এমপি মাহাবুব ও তার ক্যাডারদের হাতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাঞ্চিত

পটুয়াখালী সংবাদদাতা ॥ ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ না করে ভোট কেন্দ্রে অবস্থানকারী নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটকে লাঞ্চিত করেছে পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাঁবালী) আসনের এমপি ও সাবেক পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী মো. মাহাবুবুর রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার রাঙ্গাঁবালী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে জাল ভোট দেয়ার অপরাধে ছাত্রলীগ কর্মীকে ৬ মাসের সাজা দেয়ায় এই ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনা ঘটলেও ওই কেন্দ্রে নিয়োজিত আইনশৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে উর্দ্ধতণ কর্মকর্তাদের সাথে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লাঞ্চিত ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এছাড়াও গংগীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে প্রবেশ করার সময় ওই আসনের সংসদ সদস্য মাহাবুবুর রহমান তালুকদার তার স্ত্রী প্রীতি রহমানসহ তাদের দলীয় নেতা-কর্মীরা প্রতিপক্ষ বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী রহমান আলী (মাষ্টার) সমর্থকদের তোপের মুখে পড়ে। ওই নির্বাচনে দায়িত্বরত বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার একাধিক সদস্য, প্রত্যক্ষদর্শী ভোটার, প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্ট ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিন কাজীর হাওলা সরকারি পাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়ার সময় হাতে নাতে ধরে স¤্রাট নূর নামের এক ছাত্রলীগ কর্মীকে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দেন ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ এরশাদ উদ্দিন। এরপর দুপুর দেড়টার দিকে বাহেরচর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে অবস্থান করছিলেন ওই ম্যাজিস্ট্রেট। এ সময় এমপি মাহাবুবুর রহমান তালুকদার তার সমর্থকদের নিয়ে কেন্দ্রে ঢুকে স¤্রাটকে সাজা দেয়ার বিষয় উল্লেখ করে ম্যাজিষ্ট্রেটকে অশালীন ভাষায় গালাগাল শুরু করেন। এক পর্যায়ে এমপি মাহাবুব উত্তোজিত হয়ে এরশাদ উদ্দিনকে গালাগাল করার এক পর্যায়ে অশোভন আচরন শুরু করেন। এ সময় ওই ম্যাজিস্ট্রেটকে সেখান থেকে তাড়িয়ে দিতে নিজেই উদ্ধুদ্ধ করেন তার সাথে থাকা নেতা-কর্মীদের। এমপি মাহাবুবের নির্দেশ পেয়ে ওই ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে অসৌজন্য মূলক আচরন করতে থাকে উপস্থিত নেতা-কর্মীরা। ধর ধর বলে নেতা-কর্মীদের ডাক চিৎকারে নিরাপত্তাহীনতার পরও একাই তড়িঘড়ি করে ওই কেন্দ্র থেকে রেব হয়ে ওই ম্যাজিস্ট্রেট একাই রাঙ্গাবালী থানায় গিয়ে আশ্রয় নেয়। পটুয়াখালী জেলা কালেক্টরটের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ এরশাদ উদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, দলীয় কর্মীকে কেন সাজা দেয়া হলো এমন প্রশ্ন করে তার সাথে থাকা নেতা-কর্মীকে উত্তেজিত করে তোলেন এমপি মাহাবুব। এমনকি জাল ভোট দিতে বাঁধা দেয়ায় তিনি ও তার লোকজন বারবার তেড়ে ওই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে মারতে দফায় দফায় উদ্যত হয়ে এক পর্যায় ধাক্কা দিয়ে ওই কেন্দ্র বের করে দিলে তিনি ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। তিনি আরো জানান, এ ঘটনার সময় তিনি পুলিশের কোন প্রকার সহযোগিতা না পেয়ে নিরুপায় হয়ে জীবনের নিরাপত্তার কথা ভুলে গিয়ে একাই বের হয়ে থানায় গিয়ে আশ্রয় নেন। তার দেয়া খবর পেয়ে থানায় উপস্থিত হন নির্বাচনের দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিমুল হক। বিস্তারিত ঘটনা শুনে পুলিশ কর্মকর্তা আজিম তাকে আস্বস্ত করেন ওই কেন্দ্রে নিয়োজিত সদস্যদের মধ্যে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি রাঙ্গাবালী থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করবেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিমুল হক জানান, নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এরশাদ উদ্দিন বিষয়টি আমাকে জানান যে, এমপি সাহেবের বেআইনি নির্দেশনা পালন না করায় তাকে গালাগাল করেন এবং এক পর্যায়ে তার সাথে অশোভন আচরন করার পর তার সাথে থাকা লোকজন কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যেতে বাধ্য করেন তাকে। এছাড়াও ইউপি নির্বাচন সংক্রান্ত অভিযোগসহ সকল বিষয়ই উপরোস্থ কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। পুলিশ সুপার সৈয়দ মোসফিকুর রহমান সাংবাদিকদের জানান, আইনগত বিষয় নিয়ে একটু ঝামেলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটা তেমন কোন বড় ঘটনা নয়। দায়িত্ব পালনে পুলিশ সদস্যদের ব্যর্থতা আছে কি নেই তা খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন জেলা প্রশাসক অমিতাভ সরকার। বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সরকারের সর্বোচ্চ সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি জানিয়েছেন তিনি। অপরদিকে, কলাপাড়া উপজেলা থেকে আসা ছাত্রলীগের কর্মীদের সাথে বিএনপি সমর্থীত প্রার্থীর কর্মীদের সাথে সংঘর্ষ হয়। এতে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এসএম সোহগ, ছাত্রলীগ নেতা বিপ্লব, রিপনসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এমপি মাহবুব ও তার স্ত্রী তড়িৎ ওই কেন্দ্র থেকে বের হয়ে স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা ওই ইউনিয়নের সাবেক মেম্বর নুরুল ইসলাম খলিফার বাড়ীতে আশ্রয় নেন। প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকরা ওই বাড়িতে গিয়ে মেম্বরের বসত ঘরে হামলা ও ব্যাপক ভাংচুর চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে তাদেরকে উদ্ধার করে রাঙ্গাবালী উপজেলা সদরের বাহেরচর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসে।
বিএনপি’র বিদ্রোহী প্রার্থী রহমান আলীর অভিযোগ, ওই কেন্দ্রে প্রভাব বিস্তার করে এমপি সাহেবের ভাগ্নে চেয়ারম্যান প্রার্থী হুমায়ুন তালুকদারের কর্মীদের দখল দিয়ে জাল ভোট দেয়ার জন্য এমপি ও তার স্ত্রীসহ সংগিদের কেন্দ্রে প্রবেশকালে তার (রহামান) নিজের সমর্থক ও স্থাণীয় গ্রামবাসী তাদেরকে তাড়িয়ে দিয়ে জাল ভোট মুক্ত করে কেন্দ্রটি।
এ বিষয়ে এমপি মাহাবুবুর রহমান তালুকদারের ব্যবহৃত ০১৭১২৭১৮৫৪১ নম্বরের মোবাইলে বার বার যোগাযোগ করেও পাওয়া যায়নি।