কর্মকর্তা-কর্মচারিদের আন্দোলনে অচল অবস্থা বিসিসি’র

নিজাস্ব প্রতিবেদক ॥ বকেয়া বেতন এবং প্রভিটেন্ড ফান্ডের নামে আত্মসাতকৃত অর্থ জমা দেয়ার দাবীতে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে কর্মচারীদের আন্দোলন কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে নগর ভবন ভিত্তিক সকল প্রকার নাগরীক সেবা থেকে বঞ্ছিত হচ্ছেন নগরবাসী। অচল অবস্থায় পরিনত হতে যাচ্ছে নগর ভবন।
চলমান আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল রোববার সকাল থেকে নগর ভবনের সামনে তাবু টানিয়ে কর্ম বিরতি এবং অবস্থান ধর্মঘট পালন করছেন আন্দোলনরত কর্মচারিরা। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া কর্মবিরতি এবং অবস্থান ধর্মঘট চলবে বিকাল ৩টা পর্যন্ত।
আজ সোমবার মাঠ পর্যায়ে নগর পরিচ্ছন্ন, পানি এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ সহ সকল প্রকার নাগরীক সেবা বন্ধ করে দেয়ার ঘোষনা দিয়েছেন বিসিসি’র আন্দোলনরত সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তবে চলমান লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচির ফলে নগর ভবন ভিত্তিক সকল নাগরীক সেবা বন্ধ হয়ে আছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে নগরবাসীকে। ট্রেড লাইসেন্স, যানবাহন রেজিষ্ট্রেটশন, কর আদায় সহ সকল ক্ষেত্রে নাগরীক সেবা থেকে বঞ্ছিত হচ্ছেন নগরবাসী।
আন্দোলনরত বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের পরিাচ্ছন্নতা কর্মকর্তা দীপক লাল মৃধা বলেন, আমাদের নগর ভবনে বিগত দিনের থেকে বর্তমানে আয় অনেক বেড়েছে। যা আমরাই বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত থেকে নগর কর্তৃপক্ষকে আদায় করে দিচ্ছি। কিন্তু তারপরও আমরা বেতন বঞ্ছিত ।
তিনি বলেন, গত ৫ মাস যাবত আমাদের প্রায় ৫শ জন নিয়োমিত কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন বকেয়া পড়ে আছে। নগরীক সেবার মাধ্যমে যে মুনাফা আদায় হচ্ছে, তা দিয়েই আমাদের বেতন পরিশোধ করার কথা। কিন্তু আমাদের সেই টাকায় ঠিকাদারের বিল পরিশোধ হচ্ছে।
আন্দোলনরত কর্মকর্তা-কর্মচারিরা আরো বলেন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নামে প্রভিডেন্ট ফান্ড খোলা হয়েছে বলে প্রতিমাসে তাদের বেতন থেকে অংশ বিশেষ কেটে রাখা হচ্ছে। কিন্তু মাসের পর পর এই টাকা নিলেও তোলা হয়নি কোন প্রভিডেন্ট ফান্ড। গত ৩৫ মাস যাবত প্রভিডেন্ট ফান্ডের নামে আদায়কৃত কয়েক কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন নগর কর্তৃপক্ষ।
আর তাই বকেয়া ৫ মাসের বেতন এবং প্রভিডেন্ট ফান্ডের টাকা জমা দেয়ার দাবী নিয়ে সর্বস্থরের সাধারন কর্মকর্তা-কর্মচারিরা লাগাতার আন্দোলন কর্মসূচি পালন করছেন। এরই অংশ হিসেবে আন্দোলনের তৃতীয় দিনে আজ রোববার সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত এক ঘন্টা বেশি আন্দোলন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। সকালে কর্মকর্তা-কর্মচারিরা হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করলেও কেউ কর্মস্থলে যোগদান করেননি। তারা কর্মবিরতির পাশাপাশি নগর ভবনের সামনে তাবু টানিয়ে সেখানে অবস্থান কর্মসূচি এবং দাবী তুলে ধরে বক্তব্য রাখছেন।