এক নারী প্রতারকের খপ্পরে নগরীর চৌমাথা বাজারের ব্যবসায়ীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ এক নারী প্রতারকের পক্ষ নিয়ে ব্যবসায়ীকে মারধর এবং চাঁদা দাবীর অভিযোগ উঠেছে গোয়েন্দা পুলিশের বিরুদ্ধে। গত ২৩ জুন নগরীর কালুশাহ সড়কের মীরা বাড়ির পুল এলাকার এই ঘটনায় প্রতারনার শিকার চৌমাথা বাজারের মুদি ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন।
তিনি জানান, গত ৬ মাস পূর্বে থেকে কালুশাহ সড়কের মিরা বাড়ি পুল এলাকার ভাড়াটিয়া সীমা ওরফে রেহানা বেগম নামে এক নারী বাকীতে নিত্য-প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয় করে আসছিলো। এতে তার কাছে কিছু টাকা পাওনা হয়। বিভিন্ন সময় পাওনা টাকা চাইলে রেহেনা দেই দিচ্ছি বলে কালক্ষেপন করে।
এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৩ জুন রেহানা বেগম মুদি ব্যবসায়ী আনয়ারকে পাওনা টাকা দেয়ার কথা বলে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বাসায় ডেকে নেয়। তিনি রেহানার বাসায় গিয়ে দেখেন পূর্বে থেকে দুই ব্যক্তি অবস্থান করছে। আনোয়ার সেখানে যাওয়া মাত্র ঐ দুই ব্যক্তি তাকে ঝাপটে ধরে বেধড়ক মারধর করে। এক পর্যায় রেহানার সাথে অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে বলে অপবাদ দিয়ে হাতে হাত কড়া পড়িয়ে গোরাচাঁদ দাস রোডের একটি ঔষধের দোকানে নিয়ে যায় এবং ছাড়া পাওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে। এসময় ঐ দুই ব্যক্তি নিজেদের গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ হিসেবে পরিচয় দেয় বলেও জানান আনোয়ার।
পরবর্তীতে ডিবি পরিচয় দেয়া ঐ দুই ব্যক্তি দেয়া বিকাশ নম্বরে ৫ হাজার টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেয়ার প্রস্তুতি নেয়। তবে বিষয়টি স্থানীয়রা গোয়েন্দা কার্যালয়ে জানালে সহকারী পুলিশ কমিশনার আক্তারুজ্জামান বিষয়টি তদন্তের জন্য উপ-পরিদর্শক চিন্ময় মিত্রকে ঘটনাস্থলে পাঠান। এসময় এসআই চিন্ময় মিত্র ঘটনার সত্যতা পেলেও রহস্যজনক কারনে তাকে ছেড়ে দেয়। এমনকি কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহন না করে আনোয়ারকে বিষয়টি চেপে যেতে নির্দেশ করেন বলেও অভিযাগ করেন এই ব্যবসায়ী।
তবে ডিবির সহকারী কমিশনার মো. আক্তারুজ্জামান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই ঘটনার সাথে ডিবি পুলিশের কোন সদস্য জড়িত নয়। যারা কাজটি করেছে তারা পুলিশের অন্য একটি শাখার সাথে জড়িত। তবে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা সম্পূর্ণ ভুল বোঝাবুঝির মাধ্যমে হয়েছে।
এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, সীমা ওরফে রেহানা বেগম নামে ঐ নারী ইতোপূর্বে এ ধরনের আরো একাধিক ঘটনা ঘটিয়েছে। ডিবি পুলিশ সাজিয়ে সেই সব ব্যক্তিদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে হাজার হাজার টাকা। যার অন্যতম স্বাক্ষি ঐ এলাকার মাসুম স্টোর, বশির স্টোর, মজিদ স্টোর ও মিরাজ স্টোর এর ব্যবসায়ীরা। তারাই প্রতারক নারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানিয়েছেন সবাই।