কাউনিয়া মাতৃসদনে শিশু মৃত্যুর অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ নগরীর কাউনিয়ায় নগর মাতৃসদন কেন্দ্রে চিকিৎসকের অবহেলায় মায়ের গর্ভে শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বুধবার সকালে এই ঘটনার পর থেকে পালিয়ে বেরাচ্ছেন অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. শহীদুল ইসলাম। এমন অভিযোগ করেছেন মৃত জন্ম নেয়া শিশুর দিন মজুর বাবা রাজু।
তিনি জানান, গরিব এবং অর্থনৈতিক ভাবে অসচ্ছল বিধায় তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে বিসিসির তত্ত্বাবধায়নে পরিচালিত নগর মাতৃ সদন কেন্দ্রে বিনা মূল্যে চিকিৎসা করান। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৫ মে স্ত্রী সাদিকা বেগমকে নগর মাতৃ সদন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এসময় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে সাদিয়ার স্বাভাবিক ডেলিভারীতেই বাচ্চা প্রসব করবে বলে জানান সেখানকার গাইনী চিকিৎসক ডা. শহীদুল ইসলাম।
এদিকে গত ১৫ মে থেকে সাদিয়া প্রসব বেদনায় কাতরাতে থাকলেও চিকিৎসক তার সিজারিয়ানের কোন পদক্ষেপ নয়নি। এর ফলে গত ১৯ মে সাদিয়ার প্রসব বেদনা আরো প্রকট হয়ে যায়। ঐদিন ভোরে সাদিয়া প্রসব বেদনায় অজ্ঞান হয়ে গেলে তাৎক্ষনিক ভাবে দায়িত্বরত নার্স গাইনী ডা. শহীদুল ইসলামকে সংবাদ দেয়। কিন্তু ডা. শহীদুল দায়িত্ব অবহেলা করে কয়েক ঘন্টা পরে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কাউনিয়া নগর মাতৃ সদন কেন্দ্রে তার কর্মস্থলে আসেন। পরে রোগীকে দেখে বলেন, পেটের ভেতরে বাচ্চা মারা গেছে। তাই জরুরী অপারেশন করে বাচ্চা বের করতে হবে। অন্যথায় বাচ্চার মাকেও বাঁচানো সম্ভব হবে না। পরে অপারেশনের মাধ্যমে গৃহবধূর মৃত বাচ্চা প্রসব করান ডা. শহীদুল।
এদিকে বাচ্চা মৃত্যুর সংবাদে স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এক পর্যায় স্বজনদের হামলা থেকে রক্ষা পেতে মাতৃ সদন থেকে পালিয়ে রক্ষা পায় ডা. শহীদুল। এমনকি গতকালও তিনি কর্মস্থলে না গিয়ে পালিয়ে রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন একাধিক সূত্র। তাছাড়া ডা. শহীদুলের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া গেছে।
তবে জানতে চাইলে নগর মাতৃ সদন কেন্দ্রের প্রজেক্ট ম্যানেজার মুনসুর কাদির অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এর ঘন্টা খানে আগে এসে সিজার করা হলে হয়তো বাচ্চাটাকে বাচানো যেতো। এজন্য তিনিও চিকিৎসকের দায়িত্ব অবহেলাকেই দায়ি করনে।
একাধিক সূত্র জানায়, ডা. শহীদুল নগর মাতৃ সদন কেন্দ্রের চিকিৎসক হলেও তিসি সেখানে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন না। তিনি দালাল দিয়ে মাতৃ সদন কেন্দ্রের রোগী ভাগিয়ে নিয়ে যান ব্যক্তিগত চেম্বার ও ক্লিনিকে। তাছাড়া তিনি তার প্রধান কর্মস্থলে না গিয়ে মাসের পর মাস বোনাস বেতন হাতিয়ে নিলেও দায়িত্ব পালন করেন নগরীর ডায়াবেটিস হাসপাতাল ও কাউনিয়া রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে।