এসআই আউয়ালের বিরুদ্ধে টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বিমান বন্দর থানার এক এএসআই সহ ৫ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে দেহ তল্লাসির নামে এক ব্যাক্তির টাকা ছিনতাই এর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে উপজেলার মানিককাঠী স্ট্যান্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী নরসুন্দর তাপস চন্দ্র শীল। তাপস উপজেলার রাহুতকাঠী এলাকার বাসিন্দা সুনিল চন্দ্র শীল এর ছেলে এবং পেশায় একজন নরসুন্দর। গতকাল এ বিষয়ে মেট্রাপলিটন পুলিশ কমিশনার বারাবর অভিযোগ করা হলে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য সহকারী পুলিশ কমিশনার (বিমানবন্দর থানা) ফরহাদ হোসেন সরদার এর ওপর দায়িত্ব দেয়া হয়।
ঘটনার বিবরনে ভুক্তভোগী তাপস চন্দ্র শীল জানান, শুক্রবার রাত ১১ টার দিকে তিনি তার এক আত্বীয়কে নিয়ে মানিককাঠী এলাকায় যান। সেখান থেকে ফেরার পথে ওই এলাকায় টহল দায়িত্বে থাকা বিমান বন্দর থানার এএসআই আউয়াল ও তার ৫ কনস্টেবলের দল তাপস চন্দ্র শীল এর পথরোধ করে। এসময় এএসআই টহলে ব্যবহৃত মাহিন্দ্রায় অবস্থান করে কনস্টেবরদের দিয়ে তাপস চন্দ্র শীলকে জেরা করেন। কোথা থেকে আসছেন এমন প্রশ্ন করলে তাপস চন্দ্র শীল জানান তিনি তার এক আত্মীয়কে পৌছে দিতে এসেছেন বলে জানালে ওই কনস্টেবলরা তার দেহ তল্লাসি শুরু করে। এসময় তারা তাপস চন্দ্র শীল এর প্যান্টের পিছনের ডান পাশের পকেটে থাকা ২২ শত টাকা নিরবে হাতিয়ে নেয় বলে জানান তিনি। তল্লাশী করে কোন কিছু না পাওয়া সত্বেও আটকের ভয় দেখিয়ে মাহিন্দ্রায় অবস্থানরত এএসআই আউয়াল এর কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইতে বলে তারা। এই ঘটনা চলাকালিন সময় স্থানীয় বাসিন্দা সেজে থাকা পুলিশের এক দালাল এসে কিছু টাকার বিনিময়ে ছাড়া পাওয়া যাবে বলে তাপস চন্দ্র শীলকে বলেন। এরপর তিনি আরও ৫ শত টাকা দিয়ে ওই স্থান থেকে মুক্তি পান। কিন্তু টাকা দেয়ার পরেও তাকে মারধর ও কান ধরে ওঠবস করায় ওই পুলিশ সদস্যরা। ছাড়ার পর তাকে পেছনে না তাকিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কথা বলেন পুলিশ সদস্যরা। যদি পেছনে তাকায় তবে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় তারা বলে জানান অভিযোগকারী। সকালে বিষয়টি বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এসএম রুহুল আমিনের কাছে জানানো হলে তিনি তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য সহকারী পুলিশ কমিশনার (বিমানবন্দর থানা) ফরহাদ হোসেন সরদার কে দায়িত্ব দেন। গতকাল দুপুরে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে তিনি আলোচনায় বসেন। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান সহকারী পুলিশ কমিশনার (বিমানবন্দর থানা) ফরহাদ হোসেন সরদার। অভিযোগ প্রমানিত হলে অভিযুক্তদের শাস্তির কথাও জানান তিনি। এই ঘটনায় নরসুন্দর তাপস চন্দ্র শীল ন্যায্য বিচার দাবি করে বলেন, একজন পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে এই ধরনের ঘটনা কখনই আশা করা যায় না।