এবার পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও ঝাড়–দারের বেতন আত্মসাত বিসিসি’র প্যানেল মেয়র বাদশার বিরুদ্ধে ফের তদন্তের নির্দেশ

অতিথি প্রতিবেদক ॥ বয়স্ক ভাতা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগের পর এবার পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও ঝাড়–দারদের নামে বেতন তুলে আত্মসাতের কুৎসিত অভিযোগ উঠেছে প্যানেল মেয়র ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মোশারেফ আলী খান বাদশার বিরুদ্ধে। ওই ওয়ার্ডের সাবেক পরিচ্ছন্নতা কর্মী সোহেল হাওলাদার এবং ঝাড়–দার সেতারা বেগম তাদের বেতন আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিয়েছেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে। প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রণজিৎ কুমার অভিযোগ পাওয়ার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, অভিযোগ দুটি তদন্ত করতে প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত কাউন্সিলর মোশারেফ আলী খান বাদশা দাবি করেছেন, তিনি কোন পরিচ্ছন্নতা কর্মী কিংবা ঝাড়ুদারের বেতন উত্তোলন করে আত্মসাত করছেন না। তার জানা মতে এমন কোন ঘটনা তার ওয়ার্ডে নেই।
পরিচ্ছন্নতা কর্মী সোহেল হাওলাদার তার অভিযোগপত্রে বলেছেন, তিনি ২০০২ সাল থেকে নগরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে দৈনিক মজুরী ভিত্তিতে পরিচ্ছন্নতা কর্মী হিসেবে চাকুরী করতেন। কিন্তু ২০১৩ সালের জুন মাসের নির্বাচনে মোশারেফ আলী খান বাদশা কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পর করপোরেশনের কাজ বাদ দিয়ে কাউন্সিলরের ঠিকাদারী কাজে নিযুক্ত করতে বাধ্য করা হয়। চাকুরী হারানোর ভয়ে সোহেল হাওলাদার কাউন্সিলরের হুকুম মত তার ঠিকাদারী এবং ব্যক্তিগত কাজ করতেন। এ জন্য তাকে কোন বাড়তি ভাতা দেওয়া হত না। কাউন্সিলরের ওই অবৈধ আদেশ-নির্দেশ পালনে অপারগতা প্রকাশ করায় ২০১৩ সালের জুলাই থেকে মৌখিকভাবে কাউন্সিলর মোশারেফ আলী খান বাদশা সোহেলকে বরখাস্ত করেন। বহু অনুনয় বিনয় করেও সোহেল তার চাকুরী ফিরে পাননি। লিখিত অভিযোগে সোহেল বলেছেন, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে তিনি করপোরেশনে যোগাযোগ করে জানতে পারেন তার চাকুরী আছে এবং নিয়মিত বেতন উত্তোলন হয়। সোহেলের অভিযোগ অনুযায়ী, কাউন্সিলর মোশারেফ আলী খান বাদশা তার ৩২ মাসের বেতন জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে উত্তোলন করে আত্মসাত করেছেন।
অনুরূপ অভিযোগ করেছেন, সেতারা বেগম নামের এক সাবেক ঝাড়ুদার। সেতারা বেগম তার অভিযোগে বলেছেন, তিনি ২০১১ সাল থেকে দৈনিক মজুরীর ভিত্তিতে ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে ঝাড়ুদার হিসেবে নিয়োগ পান। ২০১৩ সালের জুন মাসে সিটি নির্বাচনে একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা হওয়ায় সেতারা বেগম কাউন্সিলর মোশারেফ আলী খান বাদশার প্রচার-প্রচারণায় অংশ নেননি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে একই বছরের জুলাই থেকে কাউন্সিলর মোশারেফ আলী খান বাদশা মৌখিকভাবে সেতারা বেগমকে চাকুরী থেকে বরখাস্ত করেন। কিন্তু খোঁজ নিয়ে সেতারা বেগম জানতে পারেন, তার চাকুরী বহাল আছে এবং নিয়মিত বেতন উত্তোলন করা হয়। সেতারা বেগমের অভিযোগ, কাউন্সিলর বাদশা তার স্বাক্ষর জাল করে বেতন উত্তোলন করে আত্মসাত করছেন।
সোহেল হাওলাদার ও সেতারা বেগমের দেওয়া অভিযোগ অনুযায়ী অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, তাদের নামে নিয়মিত হাজিরা রেজিস্ট্রার করে বেতন তোলা হয়েছে। সেক্ষেত্রে প্রতিমাসে ৪,৩৫০ টাকা করে ৩২ মাসে সোহেল হাওলাদারের ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ২শ’ এবং সেতারা বেগমের ৭৪ হাজার ২৪০ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র জানায়, শুধু সোহেল হাওলাদার এবং সেতারা বেগমেরই নয় কাউন্সিলর মোশারেফ আলী খান বাদশা তার দ্বিতীয় স্ত্রীর ছোট ভাই সাইফুল ইসলামকে পরিচ্ছন্নতা কর্মী দেখিয়ে ভুয়া ছবি দিয়ে নিয়মিত বেতন তুলে আত্মসাত করছেন। একইভাবে হাফিজা বেগম ও ফাতেমা বেগম নামের দু’জন ঝাড়ুদারের বেতনও আত্মসাত করছেন কাউন্সিলর। অভিযোগ আছে, ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের ২৬ জন পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও ঝাড়ুদারের মধ্যে প্রায় অর্ধেকের ভুয়া নাম ঠিকানা দিয়ে অথবা মৌখিকভাবে বরখাস্ত করে তাদের বেতন ভাতা উত্তোলন করে কাউন্সিলর মোশারেফ আলী খান বাদশা প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করছেন।
উল্লেখ্য, গত মাসে কাউন্সিলর বাদশার বিরুদ্ধে নামে-বেনামে বয়স্ক ভাতা তুলে আত্মসাতের অভিযোগ করা হয় সিটি করপোরেশনের বয়স্ক ভাতা কমিটির সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রণজিৎ কুমারের কাছে। ওই অভিযোগ তদন্তের জন্য, ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান ১৭ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর আক্তারুজ্জামান হিরু জানান, তারা বয়স্ক ভাতা আত্মসাতের অভিযোগ তদন্ত করছেন। খুব শিগগিরই প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিবেন।