কালবৈশাখের ঝড়ে আহত-২

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ কাল বৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড করে দিলো নগরী সহ আশপাশের এলাকা। মাত্র দেড় ঘন্টার এ ঝড়ে গাছের নিচে চাঁপা পড়ে আহত হয়েছে বৃদ্ধাসহ দুই জন। এছাড়াও ঝড়ে ঘর-বাড়ি, গাছ-পালা এবং ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। একই সাথে ঝড়ে গাছ পড়ে ঘটে বিদ্যুৎ এর বিপর্যয়। যার ফলে ৫ ঘন্টা অন্ধকারে থাকতে হয়েছে নগরবাসীকে। তবে এতে নিহত বা বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই বরিশাল সহ দক্ষিণাঞ্চলে আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটেছে। বিশেষ করে গত শনিবার রাত থেকে মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি ও বাতাস বইতে থাকে। রবিবার সকাল থেকে আবহাওয়ার কিছুটা পরিবর্তন হলেও নৌ বন্দরে ছিলো ২ নম্বর সতর্কতা সংকেত।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জেষ্ঠ্য পর্যবেক্ষক মো. মিলন হাওলাদার আজকের পরিবর্তনকে জানান, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় বরিশাল নগরী এবং আশপাশের এলাকায় ঝড়হাওয়া বইতে শুরু করে। মেঘে ঢাকা পড়ে গোটা বরিশালের আকাশ। গুম গুম শব্দে আকাশ জুড়ে বজ্রপাত ও বিজলির ঝলকানিতে আলো ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্ত।
তিনি জানান, রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত অঝোর ধারায় বৃষ্টি হয়। তবে এর মধ্যে সাড়ে ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ঝড় হাওয়ার পাশাপাশি ভারি বর্ষন হয়। এই সময়ের মধ্যে ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এসময় বাতাসের গতীবেগ ছিলো সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটার। চলতি মৌসুমে এটাই সর্বচ্চ বৃষ্টিপাত এবং বাতাসের গতিবেগ।
বিআইডব্লিউটিএ’র নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগ বরিশাল’র উপ-পরিচালক মো. আবুল বাশার মজুমদার জানান, ঝড়হাওয়া এবং ভরি বর্ষনের কারনে নৌ-বন্দর গুলোকে ২ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখানো হয়েছে। পাশাপাশি ৬৫ ফুটের নিচে সকল প্রকার নৌ-যান চলচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে ঝড়ের কবলে কোন নৌ-যান দুর্ঘটনা কবলিত হয়েছে বলে খবর পাননি বলে জানান তিনি।
ফায়ার সার্ভিস এ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ ষ্টেশন অফিসার মোহাম্মদ আলাউদ্দিন জানান, ঝড়ে বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাননি তারা। তবে ঝড়ের কবলে গাছ-পালার বেশ ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্টিবিউশন কোম্পানির বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরন কেন্দ্র-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী তরিকুল ইসলাম জানান, ঝড়ে নগরীর বিভিন্ন স্থানে গাছ পালা ভেঙ্গে বৈদ্যুতিক ক্যাবল ছিড়ে পড়ে। এসব স্থানে সংস্কার কাজ চলায় প্রায় ৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিলো। তবে ঝড়ো হাওয়া শুরুর আগে ক্ষয়ক্ষতি এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বিকেল সোয়া ৪ টায় গোটা নগরীর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় বলেও জানান বিদ্যুৎ বিভাগের এই প্রকৌশলী।
এদিকে প্রায় ৫ ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় গ্রাহক এবং জনজীবনে অনেকটা বিপর্যয় নেমে আসে। বিশেষ করে চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়তে হয় ভোগান্তিতে। মোমবাতি বা হারিকেন জ্বালিয়ে লেখা-পড়া করতে হয় তাদের।
অপরদিকে স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দেড় ঘন্টার কাল বৈশাখী ঝড়ে সদর উপজেলার কার্ণকাঠিতে বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সদর উপজেলার চরকাউয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম ছবি জানান, ঝড়ে তার ইউনিয়নে কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে গাছ পালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কিছু কিছু ঘর বাড়ির চালা এবং টিন প্রচন্ড বাতাসে উড়েগেছে বলে খবর পাওয়াগেছে।
এদিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, ঝড়ের পরে রাত ৮টার দিকে বৃদ্ধ সহ দুইজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এ দু’জনই বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল গ্রামের বাসীন্দা। ঝড়ের সময় এরা দু’জন গাছের নিচে চাপা পড়ে আহত হয় বলে জরুরী বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে। এরা হলো- আনসার আলী মল্লিক (৭০) ও সুজন (২১)।