এসিডে ঝলসে গেছে ঘুমন্ত শিশু দুই বোন

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ বানারী পাড়ায় রাতের আধারে ঘুমন্ত শিশু সহ দুই বোনের শরীরে এসিড নিক্ষেপ করেছে দুর্বিত্তরা। গত ১৪ এপ্রিল মঙ্গলবার রাত দেড়টার দিনে এসিডে ঝলসে যাওয়া দুই বোনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। দগ্ধরা হলো উপজেলার বাইশারী ইউনিয়নের গরদদার গ্রামের ইজিবাইক চালক আব্দুল জলিল খান’র দুই মেয়ে ঝুমুর আক্তার তামান্না (১৬) ও কচুয়া রাঢ়িপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩য় শ্রেনীর ছাত্র সুমাইয়া আক্তার ইতি (৯)। এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় মা শাফিয়া বেগম বাদি হয়ে বানারীপাড়া থানায় একজনকে সন্দেহজনক আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এসিড দগ্ধ ঝুমুর আক্তার তামান্না পরিবর্তনকে জানান, গত ১৪ এপ্রিল রাতে তিনি ও তার ছোট বোন ঘরে একটি রুমে ঘুমিয়ে ছিলেন। এসময় জানালা থেকে তার শরীরে এসিড নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। এতে তিনি এবং তার ছোট বোন সুমাইয়ার শরীরের বিভিন্ন স্থান ঝসলে যায়।
এসিড নিক্ষেপের সময় কাউকে চিনতে না পারলেও ঝুমুর জানায়, গত ১৩ এপ্রিল রাতে তাদের পার্শ্ববর্তী নেজারত রাঢ়ির ছেলে হেমায়েত রাঢ়ি তাকে কথা শুনতে বলে। এমনকি তাকে টানা হেচড়া করে সাথে থাকা একটি মোবাইল সেট নিয়ে যায়। এর পরেও হেমায়েতের কথায় রাজি না হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে দেখিয়ে দেয়ার হুমকি দেয় বলে অভিযোগ করেন ঝুমুর। ঐ ঘটনার সূত্রধরেই তার এবং ছোট বোনের শরীরে এসিড নিক্ষেপ করা হতে পারে বলে ধারনা করেন দগ্ধ ঝুমুর।
বানারীপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আল মামুন মামলার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, দগ্ধের মা বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেছে। তবে ঘটনার সাথে কাউকে চিনতে না পারায় আসামীকে গ্রেফতার করা হয়নি। আপাতত দগ্ধদের হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে এই বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তাছাড়া মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মামুন আরো বলেন, প্রাথমিক ভাবে ধারনা করা হচ্ছে পূর্ব শত্রুতার জের ধরেই এসিড নিক্ষেপের ঘটনাটি ঘটেছে।