এক পদ নীতিতে যোগ্য নেতার সংকটে দক্ষিণের বিএনপি

রুবেল খান ॥ বরিশাল বিএনপি’র সাংগঠনিক ৮ জেলায় নতুন করে কমিটি গঠন জরুরী হয়ে পড়েছে। কিন্তু যোগ্য নেতৃত্ব এবং অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতার অভাবে বিএনপি’র দুর্গখ্যাত এই অঞ্চলে কমিটি গঠন কার্যক্রম মুখ থুবড়ে পড়েছে। এমনকি যোগ্য নেতার অভাবে এক নেতার এক পদ নীতি বাস্তবায়নে বাধাগ্রস্থ হচ্ছেন তৃনমুল থেকে ঢাকার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া নেতারা। অবশ্য বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমর শহ বেশ কয়েকজন ইতিমধ্যেই তৃনমুল পর্যায়ের পদ থেকে পদত্যাগ পত্র জমা দিয়েছেন। কিন্তু দলকে ধরে রাখার মত যোগ্য নেতার অভাবে এখনো তৃনমুলের পদ আগলে রেখেছেন বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার সহ অন্যান্য নেতারা। সব মিলিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে বিএনপি’র স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে দেখা দিয়েছে টানাপোড়েন। সূত্রমতে, এক সময়ে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র দুর্গ এবং ভোট ব্যাংক খ্যাত বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চল। ৬ জেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল বিভাগকে ৮টি সাংগঠনিক জেলা হিসেবে বিভক্ত করা হয়েছে। যার মধ্যে একটি সিটি কর্পোরেশন অর্থাৎ মহানগর শাখা। প্রত্যেকটি ইউনিটেই পৃথক পৃথক কমিটি দিয়ে আসছে কেন্দ্র থেকে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণাঞ্চলে এক সময়ে বিএনপি’র বাঘা বাঘা নেতা ছিলেন। তাদের যোগ্যতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারনেই বরিশাল বিভাগ এক সময়ে বিএনপি’র ঘাটিতে পরিনত হয়। তাছাড়া এই অঞ্চলে অন্যান্য দলের তুলনায় বিএনপি’র সমর্থক গোষ্ঠিও রয়েছে বেশি। এদিকে বর্তমান প্রেক্ষাপটে দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে বিএনপি’র রাজনীতির হাল ধরার মতো যোগ্য এবং দক্ষতা সম্পন্ন নেতা তৈরী হচ্ছে না। যারা আছেন তারা নেতাদের সঙ্গে লেজুরবৃত্তি করে নিজেদের আখের গোছানোর প্রতিযোগিতায় মেতেছেন। যে কারনে দলের হাল ধরে ভবিষ্যত রাজনীতি সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার মতো করে তৈরী হতে পারেননি কেউ। তাই ঢাকার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমর, সেলিমা রহমান, মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহম্মেদ, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, জয়নাল আবেদীন, এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এবং এ্যাডভোকেট বিলকিছ আক্তার জাহান শিরিনের মত নেতা-নেত্রীরা বরিশালের রাজনীতি থেকে সরে দাড়ালে এখানকার দলের পরবর্তী পরিস্থিতি কি হবে তাই নিয়ে ভাবছেন নেতা-কর্মীরা।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বরিশালে সাংগঠনিক ৮ জেলায় বিএনপি’র পৃথক কমিটি থাকলেও বেশির ভাগ কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। আবার যে কমিটির মেয়াদ রয়েছে সেই সব কমিটির বেশ কিছু নেতা ঢাকার রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন। মারাও গেছেন বেশ কয়েক জন। যে কারনে প্রত্যেকটি ইউনিটেই প্রয়োজন নতুন কমিটি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালে বরিশাল মহানগর বিএনপি’র দুই সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন হয়। এতে সভাপতি হন এ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন এ্যাড. কামরুল আহসান শাহীন। কিন্তু ২০১৩ সালে এই কমিটির অনুমোদন হওয়ার পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষনা