কাউন্সিলর রুপার হুমকির বাস্তব রুপ ॥ জীবন-মৃত্যু’র সন্ধিক্ষনে স্বর্পরাজ মান্না পাহাড়ী

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ভয়ংকর ও বিষাক্ত সাপ’র দংশন থেকে সাধারন মানুষকে রক্ষা করা স্বর্পরাজ মান্না পাহাড়ী এখন জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে। বিষাক্ত সাপ বশ করে সাধারন মানুষকে রক্ষা করলেও অবৈধ ও অনৈতিক কর্মে প্রভাবশালী বনে যাওয়া দুর্বৃত্ত’র হাত থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি সে। মানুষ রুপী সমালোচিত জনপ্রতিনিধি ও তার সহযোগি দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে সে। গতকাল সোমবার রাতে তাকে কুপিয়ে মৃত ভেবে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। দুর্বৃত্তদের সম্রাজ্ঞী কাউন্সিলর ইসরাত আমান রুপার প্রান নেয়ার হুমকিতে পুলিশের শরনাপন্ন হয়েও রক্ষা পায়নি মান্না পাহাড়ী। সাপের বাক্সে ইয়াবা বিক্রি না করায় অবশেষে তাকে কুপিয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী রাজা ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী। রাত সোয়া ৯টার দিকে নগরীর জিয়া সড়কের মদিনা মসজিদ এলাকায় ওই ঘটনার শিকার হয়েছে সে। পরে পুলিশ মুমূর্ষ অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেছে। তবে চিকিৎসকরা জানিয়েছে, মান্না পাহাড়ী’র অবস্থা আশংকাজনক। জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষনে রয়েছে সে।

মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়া অবস্থায় সাংবাদিকদের সামনে পুলিশকে জানিয়েছে তার উপর হামলার ঘটনাও। মান্না পুলিশকে জানায়, বিসিসি’র সংরক্ষিত ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সমালোচিত ও বির্তকিত ইসরাত আমান রুপার ঘনিষ্ট ও জিয়া সড়কের মদিনা মসজিদ এলাকায় ইয়াবা সম্রাট রাজা, তার সহযোগি বাদশা, ফিরোজ, নাসির ও সবুজ সহ দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার উপর হামলা করেছে। শিশু কণ্যার সামনে এলোপাথারীভাবে তার হাত-পা-মাথা, বুক ও পিঠসহ শরীরে বিভিন্ন অংশে কুপিয়ে মৃত্যু হয়েছে ভেবে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়েছে তারা।

মান্না পাহারী অভিযোগ করেন, ওই এলাকায় প্রকাশ্যে ইয়াবা ব্যবসা করে আসছে রাজা। সম্প্রতি তার ইয়াবা ব্যবসায় মান্না পাহারীকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করে। মান্না পাহারীর সাপের ঝুড়িতে টেকনাফ থেকে ইয়াবা বহনের জন্য তাকে বাধ্য করার চেষ্টা করে ইয়াবা সম্রাট রাজা। এতে এই অনৈতিক কর্মকান্ডে সাড়া না দেয়ায় মান্নার উপর ক্ষিপ্ত হয় রাজা ও তার বাহিনী। এমনকি একাধীকবার জীবন নামের হুমকি দেয় সমালোচিত কাউন্সিলর রুপা ও রাজা। তাই ইয়াবা সম্রাট রাজা ও তার সহযোগিদের হাত থেকে নিজেকে বাঁচাতে তাদের বিরুদ্ধে গত ৩০ এপ্রিল কোতয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করে মান্না। যার নম্বর ৪৪১/১৭। এতে আরো ক্ষিপ্ত হয় সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী রাজাবাহিনী।

এজন্য রাজার শেল্টারদাতা অপকর্মের সমাজ্ঞী সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইসরাত আমান রুপা তাকে মুঠোফোনে হুমকি দেয়। রুপার দেয়া হুমকির রেকডিং তিনি প্রশাসন এবং গনমাধ্যমে প্রকাশ করেন। এ বিষয়টি নিয়ে তখন বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদও প্রকাশিত হয়। এতে রুপা এবং রাজা দু’জনে ক্ষুব্ধ হয়। এর পর থেকেই রাজা তার লোকজন নিয়ে আমার উপরে হামলার উদ্দেশ্যে সুযোগ খুঁজতে থাকে।

এর ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার সন্ত্রাসী রাজা তার বাহিনী নিয়ে জিয়া সড়ক এলাকায় পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে ওৎ পেতে থাকে। রাত ৯টার দিকে মান্না পাহাড়ী তার শিশু কণ্যাকে সাথে নিয়ে ডিম কিনতে বের হয়। সেই সুযোগে রাত সোয়া ৯টার দিকে জিয়া সড়কের মদিনা মসজিদ এলাকায় ইয়াবা সম্রাট রাজা, তার সহযোগী বাদশা, ফিরোজ, নাসির ও সবুজ সহ বেশ কয়েকজন মিলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে মান্নাকে তার শিশু কন্যার সামনে এলোপাথারী কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এক পর্যায় মান্নার মৃত্যু হয়েছে ভেবে তাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এসময় মান্না রাস্তায় পড়ে মৃত্যু যন্ত্রনায় কাতরাতে থাকলেও রাজা বাহিনীর ভয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসতে সাহস পায়নি। পরে খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে প্রায় মৃত অবস্থায় মান্নাকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করে দেয়। এ সময় হিসেবে উল্লেখিত অভিযোগ পুলিশের কাছে তুলে ধরে মান্না পাহারী।

কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) শাহ মো. আওলাদ হোসেন বলেন, মান্নার কাছ থেকে তাকে হামলার বর্ণনা শুনেছেন। হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। খুব দ্রুতই হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি। এদিকে রাতে মান্নার চিকিৎসার খোজ খবর নিতে লোক পাঠিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ। তিনি মান্নার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা করেছেন।