কাউনিয়ায় ছুড়ে ফেলে ও ইট দিয়ে পিটিয়ে শিশু কন্যা হত্যা ॥ ঘাতক যুবক গ্রেফতার

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর কাউনিয়া তিন বছর বয়সি শিশু কন্যাকে ছুড়ে ফেলে ও ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে মাদকাসক্ত মানষিক ভারসাম্য হারানো যুবক। গতকাল রোববার দুপুরে পশ্চিম কাউনিয়া এলাকার তালুকদার লেনে এই ঘটনা ঘটে। পুলিশ ঘাতক যুবক রাজাকে (২৬) গ্রেফতার করেছে। একই এলাকার বাসিন্দা মৃত শাহাদাত হোসেনের ছেলে। নিহত শিশু কন্যা খুশী আক্তার পশ্চিম কাউনিয়া এলাকার তালুকদার লেনের হাশেম দারোগার বাড়ির ভাড়াটিয়া শ্রমিক সরদার ইব্রাহিম হাওলাদারের কন্যা। এদিকে শিশু কন্যা হত্যার ঘটনায় নিহতের বাবা ইব্রাহিম বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
নিহতের বাবা ইব্রাহিম হাওলাদার জানান, সকালে যমজ দুই কন্যার মধ্যে খুশী বাড়ির পাশে তালুকদার লেনে খেলতেছিল। তখন গোসলের উদ্দেশ্যে ওই স্থান অতিক্রম করছিলো রাজা। খুশীর ছুড়ে মারা একটি বোতল রাজার গায়ে পড়লে ক্ষিপ্ত হয় সে। তখন রাজা শিশুটিকে ধরে পাকা রাস্তার উপরে ছুড়ে ফেলে। এতে শিশুটি আঘাত পেয়ে কান্না শুরু করে। তখন রাজা পাশে থাকা ইট দিয়ে আঘাত করে শিশুটির মাথা থেতলে দেয়। সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সে। এমন দৃশ্য দেখে শিশুর মা সহ অন্যান্য এগিয়ে আসলে রাজা তাদেরকেও মারধর করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এদিকে ঘটনার পর পরই মুমূর্ষ অবস্থায় শিশুকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালের শিশু সার্জারী ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে কাউনিয়া থানা পুলিশ শিশুর হত্যাকারী রাজাকে সন্ধ্যার দিকে আটক করে। একই সাথে নিহতের বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। বাবা অভিযোগ করেন, রাজা একজন মাদকসেবী। সে ইচ্ছাকৃত ভাবেই জমজ দুই কন্যার একজনকে আছাড় দিয়ে এবং ইট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
এ প্রসঙ্গে বিসিসি’র ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সৈয়দ সাইদুল ইসলাম মামুন জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন। সে মানষিক ভাবে বিকারগ্রস্থ বলে জানিয়েছে স্থানীয় কিছু মানুষ। তবে মাদকাসেবী বলে কোন অভিযোগ পাননি বলে দাবী করেছেন তিনি। তার পরেও বিষয়টি ভালো ভাবে তদন্ত করলেই বেরিয়ে আসবে বলে জানান কাউন্সিলর।
এ বিষয়ে কাউনিয়া থানার ওসি নূরুল ইসলাম জানান, আটক রাজাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সে পুলিশকে জানিয়েছে ইট ছুড়ে মারার কারনে শিশুটিকে আছাড় মেড়ে এবং ইট দিয়ে পিটিয়েছে। তাছাড়া মানুষ বলছে হত্যাকারী যুবকটি নাকি মানষিক বিকারগ্রস্থ। আবার কেউ বলছে মাদকসেবী। তবে মানষিক বিকারগ্রস্থ বলেছে এমন লোকের সংখ্যাই বেশি। তার পরেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।