কালী বাড়ী রোডের সরদার ম্যানসনে বছরে ২৪ বাসা চুরি

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর কালিবাড়ি রোডে একটি বাড়িতে ভাড়াটিয়াদের ঘরে ঘটে চলেছে একের পর এক রহস্যজনক চুরির ঘটনা। জগদিস স্বারস্বত স্কুল সংলগ্ন সরদার ম্যানশন নামক ৫ তলা বাড়িটিতে গত এক বছরে প্রায় দুই ডজন চুরির ঘটনা ঘটলেও নিরব মালিক পক্ষ। যে কারনে চুরির ঘটনায় সন্দেহের তীর এখন মালিক পক্ষের দিকে। এ সন্দেহের মধ্যেই সর্বশেষ গতকাল রবিবার দিন দুপুরে বাড়িটির তৃতীয় তলায় একটি ফ্লাটে পূনরায় রহস্যজনক চুরি সংঘটিত হয়েছে। এসময় ফ্লাটের আরমিড়া ভেঙ্গে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার, ১ ভরি রুপার গহনা ও সাড়ে ১৮ হাজার টাকা চুরি করে নিয়েছে চোর চক্র। এই ঘটনায় ফ্লাটের ভাড়াটিয়া সন্তশ কুমার হালদার নান্টু কোতয়ালী থানায় একটি সাধারন ডায়রী করেছেন। যার নং- ৪২১।
এদিকে বাড়ি মালিক পক্ষের এমন চুরি বিদ্যার কাছে অসহায় ভাড়াটিয়ারা ২ থেকে ৬ মাসের বেশি সময় কোন ভাড়াটিয়াই সেখানে স্থায়ী হতে পারছে না। এমনটিই দাবী করেছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, নগরীর কালিবাড়ি রোডে অবস্থিত ৫তলা বিশিষ্ট সরদার ম্যানসন। বিসিসি’র হোল্ডিং নম্বর ৪১৩৮ রায়রোড। বাড়িটির মালিক স্থানীয় আলমগীর সরদার। বাড়িটির আশপাশে মহিলা কলেজ, সদর গার্লস ও জাগদিস স্বারস্বত স্কুল সহ গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা রয়েছে। যে কারনে ভাড়া বাসা হিসেবে সরদার ম্যানশন ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। কিন্তু ভাড়াটিয়ারা সুবিধা ভোগের আশায় বাড়িটিতে অধিক টাকা দিয়ে ফ্ল্যাট ভাড়া নিলেও মালিক পক্ষের কৃত্তি কলাপে বেশি দিন থাকতে পারছে না। তার উপর বাড়িটিতে ঘটে চলেছে একের পর এক রহস্যজনক চুরির ঘটনা। বাড়ির ভাড়াটিয়াদের অভিযোগ বাড়িটিতে গত এক বছরের ব্যাবধানে দুই ডজনের বেশি চুরি সংঘটিত হয়েছে। ভাড়াটিয়াদের ফ্লাটে একের পর এক চুরি সংঘটিত হলেও বাড়ির মালিকের ঘরে চুরি সংঘটিত হয়েছে এমন কোন নজির খুজে পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি ভাড়াটিয়াদের ঘরে চুরির ঘটনা ঘটে চললেও বাড়ির মালিক আলমগীর সরদার ও পরিবারের সদস্যরা রয়েছে নিরব দর্শকের ভূমিকায়। চোর সনাক্ত করন কিংবা ভাড়াটিয়াদের জান মালের নিরাপত্তা দিতে নেই তাদের কোন জোরালো ভুমিকা। বাড়ির মালিকের এমন রহস্যজনক ভুমিকার কারনে চুরির সাথে সম্পৃক্তা সন্দেহের তীর এখন বাড়ির মালিক পক্ষের দিকেই ছুটছে।
এর কারন ব্যাখ্যা দিয়ে স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা এবং ইতোপূর্বে চুরির কবলে পড়া ভাড়াটিয়ারা জানান, বাড়ির মালিক কোন আইন কানুনের তোয়াক্কা করেন না। চুরির কবলে পড়ে একের পর এক ভাড়াটিয়া বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হলেও কোন প্রকার ব্যবস্থা নিচ্ছেন না বাড়ির মালিক। তাছাড়া বাড়ি মালিক আলমগীর সরদার এবং তার দুই গুনধর ছেলের পূর্বের ইতিহাস ঘাটতে গেলে চুরি বিদ্যায় তাদের পারদর্শীতার প্রমান মেলে।
