এতিম ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের নামে প্রতারনার মাধ্যমে অর্থ আয়

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ নগরীর অলস ও পরিশ্রমের কাজ থেকে নিজেকে দূরে রেখে অর্থ আয় করে কতিপয় ভন্ড ব্যক্তি। ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুজি করে এরা নগরীর পার্ক এবং জনসমাগমের স্থানে আসা দর্শনার্থীদের কাছ থেকে এতিমখানা, মাদ্রাসা ও মসজিদের সাহায্যের নামে প্রতারনার মাধ্যমে টাকা আয় করে। সংশ্লিষ্ট ওইসব প্রতিষ্ঠানের মদদে চক্রটি প্রতারনা করার প্রমানও মিলেছে। নগরীর প্লানেট ওয়ার্ল্ড শিশু পার্ক, মুক্তিযোদ্ধা পার্ক, লঞ্চঘাট, সদর রোড, বাস টার্মিনাল, বঙ্গবন্ধু উদ্যানে এই চক্রটি বেশি সক্রিয়। এছাড়াও যাত্রা পথের লঞ্চ ও বাসেও এরা প্রতারনার মাধ্যমে টাকা আদায় করে।
শুক্রবার নগরীর মুক্তিযোদ্ধা পার্কে নগরীর পলাশপুরের মোহাম্মদপুর এলাকার ফজলুল উলুম বহুমুখী ক্যাডেট মাদরাসার জন্য টাকা আদায় করছে এক ব্যক্তি। কিছুক্ষন তাকে অনুসরন করে দেখা গেছে, পার্কে আসা নারীদের কাছে গিয়ে টাকা দাবি করে। যতক্ষণ পর্যন্ত টাকা না দেয়া হয়, ততক্ষণ নারীদের পিছু ছাড়ে না। যারা টাকা দেয় না। তাদের উদ্দেশ্যে কটুক্তি করে ওই ব্যক্তি। এতে অবসর সময় কাটাতে আসা নারীরা অস্বস্তিকর পরিস্থিতির শিকার হয়।
ওই ব্যক্তির সাথে আলাপকালে তার নাম মো. ফারুক হিসেবে জানিয়েছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জন্য স্বেচ্ছাশ্রমে ওই টাকা আদায় করে না সে। আদায় করা টাকা থেকে সপ্তাহে ওই মাদ্রাসা কতৃপক্ষকে সে ৪০০ টাকা দেয়। বাকি টাকা নিজের বলে জানিয়েছেন ফারুক।
সে জানায়, চার সদস্যর পরিবারের ব্যয় মাদ্রাসার নামে আদায় করা অর্থের কমিশন থেকে হয়।
ফারুক জানায়, কোন ব্যবসায়ী এবং পুরুষরা তাকে সাহায্য না করার ফলে সে নারীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ে অভিনব পথ ব্যবহার করছে। নগরীর আশেপাশের অনেক মাদ্রাসার রশিদ দিয়ে অর্থ আদায় করার কথা স্বীকার করেছে সে। ওই সকল মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাকে একটা কমিশন দেয় বলে জানিয়েছেন।
কিন্তু দর্শনার্থীরা জানিয়েছেন, এই লোকটি প্রায় দিনই কোন না কোন মাদ্রাসার রসিদ নিয়ে মহিলাদের পিছে নাছোরবান্দা ভূমিকায় ছোটে। কারও কাছ থেকে জোর পূর্বক অর্থ আদায় করলে তাদেরকে কোন রশিদ না দিয়ে সটকে পড়ে ফারুক। তার দেয়া রশিদে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কোন সিল থাকে না। এতে সন্দেহ হলেও ধর্মের প্রতি বিশ্বাস ও ভীতি থাকায় মেনে নেয়া হয়। কিন্তু প্রতারনার মাধ্যমে নেয়ার জন্য শাস্তির আওতায় আনার দাবি করেছেন তারা।
রশিদে পাওয়া ফজলুল উলুম বহুমুখি ক্যাডেট মাদ্রাসার ০১৯১৮৮৫৬৫৩০ নম্বরে ফোন করলে মাদ্রাসার পরিচালক (নাম জাননি) পরিচয় দিয়ে একব্যক্তি জানান, তাদের মাদ্রাসা গত ১ মাস আগে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। নগরীর ৫ নং ওয়ার্ড মোহাম্মদপুর এলাকার অবস্থিত এই এতিমখানা ও লিল্লাহ বোডিংয়ে ১০ জন এতিম রয়েছে। যাদের সহায়তার জন্য অর্থ উঠানো হয়। এসময় তিনি জানান, ফারুক নামের ওই ব্যক্তি সপ্তাহে ৪ শত টাকা দেয়ার শর্তে মাদ্রাসার রশিদে টাকা উত্তোলনের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
এতিমখানার পরিচালকের কাছে নারীদের কাছে জোরপূর্বক টাকা উত্তোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয় কিছু জানেন না বলে এড়িয়ে যান। এরপর তাকে যে প্রশ্নই করা হয়েছে তার কোন সদুত্তর না দিয়েই মাদ্রাসায় দেখা করার আমন্ত্রণ জানান পরিচালক।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ- পরিচালক মোঃ মোশাররফ হোসেন জানান, এতিমখানার নামে টাকা উঠানো আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। কারণ বর্তমান সরকার নিবন্ধনভূক্ত এতিমখানাগুলোতে নানা রকম সাহায্য সহযোগিতা করে আসছে। তারপরেও কারো বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।