কর্মস্থল ত্যাগ করেননি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ এখানো কর্মস্থল ছাড়েননি বরিশাল জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ডিইও) শেখ মো. আক্তারুজ্জামান। উল্টো যে কোন মূল্যে বদলি ঠেকাতে নয়া মিশনে নেমেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে ইতোমধ্যে তিনি শুরু করেছেন তদবির লবিং। এমনকি তাদের ম্যানেজ করতে বরাদ্দ করেছেন ১০ লাখ টাকা ঘুষ। দুর্নীতিবাজ ভারপ্রাপ্ত ডিইও এস.এম আক্তারুজ্জামানের বদলি ঠেকাতে নতুন করে দুর্নীতির মিশন হতাশ করে তুলেছে সংশ্লিষ্টদের।
সূত্রমতে, বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষা অফিসার (ডিইও) এর দায়িত্ব নেন সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শেখ মো. আক্তারুজ্জামন। তিনি ভারপ্রাপ্ত ডিইও’র দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই জেলা শিক্ষা অফিসকে ঘুষ বাণিজ্যের স্বর্গ রাজ্যে পরিণত করেন। যে কারণে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ইট বালু থেকে শুরু করে সর্বস্তরের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা প্রকাশ্যে ঘুষ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়ে।
বরিশালের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত ডিইও আক্তারুজ্জামান অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করেছেন। যে কারণে সিটি বাসিন্দা না হয়েও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষকদের বদলি করে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় নিয়ে আসেন তিনি। তবে এজন্য প্রতি জনের কাছ থেকে সর্বনি¤œ ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ বাণিজ্য করেন তিনি। শুধু তাই নয় মন্ত্রণালয় থেকে বদলি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়ে গত জানুয়ারির এক মাসেই প্রায় অর্ধকোটি টাকার ঘুষ বাণিজ্য করেছে বলে ডিইও অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে এ টাকা তার স্ত্রী এবং সন্তানদের নামে করা ব্যাংক একাউন্টে রেখেছে বলেও সূত্রগুলো নিশ্চিত করেন।
এদিকে এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ভারপ্রাপ্ত ডিইও শেখ মো. আক্তারুজ্জামানের বিরুদ্ধে পত্রিকায় এবং টেলিভিশন মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে টনক নড়ে যায় শিক্ষা অধিদপ্তর কর্মকর্তাদের। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বৃহস্পতিবার বরিশাল থেকে ফরিদপুরের সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে বদলী করা হয় দুর্নীতিবাজ ডিইও আক্তারুজ্জামানকে। তবে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য তাকে ৭ কার্যদিবস সময় দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী চার দিন অতিবাহিত হলেও তিনি নতুন কর্মস্থলে যোগ দেয়ন নি। তবে বদলি ঠেকাতে তদবির লবিং চালিয়ে যাচ্ছেন।
আক্তারুজ্জামানের একটি ঘনিষ্ট সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, শিক্ষা মন্ত্রীর এক দুঃসম্পর্কের ভাতিজা আক্তারুজ্জামানের বন্ধু। যে কারণে তাকে দিয়েই বদলির আদেশ ঠেকাতে মরিয়া হয়ে চেষ্টা চালাচ্ছেন তিনি। এজন্য শিক্ষা মন্ত্রীর ঐ ভাতিজাকে ১০ লাখ টাকা ঘুষ দেয়ার চুক্তিও হয়েছে বলে সূত্রটি নিশ্চিত করেছে। তবে বদলির পরেও আক্তারুজ্জামানের বরিশালে থেকে যাওয়াটা প্রাথমিক শিক্ষাকদের মাঝে ক্ষোভ এবং হতাশার সৃষ্টি করেছে। তাদের দাবী দুর্নীতিবাজ এই ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে স্থায়ীভাবে শাস্তি দেয়া হোক। অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত ডিইও শেখ মো. আক্তারুজ্জামানের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।