করা হয় কেন্দ্র থেকে। মহানগর কমিটি পূর্ণতা পাওয়ার পর পরই মৃত্যু হয় সাধারন সম্পাদক এ্যাড. কামরুল আহসান শাহিন এর। ফলে বর্তমানে এই শাখার কার্যক্রম চলছে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক দিয়ে। তাছাড়া সম্প্রতি বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব মনোনিত হন মহানগর শাখার সভাপতি এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার। যে কারনে এক নেতার এক পদ নীতি বাস্তবায়ন করতে হলে তাকে ছাড়তে হবে মহানগর বিএনপি’র সভাপতির পদ। অন্যথায় হারাবেন কেন্দ্রের যুগ্ম মহাসচিবের পদটি।
এদিকে এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার পদ ছাড়লে মহানগর বিএনপিতে নতুন করে কমিটি দিতে হবে। সে জন্য দক্ষ এবং যোগ্যতা সম্পন্ন নেতার প্রয়োজন রয়েছে। যারা দলের হাল ধরতে পারবেন। কিন্তু মহানগর শাখার মত গুরুত্বপূর্ণ কমিটির নেতৃত্বে আসার মত নেতা মহানগরে নেই বললেই চলে। আর তাই যোগ্য নেতৃত্ব খুঁজে না পেয়ে যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার মহানগর শাখার সভাপতির পদ আগলে রেখেছেন।
অবশ্য তার দাবী এক নেতার এক পদের যে নিতে করা হয়েছে তা তার জন্য প্রযোজ্য হবে না। গঠনতন্ত্রের উপ ধারা অনুযায়ী যারা দুই পদে থেকে দুই স্থানেই সঠিক ভাবে নেতৃত্ব ও দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হচ্ছেন তারা দুই পদেই থাকতে পারবেন বলে দাবী এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার। আর সে অনুযায়ী তিনি দুই পদে থাকার যোগ্য বলেও দাবী তার।
তার এমন দাবীর মধ্যেও বর্তমানে মহানগর শাখায় বিএনপি’র নেতৃত্বের পালাবদল ঘটতে চলছে বলে দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে রব উঠেছে। কিন্তু কে পাচ্ছেন সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদক পদ তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত নন কেউ। তবে কথা রটেছে সভাপতি পদে এ্যাড. আলী হায়দার বাবুল এবং সাধারন সম্পাদক পদে মজিবর রহমান সরোয়ার তার ভাইকে বসানোর চেষ্টা করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক সময়ে বিএনপি’র কেন্দ্রিয় কমিটির বরিশাল বিভাগের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার এর সঙ্গে রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুরু করেন একই কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম খান রাজন। এ নিয়ে তখনকার সময়ে বেশ আলোচনা-সমালচনার ঝড় তোলেন তিনি। বিশৃঙ্খলার পাশাপাশি দলের মধ্যে সৃষ্টি হয় বিভাজন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অনুসারী নেতা-কর্মীদের সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করে রাজনীতি থেকে হাত-পা গুটিয়ে আড়ালে চলে যান তিনি। বর্তমান সরকার বিরোধী আন্দোলনে রাজনের কোন ভুমিকা নেই বললেই চলে। দলের দু:সময়ে হামলা-মামলার ভয়ে আন্দোলন সংগ্রাম থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে লন্ডনে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। অবশ্য সবাই জানেন আইন পেশায় উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের জন্য তিনি লন্ডনে অবস্থান করছেন। সেখানে তার সঙ্গে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সু-সম্পর্ক এবং যোগাযোগ রয়েছে বলে তার অনুসারী নেতা-কর্মীরা নিশ্চিত করেছেন। এমনকি সেখানে বসেই তিনি বরিশাল জেলা কিংবা মহানগর শাখায় বিএনপি’র গুরুত্বপূর্ণ পদে আসতে লবিং চালাচ্ছেন বলেও তার ঘনিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ের বেশির ভাগ নেতা-কর্মীরা রাজনকে বরিশাল বিএনপির নেতৃত্বে দেখতে অনীহা প্রকাশ করছেন। তাদের দাবী রাজন নেতৃত্বে বেমানান। সে দলের নেতৃত্বে আসলে দলের মধ্যে ফের বিভাজন সৃষ্টি হবে বলে দাবী সংশ্লিষ্টদের।
