উৎসবের আমেজে পার্বত্য শান্তিচুক্তি দিবস উদযাপন

নিজস্ব প্রতিবেদক ॥ বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে দিয়ে নগরীতে উদ্যাপিত হয়েছে ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তিচুক্তি’র ১৯তম বর্ষপূর্তি। দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে সকাল ১০টা হতে বেলা সাড়ে ১২টা পর্যন্ত জন¯্রােতে পরিনত হয় বরিশাল নগরী। বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় শ্লোগান আর নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্রের সুরে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে নগরজুড়ে।
এর পূর্বে পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের ১৯তম বার্ষিকী উদ্যাপন কর্মসূচির আয়োজন করে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ। কর্মসূচির অংশ হিসেবে গতকাল সকাল ১০টায় নগরীর ফজলুল হক এভিনিউ সড়কে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের সামনে ষ্টেজ করে আয়োজন করা হয় সমাবেশ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস-এমপি।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী গোলাম আব্বাস চৌধুরী দুলাল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস-এমপি বলেন, একটি সময় ছিলো যখন অশান্ত পার্বত্য অঞ্চলে মানুষে মানুষের রক্তের হলী খেলা হতো। প্রতিদিন ঝরে যেত বহু প্রান। প্রত্যেকটি মানুষকেই জীবন হাতে নিয়ে বসবাস করতে হতো পার্বত্য অঞ্চলে। কিন্তু এখন আর সেই অবস্থা নেই। পার্বত্য অঞ্চলে এখন শুধু শান্তি। আর তা সম্ভব হয়েছে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর তনয়া বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনা’র প্রচেষ্টায়।
মো. ইউনুস-এমপি এসময় আরো বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী শেখ হাসিনা তৎকালীন সময় ক্ষমায় এসে পাহাড়ীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। তখনকার সময়ে শান্তি ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব পালন করেন জাতীয় সংসদের সাবেক চীফ হুইপ, দক্ষিণ বাংলার রাজনীতির অভিভাবক ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এমপি। সে অনুযায়ী ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর শান্তুলার্মার সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে অশান্ত পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি কায়েম করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ।
তিনি বলেন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনের পরে দেশ অচল করে দেয়ার চেষ্টা করেছিলো বিএনপি-জামায়াত জোট। চলন্ত গাড়িতে পেট্রোল বোমা মেরে জীবন্ত মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছিলো তারা। তারা চেয়েছিলো লাশের সিঁড়ি বেয়ে ক্ষমতার চেয়ারে আসতে। এর মূলে ছিলো সরকারের চলমান উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্থ করা। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার সেই স্বপ্ন এবং প্রচেষ্টা পূরন হয়নি। আর কখন হবেও না। জননেত্রী শেখ হাসিনা সকল ষড়যন্ত্র ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়ে ক্ষুধা ও দারিদ্রমুক্ত ডিজিটাল বাংলাদেশে গড়ার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন।
এদিকে শান্তি সমাবেশকালে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ আনিছুর রহমান, মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী, মশিউর রহমান মিন্টু, অধ্যক্ষ আব্দুর রশিদ খান, মনিরুল আহসান মনির, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু, সাধারন সম্পাদক এ্যাড. এ.কে.এম জাহাঙ্গীর, জাসদ জেলা শাখার সভাপতি এ্যাড. আব্দুল হাই মাহাবুব, বাকেরগঞ্জ পৌর মেয়র লোকমান হোসেন ডাকুয়া, বানারীপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক, মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড. মুনসুর আহম্মেদ, পৌর মেয়র মো. কামাল উদ্দিন, জেলা যুবলীগের সভাপতি অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন, সাধারন সম্পাদক ফজলুল করিম শাহীন, যুবলীগ মহানগর শাখার যুগ্ম আহ্বায়ক সাহিন সিকদার, আ’লীগ নেতা এ্যাড. কাইয়ুম খান কায়সার, জাহিদুর রহমান মনির, নিরব হোসেন টুটুল, যুবলীগ নেতা এ্যাড. রফিকুল ইসলাম খোকন, ‘ল’ কলেজের সাবেক জিএস ও মহানগর যুবলীগের সদস্য এ্যাড. রফিকুল ইসলাম ঝন্টু, হুমায়ুন কবির, দেলোয়ার হোসেন দিলু, এ্যাড. নাসির উদ্দিন বাবুল, শ্রমিক লীগ নেতা পরিমল চন্দ্র দাস, আ’লীগ নেতা মিলন ভুইয়া, তারিক বিন ইসলাম, এ্যাড. সুভাশিষ ঘোষ বাপ্পি, গোলাম সরোয়ার রাজিব, কাশিপুর ইউপি চেয়ারম্যান লিটন মোল্লা, মোয়াজ্জেম হোসেন চুন্নু, মোয়াজ্জেম হোসেন ফিরোজ প্রমূখ।
শান্তি সমাবেশ শেষে নগরীতে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। এর পূর্বে সমাবেশ স্থলে বেলুন এবং ফেস্টুন উড়িয়ে শোভযাত্রার উদ্বোধন করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি এ্যাড. তালুকদার মো. ইউনুস-এমপি। পরবর্তীতে শোভাযাত্রাটি নগর ভবনের সামনে থেকে শুরু হয়ে ফজলুল হক এভিনিউ, সদর রোড, নাজিরের পুল হয়ে লাইন রোড, বাজার রোড ঘুরে চক বাজার হয়ে পুনরায় নগর ভবনের সামনে এসে শেষ হয়।
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ-এমপি এবং সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ’র ছবি সম্বলিত ব্যানার, ফেস্টুন, প্লাকার্ডের পাশাপাশি ডিসপ্লে সহ নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নগরীতে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
এর পূর্বে পার্বত্য শান্তিচুক্তি’র বর্ষপূর্তি উৎসবে অংশ গ্রহণ করতে বরিশাল মহানগরী ছাড়াও জেলার ১০টি উপজেলা থেকে নেতা-কর্মী, সমর্থক এবং অনুসারীরা বাস, ট্রাক এবং নৌ-পথে নগরীতে প্রবেশ করে। নগরীর বান্দ রোড, আমতলার মোড়, লঞ্চ ঘাট এবং হাসপাতাল রোড এলাকায় জড় হয়ে একে একে মিছিল সহকারে তারা ভির জমায় সমাবেশস্থলে। সকাল সাড়ে ১০টা বাজতেই জন¯্রােতে পরিনত সদর রোড, ফজলুল হক এভিনিউ এবং চকবাজার সড়ক। মানুষের চাপ সামাল দিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যবস্থায় কিছু সময়ের জন্য যানবাহন চলাচলের রুট পরিবর্তন করে দেয়া হয়। সর্বপরি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে শেষ হয় পার্বত্য শান্তি চুক্তির বর্ষপূর্তির বর্ণাঢ্য কর্মসূচি।