কাউন্সিলর জাহিদ কারা ফটকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ কারাগারে বন্দি দশা থেকে মুক্তির আনন্দ খুব সামান্য সময় উপভোগ করেছেন কাউন্সিলর ও আইনজীবী বিএনপি নেতা মীর জাহিদুল কবির জাহিদ। নগরীর ১৮ নং ওয়ার্ড থেকে একাধিকবার জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়া মীর জাহিদের কারাগারের বন্দি দশা আরো দীর্ঘ হচ্ছে। গত ২৫ দিন ধরে কারান্তরীন থাকা কাউন্সিলর এ্যাড. মীর জাহিদকে গতকাল বৃহস্পতিবার জামিন দেয় জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আনোয়ারুল হক। জামিনের আদেশ পৌছুলে অন্য কোন মামলার পরোয়ানা না থাকায় কারাগারের বন্দি দশা থেকে মুক্তিও মেলে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে জামিনে পাওয়া কারামুক্তি নিয়ে গেটে বের হয় সে। আর সেখান থেকে বাসায় নয়, কোতয়ালী মডেল থানার হাজতে যেতে হয় তাকে। বিএনপির মহানগর শাখার যুগ্ম সম্পাদক এই নেতাকে নাশকতার মামলার হুকুমদাতা আসামী হিসেবে কারা ফটক থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ বলে কোতয়ালী মডেল থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন।
তিনি জানান, নগরীর রুপাতলী এলাকায় তার নির্দেশে অজ্ঞাত আসামীরা ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে। এই ঘটনায় পুলিশের করা মামলার আসামী হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়াও আরো একটি অজ্ঞাত মামলার সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
সরকারী বিরোধী আন্দোলনে হরতাল ও অবরোধে নাশকতার মামলার আসামী হিসেবে গত ২ আগস্ট আদালতে আত্মসমর্পন করেন মীর জাহিদ। জ্যেষ্ঠ মহানগর বিচারবিভাগীয় হাকিম বেগম নুসরাত জাহান জামিন বাতিল করে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী ফারুক হোসেন জানান, গত ১২ মার্চ বরিশাল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট চতুর্থ আমলী আদালত সহ দুটি সেরেস্তা, একটি ভিপি জমি দলিলের কক্ষ এবং বিচারকের খাস কামরায় অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। কোতয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মজিবুর রহমান বাদী হয়ে করা মামলায় শ্যেন এ্যারেষ্ট দেখানো হয়।
বৃহস্পতিবার আদালতে অগ্নিসংযোগের ওই মামলার আসামী হিসেবে বিএনপির জেলা দক্ষিন শাখার সভাপতি এবায়দুল হক চান এবং মীর জাহিদুল কবির জাহিদ জামিন আবেদন করেন। এবায়দুল হক চানের জামিন না মঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠালেও মীর জাহিদুল কবিরের আবেদন মঞ্জুর করেছিলেন। সেই আদেশে কারান্তরীন এ্যাড. জাহিদ মুক্তি পেয়ে গেটে বের হয়। সেখানে পূর্ব থেকে অপেক্ষামান কোতয়ালী মডেল থানার এসআই সাইদুল হকের নেতৃত্বে থাকা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।