বরিশাল জেলা (উত্তর)
এদিকে বরিশাল জেলায় বিএনপি’র সাংগঠনিক দুটি ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে একটি জেলা উত্তর এবং অপরটি দক্ষিণ। এর মধ্যে ২০০৯ সালে গঠন হওয়া উত্তর জেলায় সাবেক এমপি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদকে সভাপতি এবং এ্যাড. আকন কুদ্দুসুর রহমানকে সাধারন সম্পাদক করা হয়। এর মধ্যে আকন কুদ্দুসুর রহমান কেন্দ্রিয় কমিটি’র বরিশাল বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পদ পেয়েছেন। যে কারনে তিনি উত্তর জেলার সাধারন সম্পাদকের পদ ছেড়ে দেয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাছাড়া সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ নির্বাহী সদস্য হয়েছেন। যে কারনে তাকেও ছাড়তে হতে পারে যে কোন একটি পদ। তাছাড়া উত্তর জেলা কমিটির মেয়াদ উত্তির্ণ হয়েছে বহু আগেই। কিন্তু তাদের অধীনস্ত ইউনিট গুলোতে আদৌ কমিটি দিতে পারেনি বর্তমান কমিটি। যে কারনে এই কমিটির নেতৃবৃন্দকে অযোগ্য নেতৃত্ব বলেও আখ্যায়িত করেছেন তৃনমুলের নেতা-কর্মীরা।
বরিশাল জেলা (দক্ষিণ)
অপরদিকে বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) এর কামাল-শিরিনকে বাদ দিয়ে করা কমিটিতে সভাপতি হয়েছিলেন এবায়দুল হক চান এবং সাধারন সম্পাদক করা হয় এ্যাড. আবুল কালাম শাহিনকে। ২০১৩ সালে গঠন হওয়া এই কমিটি এখনো বহাল রয়েছে। শুধু মাঝ পথে কমিটি পূর্ণতা পেয়েছে। এর বাইরে দলীয় কার্যক্রম চললেও সভাপতি এবং সাধারন সম্পাদকের গ্রুপিং এর কারনে সৃষ্টি হচ্ছে হ-য-ব-র-ল পরিস্থিতি।
দলের নেতা-কর্মীরা বলেন, এবায়দুল হক চান ভদ্র স্বভাবের। তিনি রাজনীতির মারপ্যাচ কম বোঝেন। ব্যক্তি হিসেবে ভালো হলেও তিনি রাজনীতিতে অনেক সময় স্বিদ্ধান্ত নিতে ভুল করেন। একারণে অনেক সময় নেতাকর্মীরা তার প্রতি ক্ষুদ্ধ হন। বিশেষ করে অনেক সময়ই তিনি রাজনীতিতে প্রতিপক্ষকে ছাড় দিয়ে থাকেন এবং অনেক ঘটনা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে থাকেন। যার কারণে পরবর্তীতে নেতাকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।
এছাড়া কমিটির সাধারন সম্পাদক এ্যাড. আবুল কালাম শাহিনও রাজনৈতিক মেধাশূন্য। অন্যের কাধে ভর করা এবং অন্যের লেজুরবৃত্তি করেই রাজনীতিতে টিকে আছেন তিনি। নামে সাধারন সম্পাদক থাকলেও গ্রুপিং করছেন অন্যের ইশারায়। অবশ্য রাজনৈতিকভাবে অদক্ষ হলেও অর্থনৈতিক লালসা তার অনেক পুরানো। সম্প্রতি তিনি বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপি’র কমিটি গঠন নিয়ে তোপের মুখে পড়েন। কারন স্বর্ণের কোর্ট পিন ঘুষ নিয়ে ঐ কমিটি ঘোষনা দেন। তোপের মুখে পরবর্তীতে কোর্ট পিন ফেরত দিতে হয় তাকে। বানারীপাড়া থানা কমিটি গঠন নিয়েও তোপের মুখে পড়েন জেলার (দক্ষিণ) বিএনপি’র সভাপতি এবায়দুল হক চান ও সাধারন সম্পাদক এ্যাড. আবুল কালাম শাহীন। তাছাড়া কেন্দ্রিয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য মনোনিত হওয়ায় এই কমিটির সহ-সভাপতির পদ থেকে ইতিমধ্যেই পদত্যাগের ঘোষনা দিয়েছেন সরদার সরফুদ্দিন আহম্মেদ সান্টু।
ঝালকাঠি জেলা
