এক বছরে জলবদ্ধতা দূর করে মেয়র কামাল আধুনিক নগরী গড়ার প্রত্যয়ে

রুবেল খান॥ দেখতে দেখতে পার হলো সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল সহ বর্তমান সিটি পরিষদের একটি বছর। আগামী ৮ অক্টোবর পার হলেই দ্বিতীয় বছরে পদার্পন করবে সিটির তৃতীয় পরিষদের নির্বাচিত মেয়র এবং কাউন্সিলরা।
এদিকে গত এক বছরের হিসাব-নিকাশে নগরী এবং নগরবাসীর উন্নয়নে সাফল্যের ঝুড়িতে যোগ হয়েছে অনেক উন্নয়ন কর্মকান্ড। নির্বাচিত মেয়র আহসান হাবিব কামাল ও কাউন্সিলরা দায়িত্ব গ্রহনের পর নিজেদের নির্বাচনি ইস্তেহারের পাশপাশি আধুনীক এবং শিশু বান্ধব পরিচ্ছন্ন নগরী বাস্তাবায়নে বেশ অবদান রেখেছেন তারা।
জানাগেছে, ২০১৩ সালের ৮ই অক্টোবর বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এর তৃতীয় পরিষদ গঠনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল আওয়ামীলীগ সমর্থিত সম্মিলিত নাগরীক কমিটির মেয়র প্রার্থী ও তৎকালীন মেয়র প্রয়াত এমপি শওকত হোসেন হিরনকে পরাজিত করে বিপুল ভোটে মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি সমর্থীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আহসান হাবিব কামাল। এর পাশাপাশি সংরক্ষিত এবং সাধারন কাউন্সিলর পদে আ’লীগের ভরাডুবি ঘটিয়ে বিএনপি সমর্থীত অধিকাংশ প্রার্থী নির্বাচিত হন।
এদিকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার একশ দিন পরে প্রায় তিনশ কোটি টাকা দেনার বোঝা মাথায় নিয়ে মেয়রের দায়িত্ব বুঝে নেন আহসান হাবিব কামাল। পরে গঠন করা হয় তৃতীয় সিটি পরিষদ। এছাড়া দায়িত্ব গ্রহনের পরে নির্বাচনের মাধ্যমে আলহাজ্ব কেএম শহীদুল্লাহ, মোশারেফ আলী খান বাদশা এবং শরিফ তাসলিমা কামাল পলি প্যানেল মেয়র নির্বাচিত হন।
উন্নয়নের ধারা অব্যাহত ও শিশু বান্ধব আধুনীক নগরী গড়ার প্রত্যয় নিয়ে দায়িত্ব গ্রহন করা মেয়র কাউন্সিলরা সম্মিলিত ভাবেই দায়িত্ব গ্রাহন করে আসছেন। বর্ধিত এলাকা সহ নগরীতে করেছেন নানা উন্নয়ন। গ্রহন করেছেন বিশেষ কিছু প্রকল্প। যার মধ্যে চলমান রয়েছে আরো বেশ কিছু উন্নয়ন প্রকল্প।
গত এক বছরের সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যানে দেখাগেছে, সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামালের উল্লেখযোগ্য উন্নয়নের মধ্যে রয়েছে নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পাশে আধুনীক বঙ্গবন্ধু অডিটরিয়ামের নির্মান কাজ। ৫শ আসন বিশিষ্ট ৫তলা ভবন নির্মানের পাইলিং এর কাজ শেষ হয়েছে। অডিটরিয়ামে থাকছে আধুনীক লিফ্ট এর পাশাপাশি বিভিন্ন আধুনীক ব্যবস্থা। আগামী ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে অডিটরিয়ামের উদ্বোধন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা। এছাড়া নগরীতে করা হচ্ছে আধুনীক মার্কেট। যেখানে একজন মানুষের দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় সকল মালামাল পাওয়া যাবে। এসব উন্নয়নের বাইরেও মেয়র আহসান হাবিব কামালের উদ্ভাবনী চিন্তায় জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পায় নগরবাসী। এই নগরবাসীর প্রধান সমস্যা হিসেবে এক সময় বিবেচিত হয় বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা। সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে যেতো নগরীর প্রতিটি রাস্তা। সেই দুর্ভোগ এখন আর পোহাতে দেখা যাচ্ছে না নগরবাসীকে। মেয়র আহসান হাবিব কামাল নিজ উদ্যোগে ড্রেনেজ ও পানি নিস্কাশন পদ্ধতির মাধ্যমে নগরবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দিতে পেরেছেন বলে দাবী ভুক্তোভোগি নগরবাসীদের।
এদিকে আধুনীক ও শিশু বান্ধব পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে করা হয়েছে ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং ডাস্টবিন নির্মান। নগরীর আভ্যন্তরিন রাস্তা নির্মান ও সংস্কারের পাশাপাশি শেষ পর্যায় চলে এসেছে কাশিপুর থেকে আমতলার মোড় পর্যন্ত ফোর লেনের রাস্তা নির্মান কাজ। ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট আমানতগঞ্জের কাজ শেষ হলেও চলছে রূপাতলীর ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের কাজ। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মার্কেট নির্মান ছাড়াও বর্ধিত এলাকায়ও করেছেন নানা উন্নয়ন কাজ। রাস্তায় মার্কিং ও রাতের নগরী আলোকিত করতে করা হয়েছে উন্নতমানের সডিয়াম লাইটের ব্যবস্থা।
এসব কর্মকান্ডের মধ্যে অধিকাংশের কাজ শেষ এবং বেশ কিছু কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়াও গ্রহন করা হয়েছে বেশ কিছু উন্নয়নমুখি প্রকল্প। যার মধ্যে রয়েছে নগরীতে তিনটি প্রবেশ দ্বারে সিটি গেট নির্মান ও বিবির পুকুর সহ আরো কিছু উন্নয়ন কাজ। গ্রহিত প্রকল্পগুলোর অনুমোদন মিললে আগামী ৪ বছরের মধ্যে এ নগরীকে আরো আধুনীক রূপ দেয়া সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সিটি মেয়র আহসান হাবিব কামাল এবং কাউন্সিলরা।