কম খরচে সন্তান নেয়ার পদ্ধতির অধিকার

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ মানুষের নিজের ইচ্ছেমত সন্তান নেয়া ও প্রানীর ক্ষেত্রে বাচ্চা পাওয়ার কম খরচের পদ্ধতি আবিস্কার করেছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষক। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বাবুগঞ্জের এনিমেল সায়েন্স এন্ড ভেটেনারী মেডিসিন অনুষদের সার্জারী এন্ড অবস্টেট্রিন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. অসীত কুমার দাস। গতকাল রোববার এক সংবাদ সম্মেলন করে তার উদ্ভাবিত সুলভ মূল্যের পেপার ডিভাইস সম্পর্কে যাবতীয় ও তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। বরিশাল প্রেসক্লাবের তিন তলায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, থাইল্যান্ডের ল্যাবে কাজ করার সময় ভ্রুণ সংরক্ষনের ডিভাইস এর সমস্যায় পড়ি। বাজারের সবচেয়ে ভালো প্রযুক্তির ডিভাইসের নাম ক্রায়োটোপ যা জাপানি বিজ্ঞানি কুয়াটামা এন্ড কাটো ২০০০ সালে উদ্ভাবন করেন। কিন্তু এর প্রতিটি ডিভাইসের মূল্য ৪০ মার্কিন ডলার বা ৩২০০ টাকা। যা খুবই ব্যয় বহুল। তাই আমার দীর্ঘ আড়াই বছরের গবেষনায় পেপার প্রযুক্তি ডিভাইস উদ্ভাবন করেছি। যার বাজার মূল্য খুবই কম এবং মাত্র ৫ টাকায় ১০০টি ডিভাইস পাওয়া যাবে। পরে ব্যয় বহুল ডিভাইস ক্রয়োটোপের সাথে পেপার ডিভাইসের পর্যালোচনা করে দেখা গেছে ক্রয়োটোপ এ ডিম্বানুর বেচে থাকার হার ৮৯.২ ভাগ, পেপার ডিভাইস এ ৯০.১ ভাগ, কোষ বিভাজনের হার ৪৮ ভাগ। যা পেপার ডিভাইসের মাধ্যমে একই ফলাফল পাওয়া যায়। সুতরাং এই প্রযুক্তি একটি একক ও আদর্শ প্রযুক্তি যার মাধ্যমে ডিম্বানু ও ভ্রুণ দুটোই দীর্ঘক্ষণ হিমায়িত অবস্থায় রাখা সম্ভব। এছাড়াও এই প্রযুক্তি মানুষের ক্ষেত্রেও অধিক কার্যকরী। উন্নত বিশ্বে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সন্তান ধারণে অক্ষম মানুষের ডিম্বানু নিয়ে গবেষনাগারে ভ্রুণ তৈরি করছে এবং সফলতার হার ও অনেক বেশি। তাই এই প্রযুক্তিকে আরও বিকশিত করার লক্ষ্যে একটি ল্যাব এর প্রয়োজন। যেটি স্থাপনে ব্যয় হবে প্রায় কোটি টাকার উপরে। যার ফলে এটা আমার কাছে কষ্টসাধ্য হয়ে দাড়িয়েছে। বর্তমানে সরকার এগিয়ে আসলে এই প্রযুক্তিকে আরও উন্নত করতে সক্ষম হব।