কলেজ এভিনিউতে মা-মেয়ে অবরুদ্ধ রেখে বাড়ি থেকে উৎখাতের চেষ্টা

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ক্যান্সারে আক্রান্ত স্ত্রী এবং একমাত্র মেয়েকে বাড়ি ছাড়া করতে তাদের ঘরের মধ্যে আটকে বাহির থেকে তালা গালিয়ে দিয়েছে আমেরিকা প্রবাসী বাবা এবং বাড়ির ভাড়াটিয়া। এর ফলে দীর্ঘ সময় মা-মেয়েকে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকতে হয়েছে ঘরের ভেতরে। গতকাল রোববার নগরীর ২০নং ওয়ার্ডের কলেজ এভিনিউ এলাকায় জাহানারা ড্রিম হাউজে এই ঘটনা ঘটে।
এদিকে স্ত্রী-সন্তানের সাথে আমেরিকা প্রবাসী প্রতারক বাবার সাথে দ্বন্দ্বের সুযোগ খুঁজছেন ওই বাড়ির ভাড়াটিয়া ও যমুনা’র ডিলার শামীমুল হক এর বিরুদ্ধে। তিনি ভাড়া বাবদ মোটা অংকের বকেয়া পরিশোধ না করে উল্টো বাড়িটি দখলের চেষ্টা করছেন। এ ক্ষেত্রে পুলিশের নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশনাকেও বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছেন শামিমুল হক নামের বখাটে ভাড়াটিয়া। এর ফলে একদিকে আমেরিকা প্রবাসী বাবার অত্যাচার অন্যাদিকে বাড়ির ভাড়াটিয়া’র ষড়যন্ত্রের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছেন একমাত্র কন্যা লিমা ও তার মা জাহানারা বেগম।
কলেজ এভিনিউ জাহানারা ড্রিম হাউজ’র অংশীদার লিমা জানান, ২০০০ সালে ডিভি লটারী পেয়ে তার বাবা আমেরিকা চলে যান। পরবর্তীতে তিনিও বাবার কাছে চলে যান। তবে সেখানে দ্বিতীয় স্ত্রীর চাপের কারনে বাবার সাথে থাকা হয়নি তার। বাড়ি থেকে বের করে দিলে তিনি সেখানে এক স্বজনের কাছে তিন মাস আশ্রয় নেন লিমা। পরে প্রশাসনিক ঝামেলা এড়িয়ে দেশে ফেরেন তিনি।
লিমা বলেন, তার বাবার বরিশালে তেমন আসা-যাওয়া ছিলো না। আসলেও দু’চারদিনের বেশি থাকতেন না। তার মধ্যেই সকলের অগোচরে পটুয়াখালীর সবুজবাগ এলাকার প্রথম লেনে আব্দুল আজিজ খলিফা’র কন্যা হুরে জান্নাত নামে এক নারীকে বিয়ে করে। এমনকি সেখানে ব্যয় বহুল একটি বাড়িও করা হয়েছে। যার নাম দেয়া হয়েছে লতিফ ভিলা।
এদিকে দীর্ঘ দিন পরে বাবার তৃতীয় বিয়ের বিষয়টি জানতে পারেন লিমা ও তার মা জাহানারা বেগম। কিন্তু সামাজিকতার কারনে তারা বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ার দিকে অগোননি। তার পরেও ক্যান্সারে আক্রান্ত স্ত্রী এবং একমাত্র কন্যাকে পথে বসাতে উঠে পড়ে লাগেন আমেরিকা প্রবাসী আব্দুল লতিফ। নগরীর কলেজ এভিনিউ এলাকার জাহানারা ড্রিম হাউস থেকে নামিয়ে দিয়ে বাড়িটি বিক্রির চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু ১০ শতাংশের ওই জমির মধ্যে ৬ শতাংশ জমি আব্দুল লতিফ এর নামে থাকলেও বাকি ৪টার শতাংশ জমি স্ত্রী জাহানারা ও মেয়ে লিমার নামে থাকায় জমি ও বাড়ি বিক্রি করতে ব্যর্থ হচ্ছেন। আর তাই একমাত্র মেয়ে ও তার অসুস্থ মাকে নানান ভাবে কলংকিত করতে বদমান ছড়াতেও পিছু হটছেন না।
লিমা বলেন, বাবা আমাকে সন্তান এবং মাকে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চাচ্ছেন না। এ নিয়ে বহুবার স্থানীয় ভাবে সালিশ মিমাংসাও হয়েছে। পুলিশ বাবাকে ডেকে নিয়ে আমাদের অধিকার ও মর্যাদা প্রদানের জন্য নির্দেশ করেছেন। কিন্তু তাদের নির্দেশনাও মানছেন না বাবা। উল্টো মাকে তালাক দেয়ার হুমকি দিচ্ছে। এমনকি আমার বিরুদ্ধে বদনাম করছে। যা কোন বাবা একজন মেয়ের বিরুদ্ধে বলতে পারে না। তাছাড়া সম্প্রতি মায়ের উপর অমানসিক নির্যাতন করে বাবা। আর তাই শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়েই আমেরিকা প্রবাসি আব্দুল লতিফ মল্লিকের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে