কারাগারের নিরাপত্তা জোরদার

রুবেল খান॥ বিদেশীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের পর এবার বরিশালের প্রতিটি কারাগারে রেডএলার্ট জারি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের এক নির্দেশে দেশের সকল কারাগারের ন্যায় বরিশাল বিভাগের কারাগারগুলোতেও সতর্ক অবস্থা জারি করেছেন এখানকার কারা কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে কারাগারগুলোর অভ্যন্তরে কারা কর্তৃপক্ষ এবং কারা রক্ষিদের বিশেষ সতর্কতার পাশাপাশি কারাগারের বাইরে প্রশাসনের সতর্ক অবস্থান এবং গোয়েন্দা নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে। সন্ত্রাসী হামলায় ইতালীয় ও জাপানি নাগরিক নিহত এবং জামায়াতে ইসলামের দুই শীর্ষ নেতার মৃত্যু পরোয়ানা জারিকে কেন্দ্র করে এই রেডএলার্ট জারি করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ।
সূত্র জানায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় ইতালিয়ান নাগরিক সিজারি তাভেল্লা ও তিন অক্টোবর রংপুরে জাপানি নাগরিক কুনিও হোশিকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বিত্তরা। এছাড়া জামায়াতের শীর্ষ দুই নেতা আলী আহসান মুজাহিদ এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে মানবতা বিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যু পরোয়ানা জারি করে আদালত। এসব কারনে দেশের কারাগারগুলোতে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে এমন আশংকার কথা জানিয়ে গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের নির্দেশে দেশের প্রতিটি কারাগারে বিশেষ নিরাপত্তা এবং সতর্ক অবস্থা জারি করেন কারা অধিদপ্তর। এমন আদেশ দিয়ে প্রেরিত প্রজ্ঞাপন ইতোমধ্যে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার সহ বিভাগের প্রতিটি কারাগারে এসে পৌছেছে বলে সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত করেছেন।
বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. বদরুদ্দোজা জানান, আদেশে কারাগারের দায়িত্বে থাকা জেল সুপার, জেলার, ডেপুটি জেলার এবং কারারক্ষী সহ সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থানার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে যেসব কারাগারে জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা বন্ধি রয়েছে সেইসব কারা কর্তৃপক্ষকে বিষয়টির প্রতি বেশি গুরুত্ব দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, কারাগারে বন্দি জঙ্গিরা যাতে কারা অভ্যন্তরে কোন ধরনের নাশকতা মূলক কর্মকান্ড, তৎপরতা বা পরিকল্পনার ছক আকতে না পারে সে বিষয়ে জঙ্গি সদস্যদের উপর নজর রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এদিকে কারা অধিদপ্তরের আদেশ পাওয়ার পর পরই বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগার সহ বিভাগের প্রতিটি কারাগারে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে। করাগার অভ্যন্তরের পাশাপাশি বাইরেও বৃদ্ধি করা হয়েছে কঠোর নজরদারী।
এ বিষয়ে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার বদরুদ্দোজার সাথে আলাপকালে তিনি জানান, চিঠি পাবার পর পরই বন্দিদের নিরাপত্তা রক্ষায় জেল সুপার থেকে শুরু করে কারা রক্ষি পর্যন্ত সকলেই সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বন্দিদের সাথে স্বজনদের দেখা করার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বন্দিদের পরিবারের সদস্য ছাড়া অন্যকোন আত্মীয় কিংবা পরিচিতদের দেখা করার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। সকল ক্ষেত্রে কড়াকড়ি মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলেও নিশ্চিত করেছেন বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার। শুধু মাত্র বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারেই নয়, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি এবং পিরোজপুর কারাগারেও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এদিকে গতকাল রবিবার দিনভর বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগা ফটকে র‌্যাব এবং পুলিশের সতর্ক অবস্থান দেখা দেখা গেছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ছাড়াও রয়েছে টহল টিম। ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে যানবাহনের প্রতি নজরদারী বৃদ্ধি করা হয়েছে। রয়েছে গোয়েন্দা পুলিশও।
জানতে চাইলে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র মো. আবু সাঈদ বলেন, মন্ত্রনালয় থেকে কারাগারে অতিরিক্ত নজরদারী বৃদ্ধির বিষয়ে আমরা কোন চিঠি পাইনি। তবে পূর্বে থেকেই কারাফটে আমাদের পুলিশী এবং গোয়েন্দা নজরদারী রয়েছে। তাছাড়া দেশে দুই বিদেশী নাগরীক হত্যার পর বরিশালে বসবাসরত বিদেশী নাগরিকদের নিরাপত্তায় বিশেষ নজরদারী রয়েছে।