এদিকে ঝালকাঠি জেলা বিএনপি’র কমিটি হয়েছে ২০১৪ সালে। ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমরকে সভাপতি এবং নূপুরকে সাধারণ সম্পাদক করে এই কমিটি গঠন করা হয়েছিলো। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই কমিটিতে সাধারন সম্পাদক থাকলেও নেই সভাপতি। কারন সম্প্রতি কেন্দ্রিয় কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হওয়ার পর ঝালকাঠি জেলা বিএনপি’র সভাপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন তিনি। বর্তমানে ঐ পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তফা মন্টু।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমর দীর্ঘ বছর ধরেই ঝালকাঠি বিএনপি নিয়ন্ত্রন করে আসছিলেন। কিন্তু স্থানীয় ভাবে বিএনপি’র বিশাল একটি অংশ তার বিরোধীতা করে আসছেন। বিশেষ করে ছাত্রদলের একটি অংশের সঙ্গে তার বিরোধ দীর্ঘ দিনের। যা আদৌ তিনি মিটিয়ে নিতে পারেননি তিনি।
পিরোজপুর জেলা
পিরোজপুর জেলা বিএনপি’র কমিটি গঠন হয় ২০১১ সালে। এই কমিটিতে গাজী নূরুজ্জামান বাবুল সভাপতি এবং অধ্যাপক আলমগীর হোসেন সাধারন সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অথচ তাদের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগে। নেতৃত্বের দীর্ঘ সময়েও তারা পিরোজপুরে বিএনপিতে ঐক্যের সৃষ্টি করতে পারেননি। পারেননি নেতা-কর্মীদের এক প্লাটফর্মে নিয়ে আসতে। উপজেলা ও থানা পর্যায়ে গঠন করে দিতে পারেননি নতুন কমিটি। তবে পিরোজপুর জেলা বিএনপি’র নেতাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের লেজুরবৃত্তি করনের অভিযোগ করেছেন তৃনমূলের নেতা-কর্মীরা।
ভোলা জেলা
ভোলা জেলা বিএনপি’র কমিটি খুবই জরুরী বলে মনে করছেন স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা। ২০০৯ সালে গঠন হওয়া এই কমিটিতে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন গোলাম নবী আলমগী এবং সাধারন সম্পাদক ছিলেন ফারুক হোসেন। মাস দুই-এক পূর্বে ফারুক হোসেন এর মৃত্যুতে শূণ্য হয়ে যায় সাধারন সম্পাদকের পদটি। তাছাড়া সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য পদ পেয়েছেন। যে কারনে তাকেও ছাড়তে হতে পারে যে কোন একটি পদ।
দলীয় নেতা-কর্মীরা জানিয়েছেন, ২০০৯ সালে গঠন হওয়া ভোলা জেলা বিএনপি’র কমিটি সম্পূর্ণ অবৈধ এবং জোর জুলুমের মাধ্যমে করা হয়েছে। জেলা বিএনপি’র কার্যালয়ে বসে করা এই কমিটিতে ঠাই হয়নি দলের বিশাল একটি অংশের। ফলে ঐ কমিটির প্রতি অনাস্থা দেয় বিএনপি’র বৃহত্ত ঐ অংশটি। তাছাড়া কমিটির মেয়াদ ইতিপূর্বে শেষ হলেও ভোলা জেলা বিএনপি’র বর্তমান নেতৃবৃন্দ নতুন কমিটি গঠন করতে পারেননি। এমনকি আয়োজন করতে পারেননি সম্মেলনও। এর পাশাপাশি জেলার উপজেলা ও থানা কমিটি গঠনেও ব্যার্থ হয়েছেন তারা।
বরগুনা জেলা
বরগুনা জেলা বিএনপি’র কার্যক্রম আওয়ামী লীগের যোগ সাজসে চলছে বলে অভিযোগ তুলেছেন দলের নেতা-কর্মীরা। ২০১০ সালে গঠন হওয়া এই জেলার পূর্ণাঙ্গ কমিটির সভাপতি ছিলেন মাহাবুবুল আলম ফারুক এবং সাধারন সম্পাদক করা হয় এসএম নজরুলকে। এই কমিটির মেয়দ উত্তীর্ণ’র পরেও ক্ষমতা ধরে রাখেন জেলার নেতারা। তাছাড়া দলের মধ্যে গ্রুপিং, অভ্যন্তরীন কোন্দল এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে সখ্যতা সহ নানান অভিযোগে ২০১৫ সালে বরগুনা জেলা বিএনপি’র কমিটি স্থগিত ঘোষনা করে কেন্দ্রিয় কমিটি।
কিন্তু পরবর্তীতে কমিটি গঠন কিংবা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহের বিষয়ে অদ্যবদী কোন নির্দেশনা আসেনি। তবে বরগুনা জেলা কমিটি গঠনের লক্ষে ইতিমধ্যে থানা কমিটি থেকে কেন্দ্রের কাছে বহুবার আবেদন জানানো হলেও আদৌ এ বিষয়ে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি কেন্দ্র থেকে। তাছাড়া এই জেলায় নতুন করে কমিটি গঠনের লক্ষে কেন্দ্রে পাল্টা পাল্টি কমিটি খসরা তালিকা জমা দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন এখানকার নেতৃবৃন্দ।
পটুয়াখালী জেলা