নির্যাতন এবং অনুমতি না দিয়ে বিয়ের একাধিক বিয়ের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়। এতে আরো ক্ষিপ্ত হন আমেরিকা প্রবাসী আব্দুল লতিফ। জাহানারা ড্রিম হাউসের ভাড়াটিয়া শামিমুল হককে সাথে নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পেতেছেন। আমাদের বাড়ি থেকে উৎখাত করতে একের পর এক কৌশল ও অপবাদ দিয়েই যাচ্ছেন। সর্বশেষ গতকাল রোববার সকাল ১০টার দিকে বাবা আব্দুল লতিফ এবং বাড়ির অবৈধ ভাড়াটিয়া শামিমুল হক কৌশলে কলেজ এভিনিউ জাহানারা ড্রিম হাউসের প্রধান ফটকের ক্লোবসিবল গেটে চেইন ও তালা ঝুলিয়ে দেয়। এর জন্য দীর্ঘ সময় মা ও মেয়ে অবরুদ্ধে অবস্থাতে থাকতে হয়েছে বাড়ির ভেতরে। পরে বাইরে থেকে লোক ডেকে তালা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে।
লিমা বলেন, এসব কিছু করে উল্টো দোষ চাপানো হচ্ছে আমাদের ঘারে। বাবা বাড়ির অবৈধ ভাড়াটিয়া শামিমুল হককে ব্যবহার করে আমাদের ঘারে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে। এমনকি শামীমুলের মালামাল আমাদের বাড়ির ভাড়াটিয়া গোডাউনে আটকে রাখা সহ বিভিন্ন অভিযোগ এনে সাংবাদিকদের ডেকে আনেন। এর কারন উল্লেখ করে লিমা বলেন, মা অসুস্থ হওয়া সত্যেও বাবা আব্দুল তার চিকিৎসার জন্য কোন খবর বহন করছে না। তার সকল খচর আমাকেই বহন করতে হচ্ছে। তাই ২০১৫ সালে কলেজ এভিনিউ’র বাড়ির কিছু অংশ গুদাম হিসেবে ৫ বছরের চুক্তিতে শামীমুল হক এর নিকট ভাড়া দেন। সে অনুযায়ী আগামী ২০২০ সালে চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে। ব্যাংকে চেকের মাধ্যমে টাকা পরিশোদের কথা থাকলেও ভাড়া নেয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত গত দুই বছর অথাৎ ২৪ মাসে এক টাকাও ভাড়ার টাকা পরিশোধ করেনি শামীম। আর তাই বকেয়া ভাড়ার পরিমান দাড়িয়েছে ৩ লাখ ৮৯ হাজার টাকা। আমেরিকায় থাকাবস্থায় মোবাইল ফোনে তার কাছে টাকা পাওনা টাকা চেয়েছেন। কিন্তু দেই দিচ্ছি বলে ঘুরে আসছিলো। শুধু তাই নয়, ভাড়ার টাকা না দেয়ার জন্য লিমাকে বিয়ের জন্য প্রস্তাবও দেয় বিভিন্ন মাধ্যমে। ফেসবুক মেসেঞ্জারে নিয়মিত বরক্ত করতে শুরু করে বখাটে শামীম। সর্বশেষ দেশে এসে বকেয়া ভাড়া চাইলে শামীম জানায় টাকা তার বাবা (আব্দুল লতিফ) এর কাছে দিয়ে দিয়েছে। এনিয়ে তাদের মাঝে বিরোধের সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়। মডেল থানার ওসি শামীমকে বকেয়া ভাড়ার টাকা পরিশোধের জন্য বলেন। একই সাথে পুলিশের পরামর্শ অনুযায়ী শামীমকে ঘর ভাড়া ছেড়ে দিতে বলেন লিমা। সে অনুযায়ী শামীম ভাড়া বাবদ এক লাখ টাকা দিয়ে ৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাড়ি খালি করে দেয়ার অঙ্গি দেয় পুলিশের কাছে। এর পরে বাড়িতে কোন মালামাল থাকলে শামীম তা আর ফিরে পাবে না বলেও অঙ্গিকার করে। কিন্তু সে তার কথার বাস্তবায়ন করেনি। বাড়ির গোডাউন থেকে মালামালতো সরানই নয় বরং নানান ভাবে হয়রানি করছে। তাছাড়া চুক্তি অনুযায়ী এক লাখ টাকার একটি চেক দিলেও সেই একাউন্টে কোন টাকা না থাকায় টাকা পাননি তিনি। তাই গোডাউন ভাড়া দেয়ার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী গতকাল বিকালে গোডাউন দেখতে নতুন ভাড়াটিয়ার আসার কথা ছিলো। তাই বাবা ও শামীম যুক্তি করে সকালে বাড়িতে তালা ঝুলিয়ে দেয়। যাতে ভাড়াটিয়ারা এসে ফিরে যান।
লিমা অভিযোগ করেন, বাবা চাইছেন বাড়িটি বিক্রি করতে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয় শামীম বাবাকে হাত করে তার কাছ থেকে বাড়িটি কিনে নিতে চাইছে। এজন্য ভাড়া পরিশোধ করছে না বলে অভিযোগ তার।