এবার ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে বিএম কলেজ অশান্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ ছাত্রাবাসের ডাইনিং দখলকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের মাঝে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বরিশাল সরকারি বিএম কলেজের মুসলিম হলে এই ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও বিএম কলেজ ছাত্র নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আসে। এ ঘটনায় তেমন কেউ আহত হয়নি বলে কোতয়ালী মডেল থানার ওসি শাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন।
বিএম কলেজের মুসলিম হলের একাধিক ছাত্র জানায়, ইতিপূর্বে মুসলিম হলে ডাইনিং ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলো কথিত ভিপি মঈন তুষারের সমর্থক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র রুহুল। ৩০ এপ্রিল শনিবার তার দায়িত্বের শেষ দিন ছিলো। সে জন্য কলেজ শিক্ষকরা মুসলিম হলে নতুন ডাইনিং ম্যানেজার নিয়োগ দেয়ার জন্য মিটিং করে। কিন্তু বিলুপ্ত হওয়া অবৈধ কর্মপরিষদের ভিপি মঈন তুষারের সমর্থক রুহুল তার দায়িত্ব ছাড়তে অপারগতা প্রকাশ করে।
এদিকে নতুন ডাইনিং ম্যানেজার হতে আগ্রহ প্রকাশ করে অবৈধ কর্মপরিষদের কথিত জিএস এবং সম্প্রতি র‌্যাবের হাতে অস্ত্র সহ আটক হওয়া সন্ত্রাসী নাহিদ সেরনিয়াবাতের সমর্থক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র কবির। তার পাশাপাশি বিএম কলেজ ছাত্রলীগ নেতা রইচ আহম্মেদ মান্না’র সমর্থক অপর এক রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র সুমনও ডাইনিং ম্যানেজার হওয়ার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করে। এ নিয়ে কবির ও সুমনের মাঝে বিরোধ ও হাতাহাতির সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তুষার সমর্থক রুহুল ও নাহিদ সমর্থক কবির এক হয়ে তাদের বাহিনী নিয়ে মান্না সমর্থক সুমন ও তার লোকেদের উপর হামলা চালায়। এ নিয়ে দুই গ্রুপের মাঝে তুমুল সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।
খবর পেয়ে কোতয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাখাওয়াত হোসেন সহ পুলিশের একাধিক টিম ও জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং বিএম কলেজ ছাত্র নেতা আতিকুল্লাহ মুনিম ও মহানগর ছাত্রলীগ নেতা রিফাত হোসেন রাব্বি ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। তবে পরবর্তী অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওসি শাখাওয়াত হোসেন।