কর্মস্থলে ফেরা জন¯্রােতে ঠাসা দক্ষিনাঞ্চলের নৌ ও বাস টার্মিনাল

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ ঈদ পরবর্তি কর্মস্থলমুখি মানুষে ঠাসা দেশের দ্বিতীয় বৃহৎ বরিশাল নদী বন্দর সহ দক্ষিনাঞ্চলের সব নৌ ও বাস টার্মিনালগুলো। গত কয়েক দিন ধরেই ভীড়ে ঠাসা বরিশাল নদী বন্দরে গতকাল পা ফেলার জায়গা ছিল না। গত সোমবার থেকেই রাজধানী ঢাকা সহ চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও সিলেট অঞ্চলের কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মানুষেরা বরিশাল নদী বন্দর থেকে ঢাকা ও চাঁদপুর হয়ে যাত্রা শুরু করে। গতকাল ভীড় ছিল সীমাহিন। আজও একই ধরনের জন¯্রােত অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছেন সরকারীÑবেসরকারী নৌযানের কর্মীগন। সরকারী-বেসরকারী কোন নৌযানেই একটি কেবিন টিকেট মিলছে না।
এমনকি এবারই রাষ্ট্রীয় জাহাজ চলাচল প্রতিষ্ঠান-বিআইডব্লিউটিসি প্রথমবারের মত ঈদ পরবর্তি সময়ে কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের কর্মস্থলে ফেরা কিছুটা নির্বিঘœ করতে নিয়মিতভাবে বিশেষ সার্ভিসের ব্যবস্থা করেছে। সংস্থাটির দায়িত্বশীল মহলের এ সদিচ্ছার কারনে দক্ষিনাঞ্চল থেকে রাজধানী ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মানুষ কিছুটা হলেও নিরাপদে ও নির্বিঘেœ কর্মস্থলে ফিরতে পারছে। শনিবার পর্যন্ত এ বিশেষ সার্ভিস অব্যাহত থাকবে বলে জানা গেছে। গতকাল বরিশাল নদী বন্দর থেকে সংস্থাটির ‘এমভি মধুমতি’ ছাড়াও বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ‘পিএস মাসুদ’ জাহাজটিও ধারণ ক্ষমতার প্রায় আড়াইগুন যাত্রী নিয়ে বরিশালে পৌছে। এখানে ডেকের কিছু যাত্রীকে মধুমতিতে স্থানান্তর করে নিরাপদে মেঘনা পাড়ি দিয়ে ঢাকায় যায় মাসুদ। তবে প্রয়োজনীয় নৌযান থাকা সত্বেও সংস্থাটি তার চট্টগ্রাম-বরিশাল উপকূলীয় ষ্টিমার সার্ভিসটি পূণর্বহাল করেনি। এক্ষেত্রে খোদ নৌ পরিবহন মন্ত্রীর ওয়াদাও বরখেলাপ হয়েছে।
গত কয়েকদিনের মত গতকাল সন্ধায়ও বরিশালÑঢাকা নৌপথে রুট পারমিটধারী ১৪টি বেসরকারী যাত্রীবাহী নৌযানের মধ্যে ১৩টিই বরিশাল থেকে যাত্রী বোঝাই করে ছেড়ে যায়। গত কয়েকদিন ধরেই সন্ধায় বরিশাল থেকে যাত্রী বোঝাই করে রওয়ানা হয়ে বেসরকারী নৌযানগুলো শেষ রাতে ঢাকায় পৌছে সাথে সাথেই যাত্রী নামিয়ে দিয়ে ভোর ৫টার মধ্যেই পুনরায় রওয়ানা হচ্ছে। অনেকটা প্রতিযোগীতা করেই অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এসব নৌযান বরিশালে ফিরে এসে আবার সন্ধায় ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। বুধবার রাত ৮টার দিকে ছেড়ে যাওয়া ‘এমভি সুন্দরবন-৭’ গতকাল শেষ রাতে ঢাকা পৌছে যাত্রীদের নামিয়ে দিয়ে ভোর ৫টার মধ্যেই সেখান থেকে রওয়ানা হয়। গতকাল সকাল ১১টার মধ্যেই নৌযানটি বরিশাল বন্দরে নোঙর ফেলে। গতকাল সন্ধায় পুনরায় নৌযানটি যাত্রী বোঝাই করে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে।
এমনকি এক হাজার থেকে ১২শ যাত্রী বহনাক্ষম প্রতিটি বেসরকারী নৌযানেই ধারন ক্ষমতার দ্বিগুন যাত্রী বহন করলেও গতকাল বেশীরভাগ নৌযানেই তিন থেকে চারগুন পর্যন্ত যাত্রী বহন করতে বাধ্য হয়েছে। বরিশাল নদী বন্দর থেকে গতকাল ছেড়ে যাওয়া ১৩টি নৌযানের কোনটিতেই তিল ধরারও ঠাই ছিল না। দুপুরের আগে থেকেই বরিশাল নৌ টার্মিনালে যাত্রী বোঝাই হয়ে যায়। শুধু বরিশাল মহানগরীই নয় পাশ্ববর্তি জেলা ও উপজেলাগুলো থেকেও বিপুল সংখ্যক যাত্রী গতকাল বরিশাল নৌ টার্মিনাল থেকে ঢাকায় পাড়ী জমান। আজ এবং আগামীকালও ঈদ পরবর্তি কর্মস্থলমুখি এ জন¯্রােত অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছে নৌযান মালিক ও কর্মচারীগন। সে লক্ষ্যে বেসরকারী নৌযান মালিকগনের প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানিয়েছেন তারা।
এদিকে পটুয়াখালী ও ভোলা নদী বন্দর ছাড়াও অন্যান্য লঞ্চ স্টেশন থেকেও রাজধানীমুখি জন¯্রােত অব্যাহত রয়েছে। ভীড় রয়েছে বরিশাল সহ দক্ষিনাঞ্চলের সবগুলো বাস টার্মিনাল থেকেও। দক্ষিনাঞ্চল থেকে গত কয়েকদিন যাবত দিন-রাতে গড়ে প্রায় ২শ যাত্রীবাহী বাস ঢাকায় যাচ্ছে। এছাড়াও খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের বিভিন্ন গন্তব্যেও নিয়মিত ও বিশেষ বাস সার্ভিস চলছে।
রাষ্ট্রীয় সড়ক পরিবহন সংস্থা-বিআরটিসি রাজধানীর সাথে দক্ষিনাঞ্চলের সংক্ষিপ্ত সড়ক পথের বরিশাল-কাওড়াকান্দি রুটে নিয়মিত সার্ভিসের বাইরে বেশ কয়েকটি এসি নন এসি বাস পরিচালনা কলেও যাত্রী ভীড় সামাল দিতে পারছে না। সংস্থাটি বরিশাল থেকে খুলনা, সাতক্ষীরা, যশোর ছাড়াও রাজশাহী, চঁপাইনবাবগঞ্জ, রংপুর ও পঞ্চগড় রুটেও বিশেষ সার্ভিস পরিচালনা করছে।
তবে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় দক্ষিনাঞ্চলের নৌপথে দুর্যোগের তেমন কোন ঝুঁকি ছিলনা গতকাল পর্যন্ত।