এবার গণপূর্তে ছাত্রলীগের টেন্ডার সন্ত্রাস, ভাংচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে প্রায় ৬ কোটি টাকার দরপত্র জমা দেয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে ৪ জন আহত হয়েছে। এ সময় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কক্ষের আসবাবপত্র ভাংচুর করা হয়। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশ থাকলেও তারা নির্বিকার ছিল বলে অভিযোগ করেছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের ৪র্থ শ্রেনীর কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি নাজমুর রহমান বাদল। গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্র জানায়, দপদপিয়া সেতুর পূর্বপ্রান্তে বরিশাল সদর উপজেলা কর্নকাঠীতে মেরিন একাডেমীর ৬ তলা বিশিস্ট কোয়ার্টার নির্মানের ৫ কোটি ৯০ লাখ ৬৬ হাজার টাকার দরপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল গত মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত। এর আগে এই কাজের বিপরীতে ৬টি দরপত্র বিক্রি হয়। এই কাজের দরপত্র জমা দেয়ার নির্ধারিত স্থান ছিল গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় এবং বিভাগীয় কমিশনার ও ডিআইজি অফিসে রক্ষিত দরপত্রে বক্সে। জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক দরপত্র জমা দিতে গেলে কথিত ছাত্রলীগ নেতা মঈন তুষার ও তার বাহিনী বাধা দেয়। এক পর্যায়ে রাজ্জাক দরপত্রটি বাক্সে ফেললে মঈন তুষারের সাথে রাজ্জাকের বাকবিতন্ডা হয়। এর জের ধরে মঈন তুষারের নেতৃত্বে রাজ্জাকের উপর হামলা চালানো হয়। অপরদিকে রাজ্জাকের নেতৃত্বে হামলা প্রতিহত করতে গেলে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কক্ষে মঈন তুষার ও তার অনুসারীরা ব্যাপক ভাংচুর চালায়। মঈন তুষার জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা সেরনিয়াবাত সাদেক আব্দুল্লাহর নাম ধরে অকথ্য ভাষা উচ্চারণ করলে রাজ্জাকপন্থীরা মঈন তুষারসহ তার অনুসারীদের মারধর করে। জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, তার বড় ভাই নুরুল আমীন গত সোমবার ক্রয়কৃত দরপত্র মঙ্গলবার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর কার্যালয়ে জমা দিতে যায়। এ সময় তাকে বাঁধা দেয়ার জন্য আগে থেকে সেখানে অবস্থান নেয়া বিএম কলেজ ছাত্রলীগের বহিস্কৃত মঈন তুষার ও তার লোকজন। খবর পেয়ে তিনি (রাজ্জাক) সেখানে গেলে তাকেও গালাগাল করে তুষার। এ নিয়ে বাদানুবাদ হলেও তিনি বাঁধা উপেক্ষা করে দরপত্র জমা দেন। এ সময় মঈন তুষার এবং তার অনুসারীরা রাজ্জাক ও তার অনুসারীদের উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। রাজ্জাকের অভিযোগ, মঈন তুষার এর আগে বিএম কলেজের অধ্যক্ষকে মারধর এবং কলেজ ভাংচুর করেছে। ওই ঘটনার পর কেন্দ্র এবং মহানগর কমিটি তুষারকে দল থেকে বহিস্কার করে। সে ছাত্রলীগের কেউ নয়। হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএম কলেজে ছাত্র সংসদের আদলে গঠিত ছাত্র কর্ম পরিষদের ভিপি মঈন তুষার জানান, তিনি গণপূর্তের তালিকাভুক্ত ঠিকাদার। তিনিসহ অন্যান্য ঠিকাদাররা মঙ্গলবার দরপত্র জমা দিতে গেলে তাদের বাঁধা দেয় কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা সাদেক আবদুল্লাহ’র অনুসারী জেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক ও তার সহযোগিরা। এ নিয়ে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে রাজ্জাক ও তার সহযোগিরা সাধারন ঠিকাদারদের উপর হামলা চালায়। এতে তার ৪ অনুসারী আহত হয়। ভাংচুর করা হয় তত্ত্ববধায়ক প্রকৌশীর কার্যালয় এবং একটি মোটরসাইকেল। ঘটনাস্থলের আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনের দায়িত্ব থাকা কোতোয়ালী মডেল থানার এসআই মুরাদ জানান, দরপত্র জমা দেয়া নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি হয়েছিল। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে। গণপূর্তের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনির হোসেন তার অফিস কক্ষে দরপত্র জমা দেয়া নিয়ে দুই পক্ষের হাতাহাতির কথা স্বীকার করেছেন। গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মু. জাকির হোসেন জানান, দরপত্র জমা দেয়া নিয়ে শুরুতে কিছুটা ঝামেলা হলেও পরবর্তীতে আগ্রহী সব ঠিকাদার দরপত্র জমা দিতে পেরেছেন। এই কাজের বিপরীতে বিক্রি হওয়া ৬টি দরপত্রের ৩টি দরপত্রে বক্সে জমা পড়েছে। উল্লেখ্য বরিশালে যে প্রতিষ্ঠান থেকে ঠিকাদারী কাজ বের হয় তা গুজ’র দায়িত্ব নেয় রাজ্জাক বাহিনী ও তুষার বাহিনী। তারা ক্ষমতাসীন দলের ঠিকাদারকে কাজ বাগিয়ে দেয়ার জন্য বড় অংকের টাকা চুক্তি করে। ওই চুক্তি অনুসারে দরপত্র জমাদানের দিন তাদের ক্যাডার বাহিনী নিয়ে সেই সকল অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। এরপর চলে মোটরাসাইকেল মহড়া। এর মধ্যে কিছু কিছু ক্যাডার আগ্নেয়াস্ত্রও ব্যবহার করে। কিন্তু মিডিয়ার ক্যামেরায় যাতে ধরা না পড়ে এ কারণে অস্ত্রধারীরা দূরবর্তী স্থানে অবস্থান নেয়। এভাবে এলজিইডি, গণপূর্ত বিভাগ, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর, জেলা পরিষদ এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগ থেকে বের হওয়া ঠিকাদারী কাজ গুজ করতে ছাত্রলীগের রাজ্জাক বাহিনী, তুষার বাহিনী এবং জসিম বাহিনীর বেপরোয়াভাবে নিয়ন্ত্রণ করলেও ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ নিশ্চুপ ভূমিকা পালন করছেন।