলা পরিষদের উপ-সহকারী প্রকৌশলী গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রয়াত এমপি শওকত হোসেন হিরণ মেয়র থাকা অবস্থায় প্রায় দেড় বছর পূর্বে বিসিসি’র কর্মচারীরা আলোকস্তম্ভগুলো খুলে নেয়। এসময় আরো কয়েকটি আলোকস্তম্ভ ঝড়ের কবলে ভেঙ্গেও পড়ে। সেগুলোও নিয়ে যায় নগর ভবনের কর্মচারীরা। কিন্তু এরপরে সেগুলো আদৌ পূনরায় লাগিয়ে দেয়নি।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের বিসিসি বিদ্যুৎ বিভাগের দায়িত্বে থাকা নির্বাহী প্রকৌশলী ওমর ফারুক বলেন, জেলা পরিষদের পুকুরটির সৌন্দর্য বর্ধনের কাজের দেখভাল করেন তারা। এজন্য ঝড়ের সময় পড়ে যাওয়া ২ টি স্তম্ভ নগর ভবনে এনে রাখা হয়েছে। তবে বাকি স্তম্ভগুলোর বিষয়ে বিসিসি কর্তৃপক্ষের কিছুই জানা নেই বলেও দাবী করেন বিদ্যুৎ বিভাগের এই কর্মকর্তা। তাছাড়া যে আলোক স্তম্ভ দুটি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা সারাই করে পূনরায় স্থাপন করা হবে বলেও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক ডা. মো. মোখলেছুর রহমান পরিবর্তনকে জানান, জেলা পরিষদের অর্থায়নে পুকুরটির সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করা হয়েছিল সত্যি। কিন্তু এর দেখভালের দায়িত্বে ছিলো নগর কর্তৃপক্ষের। তারা সুষ্ঠুভাবে দেখভাল না করায় বহুটাকা মূল্যের আলোকস্তম্ভগুলোর কোন হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। যে কারনে নগরীর সৌন্দর্য বহনকারী জেলা পরিষদের পুকুরটি আবার সেই পূর্বের রূপে ফিরে যাচ্ছে। এ বিষয়ে তিনি নগর কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবেন বলেও জানিয়েছেন।