কাউন্সিলর রূপা কারাগারে

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ সর্পরাজ মান্না পাহাড়ীকে দুই পায়ের রগ কর্তন সহ কুপিয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় অবশেষে গ্রেফতার হয়েছেন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সংরক্ষিত (১৬, ১৭ ও ১৮) ওয়ার্ডের আলোচিত নারী কাউন্সিলর ইসরাত আমান রূপা। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর ব্রাউন কম্পাউন্ড রোড এলাকার নিজ বাসা থেকে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের একটি টিম তাকে গ্রেফতার করে। বিকালে বরিশাল অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন আদালতে তাকে হাজির করা হলে ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আনিসুর রহমান তাকে জেল হাজতে প্রেরনের নির্দেশ দেন। এছাড়া রূপাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক রেজাউল ইসলাম শাহ্ সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। বিচারক আগামী ২৩ জুলাই রিমান্ড শুনানীর জন্য দিন ধার্য রেখেছেন।
এর আগে সাপের বাক্সে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা বহনের প্রস্তাব প্রত্যাখান করায় গত ১৭ জুলাই রাতে বরিশাল নগরীর জিয়া সড়ক এলাকায় সর্পরাজ মান্না পাহাড়ীকে নির্মমভাবে কুপিয়ে তার দুই পায়ের রগ কর্তন সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মকভাবে জখম করে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় ১৯ জুলাই রাতে সংরক্ষিত কাউন্সিলর ইসরাত আমান রূপাসহ ৬ যুবলীগ কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আহত সাপুড়ে মান্না পাহাড়ীর স্ত্রী কাজল বেগম। এদের মধ্যে কাউন্সিলর রূপার নাম মামলার আসামীদের তালিকার ছয় নম্বরে রয়েছে। তবে কাউন্সিলর রূপা গ্রেফতার হলেও আত্মগোপনে রয়েছে তার সহযোগী রাজা সহ ৫ আসামী। আত্মগোপনে থাকা মাদক ব্যবসায়ী আসামীরা হলো নগরীর ২২ নম্বর ওয়ার্ডের জিয়া সড়কের বাসিন্দা ও একই ওয়ার্ডের যুবলীগ সহ-সভাপতি তরিকুল ইসলাম রাজা, সরজিৎ চন্দ্র রায় ওরফে সবুজ, মো. ফিরোজ, মাসুদ মোল্লা ও রফিকুল ইসলাম বাদশা।
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) শাহ্ মো. আওলাদ হোসেন জানান, দুপুরে এসআই কুদ্দুস মোল্লা ১৬নং ওয়ার্ডের ব্রাউন কম্পাউন্ড এলাকায় আসামীর নিজ বাস ভবন থেকে তাকে আটক করে। আটক কাউন্সিলরকে সাপুড়ে মান্না পাহাড়ীর স্ত্রী’র দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে চালান করা হয়। এছাড়া তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড আবেদনও করা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
মান্নার স্ত্রী কাজল বেগম জানান, কয়েকমাস আগে মান্নাকে সাপের বাক্সে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা বহনের প্রস্তাব দেয় যুবলীগ কর্মী তরিকুল ইসলাম রাজা ও কাউন্সিলর ইসরাত আমান রূপা। এতে রাজী না হওয়ায় তারা মান্নাকে হুমকি দেয়। ওই সময়ে মান্না কোতোয়ালী মডেল থানায় সাধারন ডায়েরী করেন। তাছাড়া মান্নাকে মুঠোফোনে দেয়া কাউন্সিলর রূপার হুমকির রেকর্ডিং পুলিশ এবং মিডিয়ায় প্রকাশ করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়েই গত সোমবার রাতে রূপার নির্দেশে রাজা ও তার সহযোগিরা মান্নাকে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে জখম করে বলে অভিযোগ বাদীর। আহত মান্না বর্তমানে শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা আশংকামুক্ত হলেও তাকে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিতে হবে। বিশেষ করে তার দুই পায়ের রগ কর্তনের কারণে পঙ্গুত্ব বরণের আশংকা দেখা দিয়েছে।