এলজিইডিতে ঠিকাদারকে মারধরের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বিএম কলেজ ছাত্র সংসদের অবৈধ কর্ম-পরিষদের ভিপি মঈন তুষারের নেতৃত্বে এক ঠিকাদারকে মারধর করে নগদ টাকা, চেক ও মোবাইল ফোন ছিনতাই করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতাকল শনিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের বরিশাল অফিসে (এলজিইডি) এই ঘটনায় আহত ঠিকাদার আলাউদ্দিন ভূঁইয়াকে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
ঠিকাদারীর সাথে থাকা মো. কালু জানান, রোযা শুরু হওয়ার পর থেকে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সান্টু ট্রেডার্সের মালিক আলাউদ্দিন ভূঁইয়ার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ভিপি তুষার। ওই টাকা না দেয়ায় সে ঠিকাদার আলাউদ্দিনের উপর ক্ষিপ্ত ছিলো। শনিবার সকালে সে ও আলাউদ্দিন ভূঁইয়া ব্যক্তিগত কাজে এলজিইডিতে যায়। এই সময় ১০/১২ টি মোটর সাইকেলে মঈন তুষারের নেতৃত্বে একটি দল এসে চাঁদার ৫ লাখ টাকা দাবি করে। ওই টাকা না দেয়ার কথা জানালে মঈন তুষার ও তার সাথে থাকা ক্যাডাররা আলাউদ্দিন ভূঁইয়ার উপর হামলা করে। তারা তাকে মারধরের পর সাথে থাকা নগদ সাড়ে তিন লাখ টাকা, একটি টাকার পরিমান উল্লেখ না করা ব্যাংকের চেক ও মোবাইল ফোন সেট ছিনিয়ে নেয়। পরে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে। এই ঘটনায় আলাউদ্দিন ভূঁইয়া মামলা করবে বলে মো. কালু জানিয়েছেন।
আলাউদ্দিন ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, তুষার কিছুদিন ধরে ঈদ খরচ বাবদ তার কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবী করে আসছিল। চাঁদা না দেয়ায় গতকাল অফিস চত্ত্বরে পেয়ে তাকে লাঞ্চিত করে তুষার ও তার ক্যাডাররা। এসময় তার সাথে থাকা সাড়ে ৩ লাখ টাকা, যমুনা ব্যাংকের ইস্যুকৃত ১ লাখ টাকার চেক সহ বই এবং একটি দামী মুঠোফোন তুষার ও তার বাহিনী ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেন প্রথম শ্রেনীর ঠিকাদার আলাউদ্দিন ভূঁইয়া। এ ঘটনায় থানায় মামলা করার কথা বলেন তিনি।
সূত্র জানিয়েছে, আলাউদ্দিন ভূঁইয়াকে ৭ কোটি টাকার কাজ গুছ প্রক্রিয়ায় পাইয়ে দেয় তুষার ও তার বাহিনী। এই কাজের বিটমানির ৩৬ লাখ টাকার চেক দেয়া হয়। ওই চেক তুষার প্রজন্ম লীগ নেতা বাবুর কাছে রাখতে দেয় সে। পরে বাবু, আলাউদ্দিন ভূঁইয়া ও ছাত্রলীগের জেলার সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক সেই টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে। ওই টাকার জন্য তুষার দীর্ঘদিন ধরে আলাউদ্দিনকে চাঁপ প্রয়োগ করে। কিন্তু সে বিষয়টি এড়িয়ে থাকে। শনিবার তাকে পেয়ে মারধর করেছে।
তবে ছাত্রলীগ নেতা মঈন তুষার জানান, ৩ মাস আগে সাড়ে ৪ কোটি টাকার টেন্ডারের ৫২ লাখ টাকা বিটমানি উঠানো হয়। এর মধ্যে ৫টি দরপত্র (সিডিউল) বাবদ তিনি নিজে সাড়ে ১২ লাখ এবং জেলা ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ও স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা মাহমুদুল হাসান বাবুও প্রায় ২৫ লাখ টাকা পাবেন। আর ১৫ লাখ টাকা পাবেন এক নেতা। কিন্তু যারা দরপত্র কিনেছিল, তাদের কোন টাকা না দিয়ে ৫২ লাখ টাকার চেক নিয়ে গেছেন ওই নেতা। তুষার বলেন, তিনি অন্য কাউকে চেনেন না। ওই কাজ নিয়েছে আলাউদ্দিন, তাকেই বিটমানি থেকে ৫টি দরপত্রের টাকা দিতে হবে।
এই ঘটনা সম্পর্কে প্রজন্ম লীগ নেতা বাবু বলেন, ওই টাকা তার ও জেলা ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দের। সেই অনুযায়ী তারা নিয়েছেন। সেখান থেকে তুষার অনৈতিকভাবে চাঁদা দাবি করে।
জেলা ছাত্রলীগ সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আলাউদ্দিন ভূঁইয়া তার এবং বাবু ভাইয়ের নামে চেক দেয়। ওই টাকা দিয়ে ২৬টি দরপত্র ক্রেতার প্রত্যেককে ১ লাখ করে এবং যেসব পোলাপাইন টেন্ডারের দিন পরিশ্রম করেছে তাদের মাঝে ৪ লাখ টাকা ভাগবাটোয়ারা করে দেয়া হয়েছে।
এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রুহুল আমীন জানান, তার কার্যালয়ের বাইরে দুই দল ঠিকাদারের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন। কিন্তু পরক্ষনে তিনি বাইরে বেড়িয়ে আর কাউকে পাননি।
কোতয়ালী মডেল থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন বলেন, টেন্ডারবাজির বিটমানির টাকার ভাগবাটোয়ারা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক এবং ধাক্কা-ধাক্কির ঘটনা ঘটেছে। ঠিকাদার আলাউদ্দিন ভূঁইয়া থানায় এসে মৌখিকভাবে অভিযোগ করে চলে গেছেন। তিনি লিখিত অভিযোগ দিলে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করবে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পেলে মামলা হবে, মিথ্যা হলে মামলা হবেনা।