কারান্তরীন মেরিন কর্মকর্তার জামিন না পেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের হাসপাতালে অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ সেবন করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে হাজতি মেরিন কর্মকর্তা। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই ঘটনায় গুরুতর অবস্থায় হাফিজুর রহমান নামের ওই হাজতিকে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করা হয়েছে।
হাজতি হাফিজুর রহমান বাকেরগঞ্জ উপজেলার দারিয়াল গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমানের ছেলে। এছাড়া তিনি চট্রগ্রামের মেরিন কর্মকর্তা। স্ত্রীর দায়েরকৃত নারী নির্যাতন দমন আইনের মামলায় পুলিশ তাকে আটকের পর জেল হাজতে প্রেরণ করে।
হাজতি হাফিজুর রহমান জানান, গত ১১ মাস পূর্বে তিনি মুক্তা নামের এক মেয়েকে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের আগে থেকেই মুক্তার সাথে এক যুবকের অবৈধ সম্পর্ক ছিলো। তাদের বিয়ের দু’দিন পরই জানতে পারেন স্ত্রী মুক্তা অন্তঃসত্তা।
এর পরিপ্রেক্ষিতে তিনি স্ত্রী মুক্তাকে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক তালাক দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এর সূত্রধরে স্ত্রী মুক্তা তার মেরিন কর্মকর্তা স্বামী হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে গত দু’মাস পূর্বে নির্যাতন ও যৌতুকি দাবীর অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ হাফিজকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেন।
হাসপাতালে নিয়ে আসা বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী আব্দুল হক জানান, গত বৃহস্পতিবার হাফিজুর রহমান আদালতে জামিনের আবেদন করেন। কিন্তু আদালত তার জামিন না মঞ্জুর করে পূনরায় জেলে পাঠান। এতে ক্ষুব্ধ হন তিনি।
কারাগারের সূত্রটি আরো জানায়, শনিবার সকালে হাফিজের সাথে তার মা দেখা করতে কারাগারে আসে। এসময় মায়ের সাথে তার কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বেলা ১১টার দিকে কারাগারের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একসাথে ২০টি ঘুমের ট্যাবলেট সেবন করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে হাফিজ। এর আগে ঘুম না হওয়ায় কারাগারের চিকিৎসক এর পরামর্শ অনুযায়ী হাফিজকে ঘুমের ওষুধ কিনে দিয়ে যায় তার বাবা।
এদিকে ওষুধ সেবনের বিষয়টি টের পেয়ে কারাকর্তৃপক্ষের নির্দেশে চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষনিক ভাবে হাফিজকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালের প্রিজন সেলে ভর্তি করে।
হাসপাতালের জরুরী বিভাগের দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. দাস রনবির জানান, অতিরিক্ত মাত্রায় ঘুমের ওষুধ সেবনের কারনে হাফিজুল রহমান গুরুতর অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। হাসপাতালে নিয়ে আসার পর পেটে ওয়াশ করে ওষুধ বের করে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে তার অবস্থা অনেকটা শংকা মুক্ত বলে জানিয়েছেন এই চিকিৎসক।