এমইপি গ্রুপের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এমইপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সিরাজ উদ্দিন চাকলাদার এর বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অপপ্রচারের প্রতিবাদ এবং সৎ ভাই ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন বোন ফরিদা ইয়াসমিন শ্যামলি। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় শহীদ আব্দুর রব সেরনিয়াবাত বরিশাল প্রেসক্লাবের সাংবাদিক মাঈনুল হাসান মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এর পূর্বে গত ১৪ই আগস্ট এমইপি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও দুই সৎ ভাইয়ের বিরুদ্ধে হুমকি ও জোর করে স্বাক্ষর গ্রহনের অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন নগরীর বাজার রোড এলাকার বাসিন্দা মৃত জালাল আহমেদ এর পুত্র মো. জাহান আহমেদ।
গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে ফরিদা ইয়াসমিন শ্যামলি’র পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ ইমন। লিখিত বক্তব্যে ফরিদা ইয়াসমিন শ্যামলি অভিযোগ করে বলেন, গত ১৪ আগস্ট আমার সৎভাই জাহান আহমেদ মৃধা একটি সংবাদ সম্মেলন করে আমাদের পরিবার এবং আত্মীয়দের নামে অত্যন্ত কুরুচিপূর্ণ, অসত্য ও মানহানিকর বক্তব্য উপস্থাপন করেছে। এজন্য ক্ষুব্ধ এবং তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, আমার পিতা মরহুম জালাল আহমেদ মৃধা তার জীবদ্দশায় বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের ফরিদা বেগমকে দ্বিতীয় বিবাহ করেন। তার গর্ভে খুশবু নাহার এবং জাহান মৃধা জন্ম গ্রহন করে। আমার পিতা ১৯৯৬ সালে মৃত্যু বরন করেন। তার মৃতুর পরে ওয়ারিশ হিসাবে আমার পিতা প্রথম স্ত্রী অর্থাৎ আমার মা এবং আমরা ২ বোন, ৩ ভাই এবং বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী ও তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
তিনি বলেন, আমার পিতার বাকেরগঞ্জের সম্পত্তি তার দ্বিতীয় স্ত্রী ফরিদা বেগম ভোগ দখল করেন এবং বরিশাল নগরীর পেয়াজপট্টির বাড়িতে আমাদের মায়ের সাথে আমরা ভাই-বোনেরা থাকতাম। এর মধ্যে আমাদের ভাই আবু বক্কর সিদ্দিকি ভুট্টো ২০০২ সালে আমেরিকাতে অবিবাহিত অবস্থায় মারা যান। বসবাসের সুবিধার্থে আমার সৎ মা বরিশালে আমাদের বসত বাড়িতে তাদের প্রাপ্ত অংশ বিক্রির প্রস্তাব দেয়। তখন আমার মা মাকসুদা বেগম আলেয়া সৎ মা ফরিদা বেগম ও তার কণ্যার অংশ  ২০০৬ সালের ২৬ ডিসেম্বর ছাপকবলা (দলিল নং ৮৭০০) মুলে ক্রয় করেন। তাছাড়া সৎ ভাই জাহান আহমেদ মৃধার অংশ বিক্রির জন্য একই দিন আমার মায়ের কাছ থেকে নগদ অর্থ গ্রহন করে। এমনকি পাওনা বুঝে নিয়ে চলে যায়। যার বায়না দলিল নং- ৮৭০১। কিন্তু জাহান নাবালক হওয়ায় তার পক্ষে দলিল সম্পাদনের অনুমতি নেয়ার জন্য ২০০৭ সালের ৮ আগস্ট সিনিয়র জজ আদালতের পারমিশন মামলা দাখিল করেন। যার মামলা নং- ৩৯/২০০৭। এ মামলায় জাহানের মা তার মেয়ে খুসবুন্নাহার এর জন্ম ১৯৯১ সালের ১৬ মে এবং জাহান এর জন্ম তারিখ দেখান ১৯৯৭ সালের ২৫ নভেম্বর। সে অনুযায়ী আদালত শুধুমাত্র আধা শতাংশ জমি বিক্রির অনুমতি প্রদান করেন। কিন্তু পরবর্তীতে জাহানের মা অসুস্থতার পাশাপাশি বিভিন্ন কারন দেখিয়ে দলিল সম্পাদক করেননি।
