কর্মস্থলমুখি মানুষের ভীড়ে ঠাসা রাজধানীমুখি সব যানবাহন

বিশেষ প্রতিবেদক ঈদ উল আজহা পরবর্তি কর্মস্থলমুখি জন¯্রােতে তিল ধরার ঠাই নেই দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বরিশাল নদী বন্দর সহ দক্ষিনাঞ্চলের সবগুলো লঞ্চঘাট সহ বাস টার্মিনালে। গতকাল দুপুর ১২টা থেকেই বরিশাল বন্দরের টার্মিনালে ঢাকা মুখি যাত্রী ভীড় শুরু হয়। বিকেল ৫টার পরে এ নদী বন্দরে আর পা রাখার কোন স্থান ছিলনা। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে রাজধানী সহ সন্নিহিত এলাকার সড়ক যোগাযোগ রক্ষাকারী দেশের দুটি প্রধান ফেরি সেক্টরে গতকাল সকালের পূর্ববর্তি ২৪ ঘন্টায় প্রায় ৯ হাজার যানবাহন পারপারের পরেও আরো ৭শর মত অপেক্ষমান ছিল। দৌলতদিয়া ও কাওড়াকান্দীতে ঢাকামুখি যানবাহনের লম্বা লাইন জন দূর্ভোগ বৃদ্ধি করে চলেছে।

বরিশালÑঢাকাÑবরিশাল রুটে স্বাভাবিক সময়ে যেখানে দৈনিক ৫টি করে বেসরকারী নৌযান যাত্রী নিয়ে বন্দর ত্যাগ করে, সেখানে গতকাল ১৪টি বেসরকারী ও ২টি সরকারী নৌযান ধারন ক্ষমতার তিনগুনেরও বেশী যাত্রী বোঝাই করে ঢাকা অভিমুখে রওয়ানা হয় সন্ধা ৭টার মধ্যেই। নির্ধারিত সময় রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা। এর বাইরেও সকাল ও দুপরে ‘গ্রীন লাইন ওয়াটার ওয়েজ’এর দুটি ক্যটামেরন নৌযান প্রায় দেড় হাজার যাত্রী নিয়ে ঢাকায় গেছে। বরিশাল কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল ও মিনিবাস টার্মিনাল সহ দক্ষিনাঞ্চলের সর্বত্রই ছিল একই চিত্র। বিভিন্ন পরিবহন মালিক ও কর্মীদের মতে, আগামী শনিবার পর্যন্তই কর্মস্থলে ফেরা শ্রমজীবী মানুষের সাথে কর্মজীবীদের ভীড় অব্যাহত থাকবে। তবে এরই মধ্যে রাষ্ট্রীয় জাহাজ চলাচল প্রতিষ্ঠান-বিআইডব্লিউটিসি গতকাল থেকে নিয়মিত স্টিমার সার্ভিসের বাইরে সব বিশেষ সার্ভিস সমূহ বন্ধ করে দিয়েছে।

মঙ্গলবারে ঈদ উল আজহা উদযাপনের পরে বৃহস্পতিবার থেকেই ঢাকা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্মস্থ’লমুখি কর্মজীবী মানুষের ¯্রােত শুরু হয় দক্ষিণাঞ্চল থেকে। শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে বিভিন্ন শিল্প কারখানায় কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের কর্মস্থলে ফেরার পালা। ফলে ঠাঁই নেই ছোট-বড় কোন যাত্রীবাহী নৌযান সহ সড়ক পথের যানবাহনগুলোতেও। বেসরকারী নৌযানগুলো গত তিন দিন ধরেই প্রতিদিন ডবল ট্রিপে বরিশাল থেকে ঢাকায় যাত্রী পরিবহন করছে। ফলে গত তিন দিন গড়ে ১৪টি করে বেসরকারী নৌযানে ৬০হাজারেরও বেশী যাত্রী ঢাকায় ফিরছে। এর বাইরে বিআইডব্লিউটিসি গত কয়েকদিন তার নিয়মিত রকেট স্টিমারের বাইরে বরিশাল, পিরোজপুর ও ঝালকাঠী হয়ে চাঁদপুরÑঢাকায় যাত্রী নিয়ে যাচ্ছে। এমনকি সংস্থাটি অপ্রয়োজনীয়ভাবেই ঈদের দিনও দক্ষিণাঞ্চল থেকে চাঁদপুরÑঢাকা রুটে রকেট ষ্টিমার পরিচালনা ছাড়াও ঈদের পরের দিনও যাত্রী শূন্য বিশেষ ষ্টিমার (?)পরিচালনা করে। কিন্তু আজ থেকে চলতি সপ্তাহ জুড়েই যখন অতিরিক্ত যাত্রী ভীড় অব্যাহত থাকবে, তখন তাদের কোন বিশেষ নৌযান থাকছে না।

