এই ভোলাতে আছে.. এনার্জি রেগুলেটরী কমিশনের চেয়ারম্যান

ভোলা অফিস॥  বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশনের চেয়ারম্যান এ আর খান বলেছেন, যে কোন উন্নয়নের দুটি শর্ত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ। আল্লাহপাক এ দুটোই ভোলাতে দিয়েছেন। যা স্বপ্নেও ভাবতে পারেনি তা এই ভোলাতে আছে। গ্যাস -বিদ্যুৎ নিয়ে ছোটখাটো যেসব সমস্যা রয়েছে পাওয়ার সেক্টরের মাস্টার প্লান বাস্তবায়ন হলে এসব সমস্যা থাকবে না। গ্রাহকদের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছাতে সরকারের ৪০% ভুতর্কি দিতে হচ্ছে। গতকাল রোববার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলণ কক্ষে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
উপস্থিত ভোলার সুশিল সমাজের প্রতিনিধিদের দাবির প্রেক্ষিতে তিনি আরো জানান, ত্রুটিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন সংস্কার ও জেলা শহরের প্রথম পর্যায়ে বাদপড়া এলাকায় গ্যাস সংযোগের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুতুরে বিদ্যুৎবিল প্রসঙ্গে বলেন, ২০২০ সালের মধ্যে সরকার সবগুলো লাইনে ডিজিটাল মিটার দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। ডিজিটাল মিটার হলে ভুতুরে বিল থাকে না।
ভোলার জেলা প্রশাসক মো. সেলিম রেজার সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদ প্রশাসক আবদুল মমিন টুলু, পুলিশ সুপার মোহাঃ মনিরুজ্জামান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারেফ হোসেন, তজুমদ্দিন উপজেলা চেয়ারম্যান অহিদ উল্যাহ জসিম, প্রবীণ সাংবাদিক আবু তাহের, অধ্যক্ষ এম. ফারুকুর রহমান, বাংলার কন্ঠের সম্পাদক এম. হাবিবুর রহমান, অধ্যক্ষ আফসার উদ্দিন বাবুলসহ বিদ্যুৎ বিভাগ ও সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানীর উর্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ। সভায় ভোলার গ্যাস সংক্রান্ত বিষয়ে পেট্রোবাংলা এবং বিদ্যুৎ পরিস্থিতি বিষয়ে ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পনী লিঃ (ওজোপাডিকো) ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি আলাদা আলাদা তথ্য উপস্থাপন করেন।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার জানান, জেলায় ৭১ হাজার ৮৮৪ জন গ্রাহের জন্য ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। ত্রুটিপূর্ণ বিতরণ লাইনের কারণে পুরোপুরি লোড নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, এ জন্য ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সভায় জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে ভোলা শহরের ২ হাজার ৫০০ গৃহস্থালীর সংযোগ দেওয়া হয়েছে। শহরের এখনো ব্যাপক বিতরণ প্রয়োজন। ২০ কি. মি. নতুন লাইন স্থাপন কাজ মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ কাজ শেষ করতে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা থাকলেও আগামী জুনের মধ্যে শেষ করার কথা জানান তিনি। আর ওজোপাডিকোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চলমান প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এবং বোরহানউদ্দিনে নির্মাণাধীন ২২৫ মেগাওয়া প্লান্টটি উৎপাদনে আসলে বিদ্যুতে ভাসবে পুরো ভোলা জেলা।