এরশাদের সফর নিয়ে জাপার দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি সমাবেশ আহবান

রুবেল খান॥ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে আগামী ৮ জুন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি আলহাজ্ব হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বরিশাল আগমন। সেই সাথে এদিন বরিশাল জেলা ও মহানগর জাতীয় পার্টির দুই গ্রুপের মধ্যে বড় ধরনের রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষের আশংকাও করছেন সংশ্লিষ্টরা। ৮ জুন নগরীর অশ্বিনী কুমার হল প্রাঙ্গনে একই সময় জাতীয় পার্টির বিবাধমান দুই পক্ষের পাল্টা-পাল্টি সমাবেশ কর্মসূচি দেয়ায় এমন সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে তৃনমুল পর্যায়ে।
এদিকে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছেন পাল্টা-পাল্টি সমাবেশের নামে আইন শৃঙ্খলার ব্যাঘাত ঘটালে তা বরদাস্ত করা হবে না।
জাতীয় পার্টি বরিশাল মহানগর সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক এ্যাড. এ.কে.এম মুরতজা আবেদীন পরিবর্তনকে জানান, আগামী ৮ জুন তাদের মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন পার্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ। এছাড়াও পার্টির উচ্চ পর্যায়ের নেতারা বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এজন্য সকল আয়োজন ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছেন তারা।
এদিকে পার্টির চেয়ারম্যান হুমেইন মুহাম্মদ এরশাদের বরিশাল আগমন ঠেকাতে ইতোপূর্বে সভা সমাবেশ এবং সংবাদ সম্মেলন করেছে জাতীয় পার্টির বিবাধমান মহসিন উল ইসলাম হাবুল ও মীর জসিম উদ্দিন গ্রুপ। তবে এবার শুধু পার্টির চেয়ারম্যানই নয়, পুরো সমাবেশ বাধাগ্রস্থ করতে কৌশল এটেছেন তারা। আগামী ৮ জুন সকাল ১০টায় অশ্বিনী কুমার হলের একই স্থানে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষনা দিয়েছেন এই গ্রুপটি। জেলা ও মহানগর পর্যায়ে জাতীয় পার্টির তৃনমুল কর্মী সমাবেশ নামে এই কর্মসূচিতেও প্রধান অতিথি করা হয়েছে পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদকে।
গতকাল শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় নগরীর লঞ্চঘাট এলাকায় বিআরটিসি বাস কাউন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের তৃনমুল কর্মী সমাবেশ আয়োজনের তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি মহসিন উল ইসলাম হাবুল।
তিনি জানান, পার্টির চেয়ারম্যানের সাথে তৃনমুল সম্মেলনের বিষয়ে আলাপ করেছেন। তার সম্মতিতেই এই সমাবেশ আয়োজন করা হয়েছে। তাছাড়া সম্মেলন সফল করার লক্ষে ইতোমধ্যে বরিশাল মেট্রো পলিটন পুলিশ কমিশনার এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশন থেকে লিখিত অনুমতি পেয়েছেন। পোষ্টার, লিফলেট বিতরনের পাশাপাশি করা হচ্ছে প্রচারনা। বাকি যে কাজটুকু রয়েছে তা আগামী ৬ ও ৭ জুনের মধ্যে সম্পন্ন হবে। এ কর্মসূচিতে বরিশাল জেলা ও মহানগরের কয়েক হাজার নেতা-কর্মীর অংশগ্রহন নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
একই স্থানে পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মহসিন উল ইসলাম হাবুল বলেন, জাতীয় পার্টির ক্ষুদ্র একটি মহল বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে সম্মেলনের আয়োজন করেছে। কিন্তু মহলটির সাথে হাতে গোনা কয়েকজন নেতা-কর্মী ছাড়া শীর্ষ স্থানীয় পর্যায়ের কোন নেতা-কর্মী নেই।
তিনি বলেন, ঐদিন অশ্বিনী কুমার হলে আমাদের শান্তিপূর্ন কর্মসূচিতে কেউ বাধা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করে কর্মসূচি সফল করবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি মীর জসিম উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক বশির আহম্মেদ ঝুনু, সহ-সভাপতি রুস্তম আলী খান, যুব সংহতি মহানগর সভাপতি গোলাম মোর্শেদ ফোরকান তালুকদার, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. আব্দুল জলিল, জেলা শ্রমিক পার্টির সভাপতি আব্দুস ছালাম বেপারী, মহানগর শ্রমিক পার্টির সাধারন সম্পাদক শাহজাহান মোস্তান, জাতীয় মহিলা পার্টির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মরিয়ম বেগম প্রমুখ।
এদিকে জাতীয় পার্টি মহানগর সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক এ্যাড. এ.কে.এম মুরতজা আবেদীন বলেন, আমরা পুলিশ কমিশনার এবং সিটি কর্পোরেশন থেকে সম্মেলনের অনুমতি নিয়েছি। তাছাড়া পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ নিজে থেকেই আমাদের অনুষ্ঠানের অনুমতি দিয়েছেন।
তিনি বলেন, যারা একই সময় পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে তারা পার্টির কেউ হতে পারে না। কারন এই অনুষ্ঠানটির পার্টির চেয়ারম্যানই অনুমতি দিয়েছে। যারা এই কাজটি করছে তারা অবশ্যই কোন একটি এজেন্ডা নিয়ে নেমেছে। আর এই এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্যই পাল্টা কর্মসূচি দিয়েছে। তা না হলে নিজেদের মধ্যে যে মতবিরোধ রয়েছে তা অন্যভাবে সমাধান করা যেত।
তছাড়া জেলার সভাপতি মহসিন উল ইসলাম হাবুল এর সমালচনা করে তিনি বলেন, তার মনমানষিকতায় সমস্যা রয়েছে। তা না হলে একজন থার্ড ক্লাস পাওয়া ছাত্র কিভাবে দীর্ঘ বছর একটি কলেজে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করে। জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কর্মসূচি বাধাগ্রস্থ করতে যে পাল্টা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে তাও মহসিন উল ইসলাম হাবুলের ষড়যন্ত্র উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেহেতু আমরা প্রশাসনের অনুমতি নিয়েই কর্মসূচির আয়োজন করেছি, সেহেতু কেউ বাধা প্রদান করলে প্রশাসনই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করবে।
বরিশাল মেট্রো পলিটন পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধুরী জানান, মহানগর জাতীয় পার্টির সম্মেলনের জন্য শুধু মাত্র প্রস্তুতি কমিটিকে অনুমতি দেয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যকাউকে একই স্থানে কর্মসূচি পালনের জন্য অনুমতি দেননি। এমনকি তার কাছে অপর কোন পক্ষ এ ধরনের আবেদনও করেনি।
তিনি বলেন, কর্মসূচি পালনের নামে কেউ নগরীতে কাউকে বিশৃঙ্খলা করতে দেয়া যাবে না। বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করা হলে তার বিরুদ্ধে কঠর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।