তবে ইতোমধ্যে সংস্থাটির দুটি নৌযান বিকলও হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৩মাস ধরে মেরামত শেষে ‘পিএস টার্ণ’ জাহাজটি ঈদের আগে যাত্রী পরিবহনে ফিরলেও তিনটি ট্রিপে যাত্রী পরিবহনের পরে বিকল হয়ে শুক্রবার থেকে ঢাকায় পড়ে আছে। ছয় মাস ধরে ভাড়ী মেরামত শেষে গত ঈদ উল ফিতরের আগে যাত্রী পরিবহনে ফেরা ‘পিএস লেপচা’ জাহাজটিও চলছে খুড়িয়ে। গতকাল সকালে ঢাকা পৌছে নৌযানটিতে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। দু ঘন্টা ধরে প্যডেলে মেরামত শেষে সকাল ১০টার পরে ঢাকা ত্যাগ করে সন্ধা ৬টায় বরিশালে পৌছে যাত্রী বোঝাই করে নৌযানটি পুনরায় ঢাকায় ফেরে। এর সাথে স্ক্্ুর-হুইল ‘এমভি বাঙালী’ নৌযানটিও বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ থেকে যাত্রা করে পিরোজপুর ও ঝালকাঠীর বিভিন্ন স্টেশন থেকে সহ¯্রাধিক যাত্রী নিয়ে ঢাকা ফেরে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর কেবিন সহ ডেকের সীমিত কিছু যাত্রী নিয়ে বাঙালী বরিশাল বন্দর ত্যাগ করে।

গতকাল বরিশাল থেকে ১৪টি বেসরকারী যাত্রীবাহী নৌযানই ধারন ক্ষমতার তিনগুন পর্যন্ত যাত্রী নিয়ে বন্দর ত্যাগ করে। বিআইডব্লিউটিএ, প্রশাসন ও আইনÑশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর সামনে এ ঘটনা ঘটলেও যাত্রী ভীড়ের কাছে সকলেই ছিল অসহায়।

এদিকে রাজধানীর সাথে দক্ষিণাঞ্চলের সংক্ষিপ্ত সড়ক পথের মাওয়া সেক্টরের কাওয়াড়াকান্দী ফেরি ঘাট মুখি বৈধÑঅবৈধ সব যানবাহনেও যাত্রীর কোন কমতি নেই। বিআরটিসি বরিশালÑকাওড়াকান্দী রুটে সকাল-সন্ধা নিয়মিত ও বিশেষ এ/সি বাস পরিচালনা করছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া হয়ে বরিশাল থেকে রাজধানী মুখি বিভিন্ন নামি-দামী পরিবহন সংস্থার বাসগুলোতেও কোন টিকেট নেই। পদ্মার প্রবল ¯্রােত অতিক্রম করেও গতকাল সকাল ৬টার পূর্ববর্তি ২৪ ঘন্টায় পাটুরিয়া সেক্টরে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার যানবাহন পারপার করে বিআইডব্লিউটিসি’র ফেরিগুলো। পদ্মা ও আড়িয়াল খাঁ’র প্রবল বৈরী ¯্রােতের পরেও মাওয়া সেক্টরেও ৩হাজার ৭শর মত যানবাহন পারপার করা হয়েছে।

তবে দুটি প্রধান ফেরি সেক্টরে ৯হাজারের মত যানবাহন পারপারের পরেও দৌলতদিয়াতে প্রায় ৪শ ও কাওড়াকান্দীতে আড়াইশর মত যানবাহন অপেক্ষমান ছিল। যাত্রী ও পণ্য বোঝাই যানবাহনের চাপে দুটি সেক্টরেই পদ্মার পশ্চিম তীরের ঘাটগুলোতে সব ধরনের শৃংখলা ভেঙে পড়ার উপক্রম।

চলতি সপ্তাহ জুড়েই সমগ্র দক্ষিণাঞ্চল থেকে রাজধানী ও চট্টগ্রাম অঞ্চলমুখি কর্মজীবী ও শ্রমজীবী মানুষের এ ¯্রােত কম বেশী অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন ওয়াকিবাহাল মহল। এ অবস্থাতে আগামী শনিবার পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিসি’র নিয়মিত রকেট স্টিমারের সাথে অন্তত একটি নৌযান বরিশাল-চাঁদপুর রুটে পরিচালনার দাবী করেছেন সাধারন যাত্রীগন।