এদিকে জাহান একটু বড় হয়ে তার প্রাপ্ত সম্পত্তি বিক্রির কথা বলে আমাদের কাছ থেকে একাধিকবার টাকা গ্রহন করে। তাছাড়া এক সময় অসৎ সংগে মিশে মাদক সেবন ও বিক্রয় এর সাথে জড়িত হয় সে। এমনকি ২০১২ সালে কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের হাতে ইয়াবা সহ আটকও হয়েছিলো জাহান। যার মামলা নং জিআর ৬৪১/১২। জেল থেকে জামিনে বের হয়ে তার অংশের সম্পত্তি বিক্রির কথা বলে। এজন্য আমরা তার কাছে ইতিপূর্বে দেয়া টাকা ফেরত চান। এজন্য আর্থিক ভাবে লাভবান হতে পারবে না বুঝে তার দোসর নগরীর এক সময়ের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ক্রস ফায়ারে নিহত সুহাদ এর ভাই মেহেদী হাসান মুরাদকে আমমোক্তার নিযুক্ত করে। জাহান পৈতৃক সূত্রে ১দশকি ৫ শতাংশ জমি পাইলেও মুরাদ গং আমমোক্তার নামা দালিলে ১ দশমিক ৬০ শতাংশ সম্পত্তি লিখিয়ে নেয়। ইতিমধ্যে জাহান আহমেদ এর বিরুদ্ধে জিআর ৬৪১/১২ (মাদক) মামলায় গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হলে সে আত্মগোপনে চলে যায়।
অপরদিকে সন্ত্রাসী মেহেদী হাসান মুরাদ আমমোক্তারকৃত সম্পত্তি আমাদের অভিভাবক এবং ফুফাত ভাই এমইপি গ্রুপের চেয়ারম্যান সামসুল আলম চাকলাদার সিরাজ এর নিকট বিক্রির চেষ্টা করে। কিন্তু তিনি ওই জমি ক্রয়ে অপরাগতা প্রকাশ করে সন্ত্রাসী মুরাদ ও তার সহযোগিরা ক্ষিপ্ত হয়। তাছাড়া আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষায় আমরা দেওয়ানি মোকদ্দমা দায়ের করি। পাশাপাশি জাহান তার ভুল বুঝতে পেরে বিভিন্ন সময়ে নগদ অর্থ গ্রহন করে আমমোক্তার নামা বাতিলের জন্য দেওয়ানী মামলা ১৮১/১৭ সদর সিনিয়র জজ আদালতে দাখিল করেন। কিন্তু পরবর্তীতে গ্রহন কৃত টাকা শেষ হয়ে যাওয়ায় পুনরায় টাকা দাবী করলে তা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে জাহান পুনরায় মুরাদ ও তার সহযোগিদের সাথে যুক্ত হয়ে আদালতে দাখিলকৃত ১৮১/১৭ মামলাটি উত্তোলন এবং পরবর্তীতে ১৪ই আগস্ট বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একটি কথিত, ভিত্তিহিন অভিযোগ তুলে সাংবাদিক সম্মেলন করে। তাছাড়া জাহান ১ দশমিক ৬০ শতাংশ জমি আমমোক্তার দেয়ার কথা সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করলেও ওয়ারিশ হিসেবে সম্পত্তি ভাগ করা হলে তিনি আরো কম সম্পত্তি পাবে। তাছাড়া সংবাদ সম্মেলনে আমাদের ফুফাত ভাই এমইপি গ্রুপের চেয়ারম্যান এর নিকট জুনের শেষ দিকে জাহানকে আটক এবং স্বাক্ষর অভিযোগ পুরোপুরিই ভিত্তিহিন। কেননা ওই সময় তিনি চিকিৎসার জন্য স্ব-পরিবারে বিদেশে ছিলন। আমাদের সাহায্য সহযোগিতা কারায় তাকে আমাদের কাছ থেকে দুরে সরিয়ে নেয়ার জন্যই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার এবং ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এমনকি জাহান এর মায়ের দায়ের করা পারমিশন মামলা অনুযায়ী জাহানের জন্মতারিখ ১৯৯৭ সালের ২৫ নভেম্বর হলেও পরবর্তীতে জাহান জালজালিয়াতির মাধ্যমে নিজের জন্মতারিখ ১৯৯১ সালের ৩ জুন দেখিয়ে আমমোক্তার নামা দাখিল করেন বলে সংবাদ সম্মেলনে ফরিদা ইয়াসমিন শ্যামলি অভিযোগ করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তার ভাই সংগিত আহমেদ বাবুসোনা উপস্থিত ছিলেন।