কাউখালীতে জমে উঠেছে আমন বীজের ভাসমান হাট

কামরুজ্জামান খান, কাউখালী ॥ উপকুলে এখন চলছে আমন আবাদের মৌসুম। মাঠের কৃষক এখন মহাব্যস্ত। চলতি বর্ষা মৌসুমের শুরু থেকে টানা বৃষ্টিপাত আর বৈরী আবহাওয়া ও বীজতলার মাঠে জলাবদ্ধতার কারণে আমনের চারা নষ্ট হয়ে গেছে। আর অন্যদিকে পিরোজপুরের কাউখালীতে জমে উঠেছে এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ আমন চারার বিক্রয়ের ভাসমান বাজার। কাউখালী শহরের দক্ষিণ বন্দর এলাকার চিরাপাড়া সেতুর কাছে সন্ধ্যা নদীর পাড়ে সপ্তাহের শুক্রবার ও সোমবার বসছে আমন চারার হাট। সারা উপকূল জুড়ে আমন চারা মোকাবেলায় বিপন্ন কৃষক ছুটছেন জেলার সর্ববৃহৎ কাউখালীর ওই ভাসমান চারার হাটে।
গত শুক্রবার আমন মৌসুমের আমন ধানের চারার বিক্রয়ের  এ হাটে কয়েক লাখ টাকার আমন চারা বিক্রয় হয়েছে বলে বীজ ব্যবসায়ী ও বীজ ক্রেতাদেও সাথে কথা বলে জানাগেছে।
কাউখালী অঞ্চল অন্যান্য এলাকার তুলনায় জমি উচু বলে এখানে জলাবদ্ধতা তেমন নেই ফলে বীজতলা নষ্ট হয়নি। একারনে অন্যান্য এলাকার কৃষকরা আমন চারার সংকট কাটাতে কাউখালীর এ ভাসমান বীজের হাটে আসছেন। এখানে পিরোজপুর,বরগুনা,ঝালকাঠি ও মাদারীপুরের কৃষক ও বীজ ব্যবসায়ীরা এহাটে বীজ কিনতে আসছেন। পরিবহনে সুবিধার কারনে নৌকা ও ট্রলারে করে ব্যবসায়ীরা ও কৃষকরা এখানে বীজের হাটে আসেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে, কাউখালী অঞ্চলের মাঠ অন্য অঞ্চলের তুলনায়অনেক উচু। ফলে জলাবদ্ধতাও কম। একারনে কৃষকরা বীজতলা করে সফলতার মুখ দেখছেন। এখানে যুগ যুগ ধরে ধান বীজ বিক্রয়ের বাণিজ্যিক বাজার গড়ে উঠছে। এখানে উৎপাদিত ধানের চারা অত্যন্ত ভাল মানের। তাই বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকরা এ হাট হতে চারা সংগ্রহ করছেন। চলতি বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টি আর বৈরী আবহাওয়ার পরও এখানে ভাল ধানের চারা উৎপাদন হয়েছে। একারনে এখানের ভাসমান আমন চারার হাটে ক্রেতা বিক্রেতাদের সমাগম ঘটেছে।
গত আমন মৌসুমে কাউখালীতে ৫ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমন বীজতলার আবাদ হয়। এ মৌসুমে স্থানীয় আমন ও উফশী জাতের আমন মিলিয়ে ৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরী করে কৃষক। এর মধ্যে কাউখালী উপজেলায় ৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমির বীজ স্থানীয় কৃষক ক্রয় করে বাকী ৪ হাজার হেক্টও জমির বীজ বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষক ও ব্যাবসায়ীরা ক্রয় কওে নিয়ে যায়। চলতি বর্ষা মৌসুমে টানা বৃষ্টি আর বৈরী আবহাওয়ার পরও এখানে ভাল ধানের  চারা উৎপাদন হয়েছে। একারনে এখানের ভাসমান আমন চারার হাটে ক্রেতা বিক্রেতাদের সমাগম ঘটেছে।
মাদারীপুর এলাকার বীজ ব্যবসায়ী  জামান জানান, শুক্রবারের ভাসমান বীজের হাটে ৮০ গা(মঠি) মানে একপণ আমন চারা ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা করে বিক্রয় হয়েছে। এ বীজ আবার অন্য অঞ্চলে আরো বেশী দামে বিক্রয় করা হবে। এখানের ভালমানের ধানের চারা পাওয়া যায় বলে এ হাট হতে তিনি বীজ ক্রয় করছেন।
স্বরুপকাঠীর শশীদ গ্রামের কৃষক আব্দুল গফ্ফার বলেন, গত মৌসুমে ৮০ গা ধান চারা সর্বোচচ ৮০০ টাকা করে বিক্রয় হয়েছিল। এবার সারা এলাকায় বীজতলা নষ্ট হওয়ায় সংকট দেখা দেয়। এতে বীজের মূল্য চড়া। গতবারের তুলনায় দ্বিগুনেরও বেশী মূল্যে এবার ধান চারা বিক্রয় হচ্ছে।
কাউখালী উপজেলার  কৃিষ সম্প্রসারন কর্মকর্তা অর্পূব লাল সরকার বলেন, এবার উপকুলীয় অঞ্চলে আমন চারার সংকট চলছে। তবে কাউখালীতে এ সংকট নেই । এখানে এবার ভাল বীজ উৎপাদন করেছেন কৃষক। তাছাড়া এখানে বাণিজ্যিকভাবেই কৃষক আমন চারা উৎপাদন করছেন। ফলে কাউখালীতে গড়ে উঠেছে আমন ধান চারার ভাসমান বাজার।