ইলিশের বাজারে কৃত্রিম সংকট

রুবেল খান॥ পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ইলিশ সংরক্ষন শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা। যার ফলে বৈশাখের কয়েকদিন বাকি থাকলেও বাজারে ইলিশের আকাল সৃষ্টি হয়েছে। ব্যবসায়ীরা দাম বাড়াতে অবৈধ ভাবে সংরক্ষনের মাধ্যমে ইলিশের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বলেও অভিযোগ উঠেছে। সুদের জালা থেকে রেহাই পেতে কিছু আড়ৎদার এবং পাইকার এমন কারসাজি করছে বলেও স্বীকার করেছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্ষপঞ্জিকা অনুযায়ী আর মাত্র একদিন পরেই বাংলা নববর্ষ ১৪২২। এজন্য নতুন বর্ষ বরনে নানা আয়োজন ও প্রস্তুতিতে মেতে রয়েছে বাঙালী জাতি। দিন যতই ঘনিয়ে আসছে প্রস্তুতিও প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে এসেছে। তবে পহেলা বৈশাখের মাত্র একদিন বাকি থাকলেও বাঙালী ঐতিহ্য পান্তা-ইলিশের আয়োজন নিয়ে উৎকন্ঠা পিছু ছাড়ছেনা বরিশালবাসীর। কেননা একদিকে বাজারে ইলিশের মূল্য চড়া, অন্যদিকে মূল্য বাড়াতে ব্যবসায়ীদের কারসাজি। দুই মিলিয়ে চরম হতায় বরিশালবাসী। নগরীতে বসবাসকারী বেশ কয়েকজন পরিবর্তনকে জানান, গত ৪/৫ দিন যাবত ইলিশ মাছ কিনতে নগরীর মাছের আড়ৎ পোর্ট রোড, চৌমাথা বাজার, নতুন বাজার, বাংলাবাজার, সাগরদী সহ বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরেছেন। কিন্তু ইলিশের দেখা পাননি। যাও পাওয়া যাচ্ছে তা জাটকা ইলিশ। কিন্তু জাটকার সাইজ অনুসারে দাম যা চাচ্ছে তা দিয়ে ঐ মাছ কিনে পর্তায় পোশানো সম্ভব নয়। বড় ইলিশ চাইলে বাজারের ব্যবসায়ীরা পহেলা বৈশাখের দু-একদিন আগে দেখা করার জন্য বলেন। ক্রেতাদের অভিযোগ পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে মাছ ব্যবসায়ীরা ইলিশের কৃত্রিম সংকট তৈরী করেছেন। তারা মূল্য বৃদ্ধির জন্য আগে ভাগে ইলিশ কিনে বরফ দিয়ে সংরক্ষন করে রেখেছে। যার ফলে বাজারে ইলিশ শূণ্য হয়ে পড়েছে। জানতে চাইলে নতুন বাজারের মাছ ব্যবসায়ী আফতাব নাইয়া জানান, তারা আড়তে গেলে মাছ পাচ্ছেন না। তাই নগরীর বেলতলা ও চরমোনাই সহ বিভিন্ন স্থান থেকে বেশি দামে জাটকা কিনে আনছেন। তারা যে দামে কিনছেন তার থেকে অল্প কিছু লাভ রেখে তা বিক্রি করছেন।

নগরীর চৌমাথা বাজারের মাছ ব্যবসায়ী রুস্তম মল্লিক জানান, নদীতে জেলেদের জালে কিছু মাছ ধরা পড়ছে। ঐ মাছ বাজারে ছাড়া হলে দাম একটু হলেও কম থাকত। কিন্তু ঐ মাছ খুচরা বাজার পর্যন্ত এসে পৌছায় না। কেননা পোর্ট রোডের ইলিশ মোকামে ইলিশের ট্রলার পৌছা মাত্রই তা গায়েব হয়ে যাচ্ছে। বৈশাখে ইলিশের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে মূল্য বাড়াতে আড়তদার এবং পাইকাররা মাছ কিনে তা বরফ দিয়ে সংরক্ষন করে রাখছেন।
দক্ষিণাঞ্চলের সর্ব বৃহৎ ইলিশ মোকাম নগরীর পোর্ট রোডের মাছ ঘাটের বেশ কয়েকজন আড়ৎদার ও পাইকার নাম প্রকাশ না করার শর্তে খুচরা ব্যবসায়ীদের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমরা কোটি কোটি টাকা দাদন দিয়ে ব্যবসা করছি। কিন্তু মাছ না পাওয়ায় তাদের প্রতিনিয়ত সুদ গুনতে হচ্ছে। তার মধ্যে আবার আসছে বৈশাখের পর পরই জেলেদের দাদন দিতে হবে। কিন্তু সব আড়তদার বা পাইকারের পক্ষে দাদন দেয়া সম্ভব নয়। তাই সুদের যন্ত্রনা থেকে কিছুটা নিস্তার পেতেই তারা ইলিশ সংরক্ষন করছেন। বৈশাখের দু’দিন কি একদিন বাকি থাকতে সংরক্ষন করে ইলিশ খুচরা বাজারে ছাড়া হবে। এতে তারা একটু লাভবান হবে বলেও দাবী করেন। এটা অনিয়ম এবং স্বেচ্ছাচারীতা হলেও আড়তদার বা পাইকারদের পক্ষে কিছু করার নেই বলেও মন্তব্য করেন উল্লেখিত পাইকার ও আড়ৎদাররা।