কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই দৌলতখানে যাত্রীবাহি লঞ্চ নির্মাণ ॥ জনমনে নানা প্রশ্ন

ভোলা প্রতিবেদক ॥ যথাযথ কৃর্তপক্ষের কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই ভোলার দৌলতখানে যাত্রী পরিবহনের জন্য একটি বেনামী লঞ্চ (নৌযান) নির্মাণ করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় লঞ্চ ব্যবসায়ী মোসলেউদ্দিন আবু মিয়া ওই লঞ্চটি নির্মাণ করে থানা সংলগ্ন খালে নোঙর করে রেখেছেন বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে লঞ্চটি একই জায়গায় পড়ে থাকলেও কোন প্রকার ব্যবস্থা নিচ্ছে না নৌ পরিবহন অধিদপ্তর বা আইন শৃঙ্খলারক্ষা বাহিনী। বেনামী ওই লঞ্চটি নিয়ে নানা প্রশ্ন এলাকাবাসীর।
স্থানীয় জেলে রফিজল, আবদুল কাদের , মো. খোকন জানান, গত ৬/৭ মাস ধরে বেনামী এমভি টাইপের একটি লঞ্চ দৌলতখান থানা খালে নোঙর করা অবস্থায় রয়েছে। নাম কিংবা রেজিস্টেশন নম্বর বিহীন ওই লঞ্চটি দীর্ঘদিন একই অবস্থায় পড়ে থাকায় নানা ধরনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। নতুন লঞ্চটি এভাবে পড়ে থাকা নিয়ে প্রশ্নের অন্ত নেই ওই রুটে চলাচলাকারীদের মনে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দৌলতখানের ব্যবসায়ী আবু মিয়া লঞ্চটি নির্মাণের পর থেকেই ওই খালে নোঙর করে রেখেছেন। সমুদ্র অধিদপ্তরের অনুমতি ছাড়া নির্মাণ করায় লঞ্চটি রেজিস্ট্রেশন ও চলাচল করতে পারছে না।
এ বিষয়ে নৌ-পরিবহন অধিদপ্তর বরিশাল অঞ্চলের সার্ভেয়ার মইনুদ্দিন জুলফিকার জানান, গত ৬ মাসের মধ্যে এমন কোন লঞ্চ নির্মানের অনুমতি তারা দেন নি। কোন নকশা বা রেজিস্ট্রেশনও হয়নি। নকশা অনুমোদন ছাড়া যদি কেউ লঞ্চ নির্মাণ করে থাকে তা বেআইনি হবে। এসব বেআইনী নৌযানের রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয় না। অনুমতি ছাড়া কেউ লঞ্চ বা নৌযান নির্মাণ করে থাকলে স্থানীয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। নৌপরিবহন অধিদপ্তর ঢাকার পরিদর্শক সফিক আইয়ুব জানিয়েছেন, লঞ্চ নির্মাণ করতে হলে নিয়মানুযায়ী নৌপরিবহন অধিদপ্তরে নকশা অনুমোদনের আবেদন করতে হয়। ওই আবেদন অনুমোদন হলে একজন নেভাল আর্কিটেকচারের তত্বাবধায়নে জাহাজটি নির্মাণ করা হয়। প্রাথমিক অনুমোদন ও সার্ভে সনদ হেড অফিস (ঢাকা অফিস) থেকে দেওয়া হয়। এগুলো অঞ্চল ভিত্তিক তদারকীর ব্যবস্থা রয়েছে। নকশা অনুমোদ ছাড়া লঞ্চ নির্মাণের কোন সুযোগ নেই। তারপরও কেউ নির্মাণ করে থাকলে সেগুলো রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসবে না এমনকি যাত্রী পরিবহনও করতে পারবে না।
দৌলতখানর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনায়েত হোসেন জানিয়েছেন, গত ৬/৭ মাস ধরে খালে একটি লঞ্চ নোঙর করা আছে। লঞ্চটি আইন কানুন মেনে নির্মাণ হয়েছে কিনা তার জানা নাই। তবে এ বিষয়টি বিআইডব্লিউটিএ’র অধীন হওয়ায় তারা কোন খোঁজ খবর নেন নি। কোন অভিযোগও পাওয়া যায় নি। এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য মোসলেহ উদ্দিন আবু মিয়ার সাথে যোগাযোগ করেও তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নি।