এপ্রিলে বরিশাল-ঢাকা নৌ-পথে চলবে সুরভী-৯

সিদ্দিকুর রহমান ॥ বরিশাল-ঢাকা নৌ-পথে চলাচল শুরুর অপেক্ষা শেষ পর্যায়ে রয়েছে বিলাস বহুল সুরভী-৯ লঞ্চের। আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে চলাচল শুরু করবে বলে জানিয়েছে নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষ। দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি যাত্রী ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর এই লঞ্চটি কীর্তনখোলা নদীর তীরে বেলতলা ফেরিঘাট এলাকায় গড়ে ওঠা ডক ইয়ার্ডে নির্মাণ করা হয়েছে। দেশি ও বিদেশী প্রযুক্তিতে তৈরি হচ্ছে বিলাস বহুল এই লঞ্চ বর্তমানে ডক ইয়ার্ড থেকে পানিতে ভাসানোর কাজ চলছে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে রঙের প্রলেপ দেয়া হচ্ছে।
স্বত্ত্বাধিকারী রিয়াজুল কবির জানান, সুরভী -৯ লঞ্চটির দৈর্ঘ্য ৩৫০ ফুট এবং প্রস্থ ৫০ ফুট। যা অন্যান্য লঞ্চের তুলনায় অনেক বেশি। এছাড়াও সুসজ্জিত শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত একক, দ্বৈত, ভিআইপি এবং সেমি ভিআইপি প্রায় ২০০ কক্ষ রয়েছে। ঢাকা-বরিশাল রুটের সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ যাত্রী বহন করতে সক্ষম হবে এ লঞ্চ। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও ডিজাইনে তৈরিকৃত লঞ্চটির সব দরজা সুদুর চীন থেকে আমদানি করা হয়েছে। সু-প্রশস্ত বারান্দা ও সিড়ির জন্য লঞ্চটির সৌন্দর্য অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছে। এছাড়াও লঞ্চটিতে শিশুদের খেলাধুলার জন্য আধুনিক গেইমজোনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। যেখানে শিশু খেলাধুলা করার সুযোগ পাবে। লঞ্চটি পরিচালনার জন্য প্রথম শ্রেণির মাষ্টার নিয়োগ করা হবে। এছাড়াও লঞ্চটি চলাচলের জন্য ২ হাজার ৫শত হর্স পাওয়ারের ২টি মেশিন সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রতির্কল আবহাওয়ায় লঞ্চটি চলাচলের জন্য রাডার, ইকো সাউন্ডার, ফন্টলাইট, হাইড্রোলিক ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়াও যাত্রীদের সর্বাত্মক সেবা দেয়ার জন্য প্রায় ৭০-৭৫ জন কেবিন ক্রু কাজ করবে। লঞ্চ নির্মাণে ২ বছর সময় লেগেছে। এ লঞ্চে ৩২ শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অগ্নিনির্বাপনের জন্যে সর্বোচ্চ অগ্নি নির্বাপন যন্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। যাত্রীদের সেবা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় চলাচল করবে বলে তিনি জানান।