উলানিয়ায় আ’লীগ নেতাকে গুলি প্রতিবাদে সিনেমা হল ও ইউপি পরিষদ ভাংচুর

মো. কবির, মেহেন্দিগঞ্জ ॥ মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার উলানিয়া ইউনিয়নের আশা গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ী ও গোবিন্দপুর ইউনিয়নের আ’লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলতাফ হোসেন সরদারের উপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালানো হয়েছে। রবিবার রাত আনুমানিক ১০টার সময় উলানিয়া বাজারে তার উপর হামলা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আলতাফ সরদার ডেকোরেটর ব্যবসায়ী খোরশেদের দোকানে বসে স্থানীয় লোকদের সাথে কথা বলতে ছিলো। আকস্মিক কিছু বুঝে ওঠার পূর্বে তার উপর এই আক্রমন চালানো হয়। অজ্ঞাত ৩/৪ জন লোক হঠাৎ তাকে আক্রমন করে। এক পর্যায়ে আলতাফ সরদার একজনকে আটকে ফেলেন। বাচাঁর জন্য তখন সে পকেট থেকে পিস্তল বের করে আলতাফ সরদারের পায়ে পর পর তিনটি গুলি করেন। এর মধ্যে লোকজন জড়ো হলে সবাই বোমা ফাটিয়ে এবং গুলি করতে করতে পালিয়ে যায়। পরে আলতাফ সরদারের লোকজন জামাল মোল্লা গ্রুপকে সন্দেহ করে। তারা মোল্লার মেঘনা সিনেমা হলের বেঞ্চ, কপাট, সামনে জামাল মোল্লার ভাড়া করা অফিস কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ও অফিসের সামনে থাকা একটি মটর সাইকেল ও তার পরিষদে ভাংচুর চালায়। সংবাদ পেয়ে উপজেলা আ’লীগের নেতৃবৃন্দ, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন।
স্থানীয় আ’লীগ নেতা আলতাফ সরদার জানান, আমার সাথে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল ইসলাম জামাল মোল্লার পরিবারের সাথে রাজনৈতিক বিরোধ রয়েছে। বর্তমানে এলাকায় তার কোন অবস্থান না থাকায় এই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তিনি আরো জানান, সামনে ইউপি নির্বাচন। তার একমাত্র বাঁধার প্রধান কারণ হিসাবে ভাড়া করা লোক দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আমাকে গুলি করেছে। পরে স্থানীয়রা তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেছে।
মেহেন্দিগঞ্জ থানার ওসি উজ্জল কুমার দে জানান, আলতাফ সরদারের হামলার সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি গুলির খোসা ও বিষ্ফোরক জাতীয় কিছু অংশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় মামলার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান তিনি।
এর আগেও এই দুই গ্রুপের মধ্যে মাছ ও লঞ্চঘাটের দখল নিয়ে সংঘর্ষ হয়। তারই ধারাবাহিকতায় এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে এলাবাসীর অভিমত। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা বা কেউ গ্রেফতার হয়নি।