কারাগারের রোজাদার আসামীরা ভোগান্তিতে

জুবায়ের হোসেন॥ নি¤œ মানের সামান্য পরিমানের ইফতারি দিযে ইফতার করে কারাগারের প্রায় এক হাজার রোযাদার বন্দী। রমজানের রহমতের প্রথম ১০ দিনের ৬ দিনই কেটেছে তাদের এমন ভাবেই। হয়ত সামনের বাকি রমজানেও সেহরিতে জুটবে ডাল-ভাত আর ইফতারিতে তেতো সাধের খেজুর ও সামান্য ইফতারি বলে অভিযোগ করেছে একাধিক কয়েদি ও হাজতি বন্দীরা। সংযমের মাস তাই হয়ত কারা কর্তৃপক্ষ বন্দীদের আরও সংযমি করে তুলছে এমন ইফতার ও সেহরি খাইয়ে বলে ব্যাঙ্গাত্বক আক্ষেপও প্রকাশ করেছে অভিযোগকারীরা। তবে উন্নত মানের সুস্বাদু ইফতারি দিয়েও কারাগারে রোজা খোলার ব্যবস্থা রয়েছে তবে তা সংগ্রহ করতে হবে অভ্যন্তরের ক্যান্টিন থেকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে। আর এইসব চালিয়ে অর্থ উপার্জনের জন্যই কারা কর্তৃপক্ষের দেয়া ইফতারির অবস্থা যাচ্ছে তাই বলেও অভিযোগ করে বন্দীরা। তবে অভিযোগ এর বিষয়টি একেবারেই মিথ্যে বলে জোরালোভাবে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।
কারাভ্যন্তরের একাধিক বন্দীরা তাদের বিস্তারিত অভিযোগে পরিবর্তনকে জানায়, গত মঙ্গলবারের হিসাব অনুযায়ী বর্তমানে কয়েদি ও হাজতি বন্দী মিলিয়ে কেন্দ্রীয় কারাগারে ১ হাজার ২৮১ জন রয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার জনই নিয়মিত রোজা রাখেন। বাকীরা অন্য ধর্মাবলম্বী ও কারাগারে পরিশ্রম করায় রোজা রাখেন না। তবে সিংহভাগ রোজাদার হওয়া সত্ত্বেও শুরুর দিন থেকেই সেহরি ও ইফতারে তাদের নামে মাত্র খাদ্য দেয়া হচ্ছে। সেহরির অবস্থা যেমন তেমন হলেও ইফতার এর অবস্থা খুবই শোচনীয়। নিয়মানুযায়ী জনপ্রতি রোজাদার বন্দীদের ইফতারে জন্য ১৫-২০ টাকার ইফতার বরাদ্দ থাকলেও সেখানে দেয়া হচ্ছে ১০ টাকারও কম। বর্তমানে কারাগারে বন্দীরা সেহরী হিসেবে পাচ্ছে পান্তা ভাত ও ডাল। ইফতারে দেয়া হয় ১টি খেজুর, ১০/১২ গ্রাম ছোলা বুট, ১টি পিয়াজু, ভাংগা এক টুকরো জেলাপি এবং কিছ্টুা ভেজানো চিড়া। তবে এসব যদি সঠিক মানের থাকতো তাহলেও অভিযোগ ছিল না জানিয়ে অভিযোগকারীরা বলেন, ইফতারিতে দেয়া খেজুর থাকে পচা। মুখে দিলে তা থেকে তেতো স্বাদ ও গন্ধ পাওয়া যায়। ১০/১২ গ্রাম ছোলা বুটের এক তৃতীয়াংশই থাকে পাথর। পিয়াজুর আকৃতি এতটাই ছোট যা দেখতে কোন ধরনের খাবার বুঝতে কষ্ট হয়। জেলাপি পাওয়া তো ভাগ্যের ব্যাপার এবং চিড়ার পানিতে চিড়া কম, পানিই থাকে বেশি। তবে সব ইফতারই ভাল মানের পাওয়া যায় কারাগারের ক্যান্টিনে। রমজানের ক্যান্টিনে পিয়াজ বিক্রি হয় প্রতি কেজি ১৪০টাকা, শসা কেজি ১০০ টাকা এবং তৈরি ইফতার এর দাম হার মানাবে নগরীর নামী দামি ইফতার তৈরি ও বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানকেও। কিন্তু বাধ্য হয়ে তা কিনে খেতে হচ্ছে বন্দীদের। আর যাতে কিনে খেতে হয় সে কারনেই নি¤œ মানের ইফতার দিচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ বলেও জানায় অভিযোগকারীরা। একই সাথে সরকার কর্তৃক দেয়া ইফতারির বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের ব্যাপারটিতো রয়েছেই। গত বছর রমজানের মোটামুটি ভাল ইফতার দেয়া হত তবে এ বছরের অবস্থা খুবই হতাশজনক। রমজান যতই শেষের দিকে যায় ইফতারে পরিমাণও কমতে থাকে। কিন্তু এ বছর তো শুরুই হয়েছে শূন্য থেকে রমজানের শেষে কি হয় তা স্বয়ং সৃষ্টিকর্তাই জানে বলে মন্তব্য করে বন্দীরা। এ বিষয়ে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার বদরুদ্দোজার সাথে আলাপ কালে তিনি জানানা, অভিযোগগুলো একেবারেই মিথ্যা। সরকার নির্ধারিত ১৫/২০ টাকা পরিমান ইফতার দেয়া হয় বন্দীদের। তাতে ফল সহ ভাল খাদ্যদ্রব্য থাকে।