এজলাসের অভাবে ভোগান্তিতে বিচার প্রার্থীরা

ওয়াহিদ রাসেল॥ বরিশাল আদালতে বিচার বিভাগীয় হাকিমদের (জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট) এজলাসের অভাবে প্রতিনিয়তই ভোগান্তির স্বীকার হচ্ছে বিচারপ্রার্থীরা। একই সাথে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে বিচারক সহ আদালতের অন্যান্য কর্মকর্তা কর্মচারীদের। দেখা দিয়েছে আদালতের কাজ সহ বিচার বিড়ম্বনা। যার প্রভাব পড়ছে অসহায় হয়ে আদালতের দরবারে আসা বিচারপ্রার্থীদের উপর। এই রমজানে মামলার সাক্ষ্য দিতে এসেও ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে আদালতের সামনে। বিচারপ্রার্থীদের জন্য আদালত প্রাঙ্গনে কোন বসার স্থান বা ছাউনি না থাকায় তারা ভিড় করছে এজলাস কক্ষে বা সামনে। কেউবা এই বৃষ্টিতে ভিজে ভিজেই বিচারের আশায় ঘন্টার পর ঘন্টা আদালতের সামনে অপেক্ষমান থাকে। সূত্র মতে বরিশালে ১১টি জুডিসিয়াল আদালত রয়েছে। এগুলো হলো চীফ জুডিসিয়াল, অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল, সিনিয়র জুডিসিয়াল ১, ২, ৩, ৪ ও জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্র্টে ১, ২, ৩, ৪, ৫ আদালত। এই ১১টি আদালতের জন্য এজলাস রয়েছে মাত্র ৪টি। যার মধ্যে ১টি এজলাস চীফ জুডিসিয়াল আদালতের অন্য একটি এজলাস অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ও সিনিয়র জুডিসিয়াল ১ম বিচার আদালতের। বাকি ২টি এজলাসে চলে ৮টি আদালতের কাজ। যার ফলে বিচারকরা সঠিকভাবে বিচার কার্য সম্পাদক করতে পারছে না। এক আদালতের বিচারকার্য শেষ হতে না হতেই ওই এজলাসেই অন্য আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। আবার অনেক সময় এক আদালতের কাজ শেষ করতে করতে সময় শেষ হয়ে যায়। যার ফলে অপর আদালতের কাজ থেকে যায় অপূর্ণ। আর এ ভাবেই সৃষ্টি হয় মামলার জট। অন্যদিকে দূরদুরান্ত থেকে আদালতের দ্বারে আসা বিচারপ্রার্থীদের অপেক্ষা করতে করতে হতাশ হয়ে ফিরতে হয় বাড়িতে। এ রকমই গত কিছুদিনে হতাশ হওয়া বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে জানাগেছে, কেউ কেউ মেহেন্দিগঞ্জ, উজিরপুর, বাকেরগঞ্জ, আগৈলঝাড়া থেকে মামলার সাক্ষ, হাজিরা আবার কেউ জামিন সহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক কাজের জন্য আসেন। কিš‘ সঠিক সময়ে সংশ্লিষ্ট আদালতের এজলাস শুরু না হওয়ায় তাদের কাজ অপূর্ণ রয়ে যায়। ভোগান্তিতে পড়তে হয় তাদের প্রতিদিন সবকাজ রেখে দূর থেকে আসাও সম্ভব হয় না। অপরদিকে ওই আদালতগুলোতে বিচারক ছাড়াই কর্মকর্তা কর্মচারী রয়েছে প্রায় ১১৫ জন। তারাও কক্ষের অভাবে কাজ করতে পারছে না। এছাড়াও ওই আদালতগুলোতে প্রায় ৯ হাজার ২শ’র অধিক মামলা রয়েছে। এর মধ্যে প্রতিদিনই গড়ে আরও নতুন ৫০টি মামলা যোগ হচ্ছে। এজলাস কম থাকার কারনে মামলাগুলো দ্রুত নিস্পত্তি সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ কারনেই হয়রানী ও ভোগান্তির স্বীকার সহ অতিরিক্ত অর্থও ব্যয় হ”েছ বিচার প্রার্থীদের। এ সম্পর্কে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক মোঃ একেএম ফজলুর হক জানান, তিনি নিজেও আইন মন্ত্রনালয়ে এই নিয়ে কথা বলেছেন। জর্জ কোটের ৪ তলা বর্ধিত ভবনটিকে ৬ তলা বিশিষ্ট করার জন্য তিনি আইন মন্ত্রনালয়ে আবেদন জানিয়েছেন। ওই ভবনটিতে ফাটলের বিষয়ে তিনি বলেন, ভবনটি ৬ তলা ফাউন্ডেশনে তৈরী করা। যে ফাটল আছে ওইগুলো ইটের কারনে কিন্তু ভবনের পিলারগুলো ঠিক আছে। যার ফলে ভবনটি বর্ধিত করলে কোন সমস্যা হবে না। উপরন্তু এজলাসের যে সংকট রয়েছে এগুলো সমাধান করা সম্ভব হবে। এ সময় গত ১২মার্চ দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে পুড়ে যাওয়া জুডিসিয়াল টিনসেড ভবনটির প্রসঙ্গের কথায় তিনি আরও বলেন, আইন মন্ত্রনালয় থেকে বরাদ্দ না পাওয়ার কারনে আদালতটি পুনঃনির্মান কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। গণপূর্ত দপ্তরের আওতাধীন থাকলেও মন্ত্রনালয়ের বাজেটের অভাবে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। যে ঠিকাদারকেই কাজ দেয়া হোক না কেন তারা অর্থের কারনে কাজ করতে পারছে না। বাজেট প্রণয়ন করা হলেই গণপূর্ত দপ্তর কাজ শুরু করবে। বিচারক একেএম ফজলুল হক আরও জানান, তিনি এ বিষয়ে একাধিকবার আইন মন্ত্রনালয় ও অর্থ মন্ত্রনালয়ে এ কথা জানিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত মন্ত্রনালয় থেকে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। যার ফলে কোন ব্যব¯’া গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। শুধুমাত্র টিনের ছাউনি দিয়ে রাখা হয়েছে ওই পুড়ে যাওয়া ভবনটি। আর আগের মতই রয়ে গেছে পুড়ে যাওয়া ৫টি কক্ষ।