পটুয়াখালী জেলা বিএনপিতে গ্রুপিং দীর্ঘ দিনের। বিশেষ করে গত বিএনপি আমলে সাবেক পৌর মেয়র মোস্তাক আহম্মেদ পিনু’র কাছে কাজের ১০ পার্সেন্ট ভাগ দাবী করায় বর্তমান সভাপতি এয়ারভাইস মার্শাল (অব) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সংঙ্গে গ্রুপিং শুরু হয়। যা অদ্যবদী অব্যাহত রয়েছে।
পটুয়াখালী বিএনপি’র একাধিক সূত্র জানায়, তৎকালিন বিএনপি’র আমলে সাবেক পৌর মেয়র মোস্তাক আহম্মেদ পিনুকে সভাপতি ও ¯েœহাংশু সরকার কুট্টিকে সাধারন সম্পাদক করে জেলা বিএনপি’র কমিটি গঠন করা হয়। তবে আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সঙ্গে বিরোধের কারনে সেই কমিটি ভেঙ্গে দেয়া হয়। তখন কো-অপ্ট পদ্ধতিতে সাবেক মন্ত্রী আলতাফ হোসেন চৌধুরীকে সভাপতি ও এম.এ রবকে সাধারন সম্পাদক এবং আব্দুর রহমানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। তবে এই কমিটি এবং নেতৃবৃন্দের প্রতি ক্ষোভের অন্ত নেই নেতা-কর্মীদের।
তারা বলেন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী স্থানীয় পর্যায়ে বিএনপিতে ইনএকটিভ। তিনি জেলার সভাপতি হলেও থাকেন ঢাকায়। সর্বশেষ তিনি কবে পটুয়াখালীতে এসেছেন তা জানা নেই স্বয়ং তার ঘনিষ্ট নেতা-কর্মীদেরও। তার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় দীর্ঘ বছরের গঠন করতে পারেননি উপজেলা এবং থানা কমিটি গুলো। তাছাড়া তিনি নেতা হলেও তাকে স্যার বলে সম্বোধন করতে হয় অন্যান্য নেতা-কর্মীদের। বিএনপি’র গেলো সরকার বিরোধী আন্দোলনে তার কোন ভুমিকাই ছিলো না বললেই চলে। আন্দোলনের সময় তিনি পটুয়াখালীতে ছিলেন না। ফলে নেতৃত্বের অভাবে পটুয়াখালী বিএনপি’র কার্যক্রম ছিমিয়ে আছে।
নেতা-কর্মীরা মন্তব্য করে বলেন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী একজন সাবেক স্বরাষ্টমন্ত্রী এবং বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা। কিন্তু তার মতন লোক বিএনপি’র আন্দোলনের সময়ে ছোট্ট একটি এ্যাম্বুলেন্সে ঢাকা থেকে পালিয়ে পটুয়াখালীতে আসতেন। আবার সে ভাবেই চলে যান। তার পালিয়ে আসা যাওয়ার বিষয়টি জানতেন না নেতা-কর্মীরাও।
এদিকে আলতাফ হোসেন চৌধুরী সম্প্রতি বিএনপি’র কেন্দ্রিয় কমিটিতে সহ-সভাপতি পদ পেয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত এক নেতার এক পদ বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে পারেননি তিনি। অবশ্য পটুয়াখালী তার নির্বাচনী এলাকা বিধায় স্থানীয় রাজনীতি এবং আসন টিকিয়ে রাখতে কেন্দ্রের সহ-সভাপতির পদ ছাড়তে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন পটুয়াখালী জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদক এম.এ রব।
এ প্রসঙ্গে বিএনপি কেন্দ্রিয় কমিটিতে থাকা বরিশাল বিভাগের দায়িত্ব প্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাডভোকেট বিলকিছ আক্তার জাহান শিনির বলেন, বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক ৮ জেলাতেই বিএনপি’র কমিটি প্রয়োজন। কেননা বরিশালের অনেক নেতাই ঢাকার রাজনীতিতে অবতরন করছেন। তাদের মাঝে বেসিরভাগই স্থানীয় পর্যায়ের কমিটিতে নেতৃত্ব স্থানে আছেন। কেন্দ্রের পদ ধরে রাখতে হলে তাদের স্থানীয় পর্যায়ের পদ ছাড়তে হবে।
তিনি আরো বলেন, আমি আমার অবস্থান থেকে বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক ৮ জেলার কমিটির বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে রেখেছি। এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরী করেছি কেন্দ্র এবং চেয়ারপার্সনের নিকট জমা দেয়ার জন্য। খুব শিঘ্রই প্রতিবেদনটি কেন্দ্রে জমা দেয়া হবে। তাছাড়া যারা দুই পদে থাকার চেষ্টা করছেন তাদের বিষয়ে ম্যাডাম নিজেই সিদ্ধান্ত নিবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।