এমপি বি এইচ হারুণের হোটেল রেইনট্রি ॥ অস্ত্রের মুখে দুই ছাত্রী ধর্ষণের পর বিশ্বব্যাপি আলোচনায়

বিশেষ প্রতিবেদক ॥ এটা দি রেইনট্রি হোটেল। রাজধানীর অভিজাত এলাকা বনানী এলাকায় অবস্থিত। বনানী মাঠের পাশে ‘কে’ ব্লকের ২৭ নং রোডের ৪৯ নং বাড়িতে দ্য রেইনট্রি হোটেলটির যাত্রা শুরু হয় গত বছরের ডিসেম্বরে। হোটেলটি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে পাঁচ তারকা (ফাইভ স্টার) মানের এবং আন্তর্জাতিক রিভিউতে চার তারকা (ফোর স্টার)। এখানে বিয়ে কিংবা জন্মদিন, ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ বা ডিনার সব প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা রয়েছে। শুধু তাই নয়, এই প্রেমময় পরিবেশে আপনি যা চান তাই পাবেন। এমনটিই বলেছেন হোটেল কর্তৃপক্ষ। তাদের ওয়েবসাইটের শুরুতে পরিচিতি ও কাস্টমারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ইংরেজিতে যা বলা হয়েছে তার বাংলা অর্থ দাঁড়ায় ‘আমাদের কক্ষগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা যেটা প্রত্যেকের প্রয়োজন পূরণে সক্ষম। এই প্রেমময় পরিবেশে আপনি যা চান তাই পাবেন।
একই অংশে বলা হয়েছে, আপনি কোনো পারিবারিক ছুটি বা রোমান্টিক অভিজ্ঞতা বা কোনো ব্যবসায়িক মিটিং বা কোনো ইভেন্ট আয়োজন করতে চান; আমাদের রয়েছে আপনার প্রয়োজন পূরণের সব ধরণের কক্ষ।
একটি জন্মদিনের পার্টিতে ডেকে এনে দুই ছাত্রীকে অস্ত্রের মুখে রাতভর ধর্ষণের কারণে এই অভিজাত হোটেলটি বর্তমানে দেশে-বিদেশে আলোচনায় উঠে এসেছে।
রেইনট্রি হোটেলটির মালিক বাংলাদেশি হলেও ব্যবস্থাপনা আন্তর্জাতিক। এর মালিক বজলুল হক হারুন। তিনি আওয়ামী লীগ দলীয় বর্তমান সংসদ সদস্য। তার নির্বাচনী এলাকা ঝালকাঠী জেলার রাজাপুর উপজেলায় (ঝালকাঠী-১)। আর মহাব্যবস্থাপক (জিএম)ফাঙ্ক ফরগেট। তিনি একজন বিদেশি নাগরিক।
বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকার একটি নাম করা অন লাইন পত্রিকার প্রতিবেদক যান।  দি রেইনট্রি হোটেলে গিয়ে প্রথমে অস্ত্রসজ্জিত নিরাপত্তারক্ষীর বাধার মুখে পড়তে হয় ঐ প্রতিবেদককে। এসময় অপর একজন নিরস্ত্র নিরাপত্তারক্ষী এগিয়ে এলে এই প্রতিবেদক সাংবাদিক পরিচয় দেন। পরে প্রতিবেদককে হোটেলটির প্রবেশমুখে সিঁড়ির একপাশে অপেক্ষা করতে বলা হয়।
প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষার পর হোটেলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফাঙ্ক ফরগেট এবং এক্সিকিউটিভ ইন্টারনাল অপারেশন (ইআইও) ফারজান আরা রিমি আসেন। কথা হয় তাদের সঙ্গে। এসময় তারা জানালেন গত বছরের ডিসেম্বরে এই হোটেলের যাত্রা শুরু হয়। হোটেলের মালিক বাংলাদেশি হলেও এটি আন্তর্জাতিক মানের হোটের। বর্তমানে এখানে দেশীয় প্রেক্ষাপটে পাঁচ তারকা এবং আন্তর্জাতিক মানে চার তারকা মানের সুযোগ সুবিধা রয়েছে।
এই কর্মকর্তাদ্বয় এবং ভিন্ন কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে ১১তলা এই ভবনে মোট ৪১টি বিলাসবহুল কক্ষ রয়েছে। রয়েছে চারটি রেস্টুরেন্ট ও ১টি পার্টি সেন্টার, সুইমিংপুল, ব্যায়ামাগার (জিম) ও বারসহ  নানাবিধ সুবিধা।
চারটি ক্যাটাগরির কক্ষের ভাড়ার তালিকায় দেখা যায় প্রতিরাতের জন্য সর্বোচ্চ ৫৫০ ডলার বা প্রায় ৪৫ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ২৫০ ডলার বা সাড়ে ২৪ হাজার টাকা করে নেয়া হয়। এই হোটেলের বিশেষত্ব কি জানতে চাইলে জিএম ফাঙ্ক ফরগেট বলেন, হোটেলটি বাংলাদেশে বা এর মালিক বাংলাদেশি হলেও হোটেলের ম্যানেজমেন্ট আন্তর্জাতিক মানের। তিনি জানান, হোটেলটিতে মোট ৭৭ জন দেশি-বিদেশী কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। ২৪ ঘন্টা সশস্ত্র নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আছে। হোটেলের বাইরে-ভেতরে রয়েছে ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তবে আন্তর্জাতিক নির্দেশনা অনুযায়ী সর্বশেষ ৩০ দিনের ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে। আমরা পুলিশকে সার্বিক সহযোগিতা করছি। আমাদের কাছে তারা যা চেয়েছেন আমরা আমাদের নিয়মের মধ্যে থেকে সব রকম তথ্য সরবরাহ করেছি।
বর্তমানে তাদের ব্যবসায় কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা আন্তর্জাতিক নিয়মে পরিচালিত হই। অতএব আমাদের কোনো সমস্যা হওয়ার কথা নয়। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনে যা হয় তাই হবে।
তবে ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার পর থেকে সাংবাদিকদের আসা যাওয়ায় আমরা বেশ বিব্রত ও সময় নষ্ট হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এক্সিকিউটিভ ইন্টারনাল অপারেশন (ইআইও) দায়িত্বে আছেন ফারজান আরা রিমি।