তথ্য অনুসন্ধ্যানে জানাগেছে, সরদার ম্যানসন নামে বাড়িটিতে ভাড়া থাকতেন রবি কোম্পানির একজন কর্মকর্তা। তার বরিশালের বাইরে পোষ্টিং হওয়া সেখানে যোগদান করতে যান তিনি। তখন ভাড়াটিয়াদের রুম দেখানোর কথা বলে রবি কর্মকর্তার ফ্ল্যাটের চাবি রেখে দেন। কদিন পর সে ফ্ল্যাটে ফিরে দেখেন রুমে তার ব্যবহৃত ল্যাপটপটি উধাও হয়েগেছে।
একই ভাবে চুরির কবলে পড়েন একজন ভাড়াটিয়া নার্সের বোন। তিনি বাসায় না থাকার সুযোগে ভাড়া বাসার তালা ভাঙ্গার চেষ্টা করা করা হয়। কিন্তু সে ফ্ল্যাটে চলে আসায় তখন রুমে চুরিতে ব্যর্থ হয়।
একই ভবনের ভাড়াটিয়া নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ’র ইউনিক কম্পিউটার নামক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়ী আরিফ। তার ভাড়া বাসারও তালা ভেঙ্গে ৫ হাজার টাকা এবং ২টি মোবাইল সেট রহস্যজনক ভাবে চুরি হয়ে যায়। এছাড়াও বাড়িতে ঘটেছে আরো একাধিক ঘটনা। প্রতি ঘটনায় চুরির আলামত একই ঘরনের এমনকি প্রতিটিই ধরের দরজার তালা ভেঙ্গে হয়েছে।
বাড়ি মালিক আলমগীর সরদারের চুরি বিদ্যার বর্ননা দিয়ে স্থানীয়রা জানান, বছর দেড়েক পূর্বে আলমগীর প্রাইম ব্যাংকে লেনদেনের জন্য জান। এসময় সেখান থেকে এক মহিলা গ্রাহকের মূল্যবান একটি মোবাইল চুরি করে চম্পট দেন তিনি। পরে ব্যাংকের সিসি ক্যামেরার সাহায্যে আলমগীরকে চোরাই মোবাইল সহ ধরে গনধোলাই দেয়। এমনকি ঐ ঘটনায় তাকে একমাস জেলের ঘানি টানতে হয় বলেও নিশ্চিত করেছেন স্থানীরা।
আলমগীদের দুটি ছেলেও বাবার চরিত্রই লাভ করেছে। রাহাত ও রাকিব নামে দুই ছেলেই মাদকাশক্ত এবং বখাটেদের তালিকায় ইতোমধ্যে নাম লিখিয়েছেন। এর মধ্যে বড় ছেলে রাহাত তার কুকীর্তির জন্য প্রতিপক্ষের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে জখম হন। ছোট ছেলে রাকিব একজন চিহ্নিত মাদক সেবী। মাদক ব্যবসার সাথে তার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলেও অভিযোগ উঠেছে। ইতোপূর্বে মাদক গ্রহন এবং বহনের অপরাধে রাকিবকে পুলিশ আটক করেছে বলেও সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে এক সময়ে অপসোনিন ফার্মার লেবার সরদার আলমগীরের কোটিপতি বনে যাওয়ার পেছনেও রয়েছে বর্ণাঢ্য ইতিহাস। তিনি লেবার সরদার থাকা কালে অফসোনিনের অর্থ এবং মালামাল আত্মসাত করে অবৈধ টাকায় কালিবাড়ি সংলগ্ন রায়রোডে হাকিয়েছেন বিলাশ বহুল বহুতল বাস ভবন। কিন্তু এর সম্পদের হিসাব বা দুর্নীতি খতিয়ে দেখতে আসেনি প্রশাসন বা দুদক। তবে এর সুষ্ঠু তদন্ত হলে আলমগীদের অবৈধ সম্পদ অর্জনের সকল তথ্যই ফাঁস হয়ে যাবে দাবী স্থানীয়দের। তাছাড়া তার ভাড়াটিয়াদের বাড়িতে যেসব চুরি সংঘটিত হয়েছে তার পেছনে আলমগীরের হাত রয়েছে। পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এর সত্যতা প্রমান পাবে বলেও দাবী করেন তারা। আর তাই এই ঘটনায় বরিশাল মেট্রো পলিটন পুলিশ কমিশনার সহ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সহযোগিতা কামনা করেছেন চুরির কবলে পড়া বাড়ির ভাড়াটিয়ারা।